Thursday, October 19, 2017


ভালো থাকুন

শিশুদের জন্মগত হৃদ্‌রোগ


শিশুরাও হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হতে পারে। মায়ের গর্ভে থাকাকালীন যদি শিশুর হৃদ্‌যন্ত্রটি বিভিন্ন গঠনগত বা কার্যগত সমস্যা নিয়ে তৈরি হয়, তবে তাকে জন্মগত হৃদ্‌রোগ বলা হয়।
কিন্তু কীভাবে বুঝবেন শিশুর হার্টে কোনো সমস্যা আছে? সব শিশুরই তো জন্মের পর আর হার্টের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয় না।

সাধারণত এ ধরনের শিশুদের যেসব সমস্যা দেখা দিতে পারে:
*  মায়ের দুধ খাওয়ার সময় শিশু হাঁপিয়ে যায়, ক্লান্ত হয়ে যায়, শ্বাসকষ্ট হয়, শরীর অতিরিক্ত ঘেমে যায়
* ঘন ঘন ঠান্ডা-কাশি হয় বা নিউমোনিয়ার কারণে হাসপাতালে ভর্তি হয়
* ঘুম কম হয়, যার কারণে মেজাজ খিটখিটে থাকে
* শিশুর স্বাভাবিক ওজন বাড়ে না
* হৃদ্‌স্পন্দন খুব দ্রুত হয়
* জন্মের সময় ভীষণ রকমের কালচে বা নীলাভাব তার ঠোঁটে বা ত্বকে লক্ষ্য করা যায়
* জন্মের সময় স্বাভাবিক রকমের গায়ের বর্ণ নিয়ে জন্মগ্রহণ করলেও দুই মাস থেকে ছয় মাস বয়সের মধ্যে ধীরে ধীরে শিশুটির ঠোঁট বা চামড়ার রং গাড় নীল হতে থাকে এবং কান্নার সময় একই সঙ্গে শ্বাসকষ্ট হয়
এই উপসর্গগুলো বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দিনে দু-তিনবারও হতে পারে। ওই মুহূর্তে তাকে উপুড় করে শুইয়ে দিলে তার আরাম হয়। বড় বাচ্চারা হাঁটু গেড়ে বসলেও তাদের স্বস্তি আসে।
* একটু বড় বাচ্চাদের ক্ষেত্রে বুকে ধড়ফড় করা, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, বাতজ্বর—এসব বিষয় গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে।
প্রধানত দুইভাবে চিকিৎসা করা হয়: বিনা অপারেশনে ও সার্জারির মাধ্যমে।
সঠিক ওষুধ, ডিভাইস বা বোতাম দিয়ে হৃদ্‌যন্ত্রের ছিদ্র বন্ধ করা, চিকন ভাল্ব বেলুনের মাধ্যমে খুলে দেওয়া, জরুরি ভিত্তিতে হার্টের ওপরের চেম্বার দুটির মধ্যে ছিদ্র তৈরি করা ও সাময়িক বা স্থায়ী পেসমেকার প্রতিস্থাপন।
 এ ছাড়া সঠিক সময়ে সঠিক সার্জারি শিশুকে সুস্থ করে তুলতে পারে সম্পূর্ণভাবে।
শিশুর জন্মগত ত্রুটি যাতে না হয়, সে জন্য প্রত্যেক মা গর্ভবতী হওয়ার তিন মাস আগে এমএমআর টিকা নেবেন। এ ছাড়া মায়ের গর্ভকালীন উচ্চরক্তচাপ বা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি। অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় যেকোনো ওষুধ সেবনের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
কনসালট্যান্ট, পেডিয়াট্রিক কার্ডিওলজি, অ্যাপোলো হাসপাতাল, ঢাকা

Monday, February 13, 2017

গ্রিনহাউস ঠেকাতে ‘গাছ ভবন’ বানাচ্ছে চীন


নিজ দেশে দূষণ ঠেকাতে এগিয়ে এসেছে চীন। গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন ঠেকাতেই ওই দেশের দুটো ভবনের মধ্যে রোপণ করা হবে হাজারো গাছ। আগামী বছরে এর নির্মাণকাজ শেষ হবে। এই ভবনের নকশা করেছেন পৃথিবী বিখ্যাত স্থপতি স্টেফানো বোইরি।
চীনের শহরগুলোতে দূষণের কারণে ইতিমধ্যেই বিশ্ব গণমাধ্যমের শিরোনাম হয়েছে। তাই হয়তো তা থেকে রক্ষা পেতে উদ্যোগ নিয়েছে দেশটি।
ডেইলি মেইল ও নিউইয়র্ক পোস্টের খবরে বলা হয়েছে, চীনের পূর্ব উপকূলবর্তী শহর নানজিংয়ে নির্মিত হতে যাচ্ছে দুটি ভবন, যেখানে ভবনের প্রতি ধাপে রোপণ করা হবে সবুজ গাছ। ৩৫০ ফুটেরও বেশি উচ্চতার একটি ভবনে থাকবে ১১ হাজার সবুজ গাছ। আর এতে করে সেখানে বসবাসকারী মানুষের প্রয়োজনীয় অক্সিজেন চাহিদা মিটবে বলে আশা করছে দেশটি।
ওই দুটি ভবনের নকশায় দেখা গেছে, ভবনের বাইরেটা থাকবে গাছপালাবেষ্টিত। ভবনে শপিং কমপ্লেক্স, সুইমিং পুল, জিম, হোটেল, রেস্তোরাঁ, কনফারেন্স হল, প্রদর্শনীর জন্য ফাঁকা জায়গা, বিনোদনমূলক স্থাপনার পাশাপাশি থাকবে বাচ্চাদের স্কুলও। এই কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তারা জানান, ইতিমধ্যে ভবনগুলোর নকশা প্রণয়ন করা হয়েছে। ২০১৮ সালের মধ্যে এগুলো তৈরি হয়ে যাবে বলে আশা করছে দেশটি। এগুলোর পর দেশটির আরও কয়েকটি শহরে এমন ভবন বানানো হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির কর্মকর্তারা।
‘নানজিং গ্রিন টাওয়ার’ নামের ওই ভবনগুলোর নকশা করেছেন বিখ্যাত স্থপতি স্টেফানো বোইরি। তিনি বলেন, ভবন দুটো হবে পুরোপুরি সবুজ।
নানজিং গ্রিন টাওয়ারের দুটোর মধ্যে একটি ভবনের উচ্চতা ৬০০ ফিট। অপর, অর্থাৎ দ্বিতীয়টির উচ্চতা ৩৫৫ ফিট। ভবনের ছাদে থাকবে মিউজিয়াম ও ব্যক্তিগত ক্লাবও।
১ হাজার ১০০ গাছের মধ্যে ৬০০টি বড় লম্বা ধরনের আর ৫০০টি থাকবে মধ্যম আকার গাছ থাকবে। এগুলোর পাশাপাশি থাকবে আড়াই হাজার ছোট গাছও। এ গাছগুলো থেকে দৈনিক ৬০০ কেজি অক্সিজেন সরবরাহ হবে বলে আশা করছেন উদ্যোক্তা। এ ছাড়া বছরে ২৫ টন কার্বন ডাই–অক্সাইড শোষণ করবে গাছগুলো।
এর আগেও বোইরির পরিকল্পনা ও নকশায় ভবন তৈরি হয়েছে। ইতালির মিলান টাওয়ার বানিয়েছেন তিনি। ওই ভবনে ৯০০ গাছ লাগানো হয়। নানজিং শহরের যে ভবনগুলো হচ্ছে, সেগুলোর গঠনও অনেকটাই তেমন। মিলানের ওই ভবন ২০০৯ সালে নির্মাণ শুরু হয়ে শেষ হয় ২০১৪ সালে। তবে চীনের ভবনগুলোর আবাসিক কাঠামোতে গাছপালার সংখ্যা দ্বিগুণ। সেই সঙ্গে ভবনগুলো মোট উচ্চতাও বেশি। সুইজারল্যান্ডেও এমন ভবন বানানো হয়েছে।

Saturday, February 4, 2017

আড়াই লাখ টাকার বেশি লেনদেন হলেই নিবন্ধন

আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন মূল্য সংযোজন কর (মূসক) আইন বাস্তবায়ন হবে। এই আইন চালু হলে অনলাইনেই ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো রিটার্ন জমা, কর পরিশোধসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজ করতে পারবে। কিন্তু অনলাইনে সব কাজ করতে হলে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে নতুন করে নিবন্ধন নিতে হবে। ভ্যাট অনলাইন প্রকল্পের আওতায় এর প্রস্তুতি চলছে পুরোদমে। আগামী ১৫ মার্চ থেকে অনলাইনে নিবন্ধন শুরু হবে। মূসক নিবন্ধন নিতে সময় পাওয়া যাবে সাড়ে তিন মাস। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
তবে মূসক নিবন্ধন সব ব্যবসায়ীকে নিতে হবে না। বছরে ৩০ লাখ টাকার কম লেনদেন হওয়া ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে এই নিবন্ধন নিতে হবে না। এর মানে হলো, প্রতি মাসে যেসব প্রতিষ্ঠানের গড় লেনদেন আড়াই লাখ টাকার কম, তাদের মূসক নিবন্ধন নিতে হবে না। বর্তমানে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত বার্ষিক টার্নওভার হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো প্যাকেজ মূসক দেয়। নতুন আইনে এসব প্রতিষ্ঠানও মূসক নিবন্ধনের বাইরে থাকবে। তবে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা প্যাকেজ মূসক বহাল রাখার দাবি জানিয়ে আসছেন।
বার্ষিক লেনদেন ৩০ লাখ টাকার বেশি হলেই অনলাইন নিবন্ধনের আওতায় আসবে। ভ্যাট অনলাইন প্রকল্প দুভাবে নিবন্ধন দেবে। বার্ষিক ৩০ লাখ থেকে ৮০ লাখ টাকার লেনদেন হলে যে নিবন্ধন দেওয়া হবে, তা তালিকাভুক্ত বা অ্যানলিস্টমেন্ট হিসেবে দেখানো হবে। লেনদেনের ওপর ৩ শতাংশ হারে টার্নওভার কর দেবে ওই প্রতিষ্ঠান। আর বার্ষিক লেনদেন ৮০ লাখ টাকার বেশি হলে ইলেকট্রনিক ব্যবসায় শনাক্তকরণ নম্বর (ইবিআইএন) নিতে হবে। তাঁদের ওপর ১৫ শতাংশ হারে মূসক আরোপ হবে।
অনলাইনে সেবা নেওয়ার জন্য যে ইবিআইএন দেওয়া হবে¹তা অনেকটা অনলাইন কর শনাক্তকরণ নম্বর বা ই-টিআইএনের মতো। ঘরে বসেই ব্যবসায়ীরা এ নিবন্ধন নিতে পারবেন। বিবরণী দাখিলসহ কর পরিশোধও করতে পারবেন। ইতিমধ্যে যেসব প্রতিষ্ঠানের সনাতনী পদ্ধতিতে বিআইএন নেওয়া আছে, সেসব প্রতিষ্ঠানকেও এখন নতুন করে অনলাইন নিবন্ধন হতে হবে।
ভ্যাট অনলাইন ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে বিআইএন নেওয়া যাবে। বিআইএন নেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নাম, ঠিকানা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের অন্য শাখার ঠিকানা, ব্যাংক হিসাব নম্বর, ব্যবসায়ের ধরন, টার্নওভারের পরিমাণ, ব্যবসা শুরুর তারিখ, বিদ্যমান বিআইএনের তথ্য দিতে হবে। এ ছাড়া ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালকদের তথ্য, তাঁদের জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, নাম, ব্যবসায়ে তাঁদের অংশ ইত্যাদি তথ্যও দিতে হবে। একই ওয়েবসাইট ব্যবহার করে পরে নিয়মিত মূসক রিটার্ন ও কর পরিশোধ করা যাবে।
আবার প্রতিষ্ঠানের মালিকেরা চাইলে নিজ নিজ কমিশনারেট কার্যালয়ে যাবতীয় তথ্য দিয়ে সনাতনী পদ্ধতিতে এ নিবন্ধন নিতে পারবেন। সে ক্ষেত্রে এসব তথ্য ওই কমিশনারেট থেকে ভ্যাট অনলাইন প্রকল্প কার্যালয়ে পাঠানো হবে। তারপর যাচাই-বাছাই শেষে নিবন্ধন দেবে ভ্যাট অনলাইন প্রকল্প।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভ্যাট অনলাইন প্রকল্পের উপপ্রকল্প পরিচালক জাকির হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ঘরে বসেই সব করতে পারবেন। তাঁদের মূসক কার্যালয়ে আসতে হবে না। হয়রানিও হতে হবে না। কর জমার পদ্ধতি সহজ হলে ব্যবসায়ীরা বেশি কর দিতে উৎসাহী হবেন।
এ পর্যন্ত সনাতনী পদ্ধতিতে ৭ লাখ ৮৪ হাজার প্রতিষ্ঠান বিআইএন নিয়েছে। তবে সব প্রতিষ্ঠান রিটার্ন জমা দেয় না। বছরে গড়ে ৫৭ হাজারের মতো প্রতিষ্ঠান রিটার্ন জমা দেয়। ২০২০ সালের মধ্যে ৩ লাখ প্রতিষ্ঠানকে ইবিআইএনের আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন মূসক আইন বাস্তবায়ন শুরু হলে প্যাকেজ মূসক উঠে যাবে। চলতি অর্থবছরের জন্য এলাকাভেদে প্যাকেজ মূসক রয়েছে। প্যাকেজ মূসক হলে বিক্রি যা-ই হোক না কেন, বছর শেষে নির্ধারিত পরিমাণ মূসক হলেই হয়। কোনো হিসাব রাখার বালাই নেই। প্যাকেজ মূসকব্যবস্থা উঠে গেলে নতুন আইন অনুযায়ী রেয়াতি সুবিধা নিতে সারা বছর হিসাব রেখে প্রমাণ দিতে হবে।
বিদ্যমান ব্যবস্থায় কোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ব্যবসা গুটিয়ে নিলে বিআইএন বাতিল করার সুযোগ ছিল না। নতুন ব্যবস্থায় বিআইএন বাতিল বা স্থগিত করার সুযোগ রাখা হয়েছে।

Monday, August 3, 2015

নীতিমালার খসড়া: সংবাদপত্র-টিভির ইন্টারনেট সংস্করণেরও নিবন্ধন লাগবে


‘জাতীয় অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা- ২০১৫’র এই খসড়ার উপর আগামী ১২ অগাস্ট পর্যন্ত সবার মতামত নেবে তথ্য মন্ত্রণালয়।
শীর্ষ গণমাধ্যমগুলোর সম্পাদকদের নিয়ে আলোচনা করে এই নীতিমালার চূড়ান্ত খসড়া করা হবে বলে জানিয়েছেন তথ্যসচিব মরতুজা আহমদ।
তিনি সোমবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা অনলাইনগুলোকে শৃঙ্খলার মধ্যে এনে আরও গতিশীল করতে চাই। অনলাইন সংবাদপত্রের সঙ্গে সংবাদপত্র, টেলিভিশন এবং রেডিওগুলোর অনলাইনও নিবন্ধনের আওতায় আসবে।”
তথ্য প্রযুক্তির প্রসারে ভুরি ভুরি অনলাইন সংবাদপত্র গড়ে উঠলেও তাদের তদারকির কোনো ব্যবস্থা এখনও হয়নি। এসব সংবাদপত্রের অধিকাংশই নামমাত্র বলে অভিযোগ রয়েছে।  
তথ্যসচিব বলেন, বিদ্যমান অনলাইন গণমাধ্যমের মধ্যে কোনগুলো নিবন্ধন পাবে, তা বিধিমালার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
নীতিমালার খসড়ায় বলা হয়েছে, “দেশে অনলাইন গণমাধ্যমের সংখ্যা বেড়েই চলছে।
“বিদ্যমান অবস্থায় এসব গণমাধ্যম কোনো স্বীকৃতি বা সুযোগ-সুবিধা পায় না। অন্যদিকে গণমাধ্যমের জাতীয় মান রক্ষা করাও সম্ভব হচ্ছে না।”
জনগণের মৌলিক অধিকার ও ব্যক্তি স্বাধীনতা সমুন্নত রেখে গণমাধ্যমগুলোর স্বাধীনতা ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করাই নীতিমালা প্রণয়নের উদ্দেশ্য বলে খসড়ায় বলা হয়েছে।
নীতিমালা অনুযায়ী, সব অনলাইন গণমাধ্যমের সম্পাদকসহ সাংবাদিকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, আর্থিক সঙ্গতি, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে বিধিবিধান মেনে চলতে হবে।
“কাগজ বা সম্প্রচারের জন্য নিবন্ধিত, ডিক্লারেশন বা লাইসেন্সপ্রাপ্ত গণমাধ্যমকে অনলাইন প্রচার, প্রকাশ বা সম্প্রচারের জন্য নিবন্ধিত হতে হবে।”
এসব অনলাইন গণমাধ্যমের নিবন্ধন দেওয়ার ক্ষেত্রে সরকার স্বতন্ত্র আইন বা বিধিমালা প্রণয়ন করবে উল্লেখ করে খসড়ায় বলা হয়েছে, এতে নিবন্ধন পদ্ধতি, যোগ্যতা-অযোগ্যতা ও বাতিলের বিধান রাখা হবে।
“তবে এই আইন বা বিধিমালা প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত তথ্য মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে। শিগগিরই এই দায়িত্ব কমিশনের উপর ন্যস্ত করবে।”
নীতিমালা প্রণয়নের পর নিবন্ধিত অনলাইন গণমাধ্যমগুলো শর্ত সাপেক্ষে ‘ন্যায় ও সমতার ভিত্তিতে’ সরকারি সহায়তা পাবে বলেও খসড়ায় বলা হয়েছে।
খসড়া অনুযায়ী, অনলাইনের কোনো তথ্য-উপাত্তে কোনো নাগরিক বা প্রতিষ্ঠান সংক্ষুব্ধ হলে তিনি বা ওই প্রতিষ্ঠান তথ্য-উপাত্ত প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কমিশনে অভিযোগ দিতে পারবেন।
কমিশন সরেজমিনে অভিযোগ তদন্ত করে উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ৬০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করে সরকারের কাছে প্রয়োজনীয় সুপারিশ করবে।
কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন-বিধি মোতাবেক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও নীতিমালার খসড়ায় উল্লেখ রয়েছে।
খসড়া নীতিমালার আটটি অধ্যায়ে পটভূমি, নিবন্ধন, তথ্য-উপাত্ত প্রচার, প্রকাশ ও সম্প্রচার, বিজ্ঞাপন, তথ্য-উপাত্ত প্রকাশ বা সম্প্রচারের অনুপযুক্ততা, কমিশনসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়া হয়েছে।

Saturday, July 25, 2015

সবজি ও ফল রপ্তানিতে বিপর্যয়

আপডেট:

বাংলাদেশের সবজি ও ফল রপ্তানিতে দুঃসংবাদ যেন পিছু ছাড়ছেই না। সর্বশেষ খবর হলো, পণ্য দুটির রপ্তানি মারাত্মকভাবে কমে গেছে।
বছরের বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশের কয়েকটি সবজি রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা এসেছে। আবার কিছু সবজি ও ফলের রপ্তানি সরকার নিজেই বন্ধ করে রেখেছে। এসবের কারণেই কমেছে সবজি ও ফলের রপ্তানি।
বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) বলছে, সদ্য সমাপ্ত ২০১৪-১৫ অর্থবছরে দেশ থেকে ১০ কোটি ৩২ লাখ ডলারের সবজি রপ্তানি হয়েছে। এই রপ্তানিতে লক্ষ্যমাত্রা তো পূরণ হয়ইনি, উল্টো আগের বছরের চেয়ে কমেছে ৩০ শতাংশ। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে রপ্তানি হয়েছিল ১৪ কোটি ৭৫ লাখ ডলারের সবজি।
একইভাবে সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে ফল রপ্তানি হয়েছে ৩ কোটি ৮৪ লাখ ডলারের। এ ক্ষেত্রে আগের বছরের চেয়ে রপ্তানি কমেছে ৩৮ শতাংশ। ওই বছর ৬ কোটি ১৮ লাখ ডলারের ফল রপ্তানি হয়েছিল।
এসব বিষয়ে ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান সুভাশীষ বসু প্রথম আলোকে বলেন, ইউরোপে ফাইটোস্যানিটারি সনদ (পিসি বা স্বাস্থ্য সনদ) ছাড়াই সবজি ও ফলের অনেক চালান গেছে। সেসব পণ্য ফেরতও এসেছে। বারবার একই ঘটনা ঘটায় কিছু পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এসব কারণে কৃষি মন্ত্রণালয় সবজি ও ফল রপ্তানিতে কড়াকড়ি আরোপ করেছে। মন্ত্রণালয় বলে দিয়েছে যে নিবন্ধিত রপ্তানিকারক ছাড়া কেউ সবজি ও ফল রপ্তানি করতে পারবে না। অনেকেই এখনো নিবন্ধন করেননি। এসব কারণে রপ্তানি কমেছে।
বাংলাদেশ থেকে গত অর্থবছরের ১০ মাসে ৭০ হাজার টন আলু রপ্তানি হয়। এর মধ্যে রাশিয়ায় গেছে ১৪ হাজার টন। কিন্তু এরপরই ৬ মে বাংলাদেশি আলু আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে রাশিয়া। সম্ভাবনাময় বাজারটি বন্ধ হয়ে যায়। এর ওপর থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম এবং ফিলিপাইনও কিছুদিন ধরে বাংলাদেশের আলু আমদানি করছে না বলে রপ্তানিকারকদের সূত্রে জানা গেছে।
বাংলাদেশি সবজি ও ফলে কয়েক দফায় ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ও পোকা পাওয়ায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এসব পণ্যে নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দেয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) গত ২৭ এপ্রিল দেশ থেকে ইইউভুক্ত দেশগুলোতে তিন ধরনের সবজি ও ফল রপ্তানি নিষিদ্ধ করে। এগুলো হলো অ্যামারেনথাস প্রজাতি (লালশাক ও ডাঁটাশাক), সাইট্রাস প্রজাতি (জারা লেবু ছাড়া অন্যান্য লেবু) এবং ত্রিকোসানথেস প্রজাতি (করলা, চিচিঙা, ধুন্দল ও পটোল)। এসব সবজি ও ফলের পিসি ইস্যু করা বন্ধ করে দিয়েছে ডিএই। এই পিসি ছাড়া কোনো সবজি-ফল রপ্তানি করা যায় না। এসব পণ্যকে ইইউ ‘ক্রিটিক্যাল কমোডিটি’-এর তালিকায় রেখেছে।
এ ছাড়া গত বছরের ফেব্রুয়ারি থেকেই বাংলাদেশি পানের ওপর ইইউর রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা চলছে। গত ২৬ জুন নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরও এক বছর বাড়ানো হয়েছে।
বাংলাদেশ ফল ও সবজি এবং এ-সংক্রান্ত পণ্য রপ্তানিকারক সমিতির (বিএফভিএপিইএ) তথ্য অনুযায়ী, দেশ থেকে যত সবজি ও ফল রপ্তানি হয়, তার ৪৭-৪৮ শতাংশই যায় ইউরোপে। কিন্তু ইউরোপে নিষেধাজ্ঞার কারণে রপ্তানিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে।
একাধিক রপ্তানিকারক জানান, বাংলাদেশ থেকে ইউরোপীয় আমদানিকারকেরা শুধু পান কিনতেন না। পানের সঙ্গে শসা, বেগুনের মতো সবজিরও কার্যাদেশ দিতেন। এখন পানের রপ্তানি বন্ধ থাকায় তাঁরা অন্য দেশ থেকে এসব পণ্য আমদানি করছেন।
আবার বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি হওয়া প্রধান সবজির মধ্যে আছে বেগুন, কাঁকরোল, করলা, চিচিঙা। কিন্তু এসব পণ্যের রপ্তানি সরকার নিজেই বন্ধ করে রেখেছে।
একজন রপ্তানিকারক জানান, আমদানিকারকেরা আমাদের এক টন বেগুনের সঙ্গে ১০০ কেজি শসা নিত। এখন যেহেতু তারা মূল সবজি বেগুনই নিতে পারছে না, তাই তারা ঐচ্ছিক সবজি শসা নিতেও আগ্রহ দেখাচ্ছে না।
ফরমালিনের আতঙ্কে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ফলের রপ্তানি বেশ কমে যায়। কিন্তু এবার তা না থাকায় ফলের রপ্তানি বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছিল। সে অনুযায়ী আম ও লিচুর রপ্তানি ভালো হয়েছে।
তবে ফল ও সবজি রপ্তানিকারক সমিতি বলছে, বাংলাদেশ থেকে যত ফল রপ্তানি হয়, তার ৫০ শতাংশই লেবু। আর এই লেবুর ওপরই সরকার রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে রেখেছে।
সমিতির সভাপতি এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন রপ্তানি কমে যাওয়ার আরেকটি কারণের কথা জানালেন। তাঁর মতে, বিমানে পণ্য পরিবহনে বাড়তি খরচ আর কার্গোতে জায়গা কম পাওয়ার কারণে সবজি ও ফল বেশি রপ্তানি করা যাচ্ছে না।
জাহাঙ্গীর হোসেনের অভিযোগ, বিদেশি এয়ারলাইনসে যেখানে প্রতি কেজি সবজি রপ্তানির ভাড়া ১৩০-১৩২ টাকা, সেখানে বাংলাদেশ বিমান নেয় ১৮০ টাকা। আবার তিনটি বোয়িং বিমান লন্ডনে যায়। প্রতি ফ্লাইটে ৩০ টন সবজি ও ফল ধরে। সে অনুযায়ী যদি ৯০ টনের জায়গা পাওয়া যেত, তাহলে রপ্তানি কয়েক গুণ বাড়ত।

Friday, July 18, 2014

বাইক ছুঁলেই...

আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ, রাজশাহী | আপডেট: ০১:৪৪, জুলাই ১৮, ২০১৪ |
বাইকের হাতল নাড়ালেই কল চলে যাবে মুঠোফোনে, দেখাচ্ছেন আতাউর রহমান। ছবি: প্রথম আলোমোটরবাইক চুরি হয়ে যাওয়ার ঘটনা প্রায়ই ঘটে। আর একবার চুরি হয়ে গেলে মোটরসাইকেল ফিরে পাওয়া সে এক কঠিন কাজ। কিন্তু যদি এমন হয়, চোর এসে মোটরসাইকেল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেই স্বয়ংক্রিয় একটা কল চলে যাবে বাইকের মালিকের মুঠোফোনে! একই সঙ্গে মোটরবাইকও সতর্কসংকেত দিতে থাকবে। এই যন্ত্র বাড়িতে ও দোকানেও ব্যবহার করা যাবে। এগুলো যিনি তৈরি করেছেন তিনি রাজশাহীর বাঘা উপজেলার দক্ষিণ মিলিকবাঘা গ্রামের আতাউর রহমান। অবাক হবেন তাঁর বয়স শুনে। আতাউরের বয়স ৬২ বছর। 
বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি মেরামতের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা থেকে যন্ত্রটি তিনি বানিয়েছেন। রাজশাহীতে প্রথম আলো কার্যালয়ে এসে যন্ত্রের খুঁটিনাটিও দেখালেন। আতাউর রহমানের যন্ত্রের তিনটি অংশ মিলে কাজটি করে। প্রধান অংশটির কাজ হচ্ছে চিঁ চিঁ শব্দে সতর্কসংকেত দেওয়া ও মুঠোফোনে কল পাঠানো। বাকি দুটি অংশকে মুখোমুখি করে রাখা হয়। একটির মুখ অন্যদিকে ঘোরালে অথবা দুটির মাঝখান দিয়ে কেউ প্রবেশ করলেই শব্দ উৎপাদক অংশটি কাজ শুরু করে দেয়। মুখোমুখি রাখা দুটি যন্ত্রে সেন্সর বসানো আছে। ফলে এ দুটির মাঝখান দিয়ে কেউ গেলে অথবা অন্যদিকে মুখটা ঘোরালেই সেন্সরে তা ধরা পড়ে এবং প্রধান যন্ত্রটি শব্দ করতে থাকে। 
আতাউর রহমান মোটরবাইকে এই যন্ত্রটি ক্ষুদ্রাকারে সংযোজন করতে পারেন। অন্য কোনো চাবি দিয়ে মোটরসাইকেলের হাতল সোজা করলেই দুটি যন্ত্রের মুখ দুদিকে ঘুরে যায়। আর সঙ্গে সঙ্গে তৃতীয় যন্ত্রটি কাজ শুরু করে। আবার নিজের চাবি দিয়ে হাতল খোলার সময় মালিক যন্ত্রটি বন্ধ রাখবেন। তাহলে কোনো শব্দ হবে না। এ জন্য ছোট্ট একটি সুইচ থাকবে। সুইচের অবস্থান শুধু মালিকই জানবেন।
আতাউর রহমান বলেন, দুই হাজার টাকায় যন্ত্রটি মোটরসাইকেলে সংযোজন করা যায়। বাসা বা দোকানের জন্য খরচ হয় তিন হাজার টাকা। এক সারিতে ৩০টি দোকান থাকলে একটি যন্ত্র স্থাপন করলেই চলবে। বাসায় কেউ না থাকলে রিং দেওয়ার পাশাপাশি চেঁচিয়ে যন্ত্রটি প্রতিবেশীর নজর কাড়তে পারবে। আবার বাজারের দোকানের ক্ষেত্রে পথচারীর মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারবে। 
দীর্ঘদিন ইলেকট্রনিকস যন্ত্রপাতি সারাইয়ের কাজ করছেন আতাউর রহমান। সেই অভিজ্ঞতা ও ভালোলাগা থেকেই নিজে নিজে নতুন নতুন যন্ত্রপাতি তৈরি করেন। চুরি ঠেকানোর এই যন্ত্র ছাড়াও স্বল্প খরচে লিফট তৈরি করেছেন তিনি। বাঘায় নিজের দোকানে সেটা ব্যবহারও করছেন। তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হচ্ছে একটি গবেষণাগার তৈরি করে সেখানে উৎসাহী যুবকদের উদ্ভাবনী কাজে প্রশিক্ষণ দেওয়া।

Saturday, October 26, 2013

ইউনিকোডে লেখা বাংলা বিজয়ে

আপডেট: ০০:৩৮, অক্টোবর ২৬, ২০১৩ |
কম্পিউটারে বাংলা লেখার ক্ষেত্রে বিজয় সফটওয়্যার বেশ জনপ্রিয়। তবে অনেকেই ইউনিকোডের ফোনেটিক কি-বোর্ডে বাংলা লেখা চর্চা করেন। কম্পিউটারে বিজয় সফটওয়্যার ইনস্টল করা না থাকলেও বিজয়ে বাংলা লেখা পড়া যায়। এ জন্য বিজয়ের যেকোনো ফন্ট কপি করে C:/Windows/Fonts ফোল্ডারে রেখে দিলে বাংলা লেখা পড়া যায়।
লেখার জন্য অভ্র কি-বোর্ডে ফোনেটিক নিয়মে বাংলা লিখে বিজয়ে তা রূপান্তর (কনভার্ট) করে নেওয়া যাবে। এ জন্য অভ্র কি-বোর্ড ৫.১.০ -এ বাংলা লিখে এর Tools থেকে Unicode to Bijoy text converter-এ ক্লিক করে সেটি খুলে Type or paste Unicode Bangla Text here ঘরে অভ্রতে লেখা বাংলাগুলো কপি করে পেস্ট করে Convert to Bijoy encoding বোতাম চাপলে সেটি বিজয়ের নিয়মে রূপান্তর হয়ে যাবে। এবার রূপান্তরিত লেখাগুলো নির্বাচন করে বিজয়ের যেকোনো ফন্ট নির্ধারণ করে দিলে বিজয় ফন্টে লেখা হয়ে যাবে।

Tuesday, October 22, 2013

চাইলে ইউএসবি বন্ধ রাখা যায়

আপডেট: ০০:১০, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১৩
কম্পিউটারের ইউএসবি ব্যবহার বন্ধ রাখার প্রয়োজন পড়তেই পারে। আর আপনি ইচ্ছা করলেই রেজিস্ট্রি এডিটরের মাধ্যমে ইউএসবি ব্যবহার বন্ধ রাখতে পারেন। প্রথমে রানে গিয়ে লিখুন regedit। এন্টার করুন। ডায়ালগ বক্সের মধ্যে HKEY_LOCAL_MACHINE ফোল্ডারে দুই ক্লিক করুন। এরপর System ফোল্ডারে দুই ক্লিক করুন। তারপর Current Control Set ফোল্ডারের আবার দুই ক্লিক করুন। এর মধ্যে Services ফোল্ডারে দুই ক্লিক করতে হবে।
এখান থেকে USBSTOR ফোল্ডারের ওপর ক্লিক করুন। ডান পাশে কিছু অপশন প্রদর্শিত হবে এবং তার মধ্যে Start ফোল্ডারে ডান ক্লিক করে Modify অপশনে ক্লিক করুন। এখন Edit DWORD Value নামের একটি ডায়ালগ বক্স প্রদর্শিত হবে এবং তার মধ্যে Value data-এর USBSTOR বক্সের মধ্যে Value 3 মুছে দিয়ে 4 লিখে OK করুন। সবকিছু বন্ধ করে কম্পিউটার আবার চালু (রিস্টার্ট) করুন। এখন আপনার কম্পিউটারে ইউএসবি ড্রাইভ ঢোকালে দেখা যাবে না।
আবার ইউএসবি ব্যবহার করেত চাইলে Value 4 মুছে দিয়ে 3 লিখে OK করুন এবং কম্পিউটার রিস্টার্ট করুন।

উইন্ডোজ আটে সরাসরি অ্যাপস

আপডেট: ০১:৩০, অক্টোবর ০৩, ২০১৩
মাইক্রোসফট উইন্ডোজ ৮ অপারেটিং সিস্টেমে সরাসরি ডেস্কটপ থেকে  কোনো অ্যাপস চালু করার সুবিধা দেওয়া নেই। স্টার্ট মেনুতে গিয়ে তা দেখতে হয়। চাইলে ডেস্কটপ থেকে যেকোনো অ্যাপস চালানো যায়।ডেস্কটপের যেকোনো ফাঁকা স্থানে ডান ক্লিক করুন।NewShortcut থেকে নির্বাচন করুন। এবার Location ঘরে Explorer Shell:AppsFolder লিখে নেক্সট চাপুন। উইন্ডোতে All Programs লিখে Finish করুন। ডেস্কটপে All Programs নামের শর্টকাট ফোল্ডার  তৈরি হয়ে যাবে। এটিতে দুই ক্লিক করলেই সব অ্যাপস দেখা যাবে।

নিজের প্রক্সি সার্ভার

আপডেট: ০০:০২, অক্টোবর ২২, ২০১৩
বাংলাদেশে এখনো ইন্টারনেট যোগাযোগের ক্ষেত্রে সীমিত ব্যান্ডউইথ এবং ধীরগতি একটা সমস্যাই বটে। তবে এই সীমাবদ্ধতা কাটানো যায় ওয়েব ক্যাশিং প্রক্সি সার্ভার তৈরি করে। ক্যাশিং প্রক্সির কাজ হলো যে ওয়েব পেজ দেখা হয়েছে বা হচ্ছে তা ক্যাশ মেমোরিতে সংরক্ষণ করে রাখা এবং আবার ওই পেজ খুললে সেখান থেকেই দ্রুত সরবরাহ করা। এর ফলে ব্যান্ডউইথ সাশ্রয়ের পাশাপাশি দ্রুতগতিতে ওয়েব পেজ দেখা সম্ভব হয়। এর জন্য প্রয়োজন হবে Squid Caching Proxy নামে একটি মুক্ত সফটওয়্যার প্যাকেজ। ডাউনলোড করতে হবে http://goo.gl/orm7WL ঠিকানার ওয়েবসাইট থকে। এর আকার ২ মেগাবাইট।
স্কুইড ২.৭ সংস্করণের জিপ ফাইলটিকে এক্সট্রাক্ট করে squid ফোল্ডারটিকে কপি করে C:/ ড্রাইভে রাখুন। এই ফোল্ডারে etc নামে আরেকটি সাবফোল্ডারে চারটি কনফিগারেশন ফাইল আছে। এগুলোকে Rename করে নামের শেষে .default ফাইল এক্সটেনশন মুছে শুধু .conf পর্যন্ত রাখতে হবে। তারপর squid.conf ফাইলটি নোটপ্যাড দিয়ে খুলে একটু সম্পাদনা করতে হবে। squid ফাইলটি নোটপ্যাডে খোলা অবস্থায় Ctrl+F চেপে Find বক্সে লিখুন http_access deny all এবং দুবার এন্টার করুন।
লক্ষ করুন, হাইলাইট করা লাইনটির আগে কোনো # চিহ্ন নেই। এখানে deny শব্দটি পরিবর্তন করে লিখুন http_access allow all এবং সেভ করুন। এবার স্টার্ট বাটনে ক্লিক করে সার্চ বক্সে cmd লিখে কমান্ড প্রম্পট টুলসটি এলে তাতে রাইট বাটন চেপে Run as administrator দিয়ে খুলুন। সেখানে প্রথমে cd c:quidbin লিখে এন্টার করুন। তারপর squid -i লিখে এন্টার চাপলে এই প্যাকেজটি উইন্ডোজ সার্ভিস হিসেবে রেজিস্ট্রিতে ঢুকে যাবে। এখন squid -z লিখে এন্টার চাপতে হবে। এবার স্টার্ট বাটনে ক্লিক করে সার্চ বক্সে Services লিখে এন্টার করুন। সেখান থেকে Squid খুঁজে বের করে দুই ক্লিক করে খুলুন। স্টার্টআপ টাইপ Automatic এবং সার্ভিস স্ট্যাটাস Start করে ওকে করুন।
ওয়েবসাইট দেখার সফটওয়্যার (ব্রাউজার) ফায়ারফক্স হলে Firefox>Options>Options>Advanced> Network>Settings-এ গিয়ে Manual Proxy Configuration নির্বাচন করে Http Proxy বক্সে লিখুন localhost এবং পোর্ট বক্সে লিখুন ৩১২৮ (স্কুইড সেবার পূর্বনির্ধারিত পোর্ট হলো ৩১২৮)। Use this proxy server for all protocols-এ টিক দিয়ে ওকে করুন। আর ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার হলে Tools>Internet Options>Connections>LAN Settings>Proxy Server-এ টিকচিহ্ন দিয়ে অ্যাড্রেস বক্সে localhost এবং পোর্ট ৩১২৮ লিখে ওকে করুন। তৈরি হলো নিজস্ব ওয়েব ক্যাশিং প্রক্সি সার্ভার, স্কুইড।
যদি একাধিক কম্পিউটার ল্যানে (লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক) যুক্ত থাকে তাহলে অন্যান্য কম্পিউটারে একইভাবে প্রক্সি সেটিং পরিবর্তন করে শুধু localhost এর বদলে স্কুইড যে কম্পিউটারে কনফিগার করা আছে তার আইপি ঠিকানা ব্যবহার করতে হবে। প্রক্সি সার্ভার ব্যবহার করতে না চাইলে ব্রাউজারের সেটিংস আবার আগের মতো করে দিন। স্কুইড সেবাটি উইন্ডোজ রেজিস্ট্রি থেকে মোছার প্রয়োজন হলে Administrator হিসেবে কমান্ড প্রম্পট খুলে সেখানে sc delete squid লিখে এন্টার করলে সেবাটি মুছে যাবে।

Saturday, August 3, 2013

অ্যান্ড্রয়েডের জন্য মাইক্রোসফট অফিস

অ্যান্ড্রয়েডে এমএস অফিসস্মার্টফোনের মুক্ত অপারেটিং সিস্টেম অ্যান্ড্রয়েডের জন্য এবার চালু হচ্ছে মাইক্রোসফট অফিস প্যাকেজ। মাইক্রোসফটের অফিস ৩৬৫ হোম প্রিমিয়াম ও প্রো প্লাস সংস্করণ ব্যবহারকারীরা অ্যান্ড্রয়েড-চালিত স্মার্টফোন ব্যবহার করতে পারবেন। এর আগে মাইক্রোসফট উইন্ডোজ ফোনের পাশাপাশি অ্যাপলের আইওএস-চালিত আইফোনের জন্যও অফিস প্যাকেজ ব্যবহারের সুবিধা চালু করে। এ সুবিধা চালুর ফলে অ্যান্ড্রয়েড-চালিত স্মার্টফোন ব্যবহারকারীরা বিনা মূল্যে মাইক্রোসফট অফিস ব্যবহার করতে পারবেন। অফিস মোবাইল অ্যান্ড্রয়েড সংস্করণে মাইক্রোসফট ওয়ার্ড, এক্সেল ও পাওয়ারপয়েন্ট ব্যবহার করা যাবে। মাইক্রোসফটের একজন মুখপাত্র জানান, মূলত কম্পিউটারে মাইক্রোসফট অফিস ব্যবহার করে পরবর্তী সময়ে যাতে স্মার্টফোন কিংবা ট্যাবলেটেও সে কাজগুলো দেখা যায় এবং প্রয়োজনীয় কাজ করা যায়, সে জন্যই মাইক্রোসফট অফিসের মোবাইল সংস্করণ চালু হয়েছে।
অফিস ৩৬৫ সংস্করণ স্কাইড্রাইভ ওয়েব সেবা ব্যবহার করে, যার ফলে ডেস্কটপ বা মোবাইলে করা কাজগুলো স্কাইড্রাইভে জমা হয় এবং যন্ত্রগুলোতেই তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সিঙ্কক্রোনাইজ হয়ে যায়। উইন্ডোজ ফোনে মাইক্রোসফট অফিসের এ সুবিধা চালুর পর আইওএসের জন্যও মাইক্রোসফট অফিস মোবাইল সংস্করণ চালু করা হয়। অফিস মোবাইল সংস্করণ অ্যান্ড্রয়েড ৪.০ বা পরবর্তী সংস্করণে ব্যবহার করা যাবে। http://goo.gl/qkrYtz ঠিকানার ওয়েবসাইট থেকে অফিস ৩৬৫ সংস্করণ নামানো যাবে।

Friday, August 2, 2013

অ্যাডসেন্সের বিকল্প

শিরোনামটা দেওয়া বোধ হয় কিছুটা ভুল হলো। কারণ, বর্তমানে ওয়েবসাইটে বিষয়ভিত্তিক বিজ্ঞাপনের জগতে গুগল অ্যাডসেন্সের রয়েছে একক আধিপত্য। অন্যভাবে বলতে গেলে, বিষয়টা যখন ওয়েব বিজ্ঞাপনের, তখন সবার প্রথম পছন্দ অ্যাডসেন্স। এই আধিপত্য গুগল এমনিতে পায়নি, অর্জন করে নিয়েছে। নির্ঝঞ্ঝাট অর্থ লেনদেন, সাপোর্ট ফোরাম, বেশিআয়ের সুযোগ এবং এক অ্যাকাউন্ট দিয়ে সবকটি অনুমোদিত ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন প্রকাশবা দেখানোর সুযোগ থাকায় মানুষের ঝোঁক অ্যাডসেন্সের দিকে। কিন্তু অ্যাডসেন্সে অনুমোদন পাওয়া সহজ কথা নয়। বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে তবেই গুগল অ্যাডসেন্স অ্যাকাউন্ট ও ওয়েবসাইট অনুমোদন করে। তা ছাড়া বাংলাদেশসহ দক্ষিণ-এশীয় দেশগুলোতে রয়েছে আরও প্রতিবন্ধকতা। সব মিলিয়ে নতুন ওয়েবসাইটের জন্য অ্যাডসেন্সের অনুমোদন পাওয়া রীতিমতো স্বপ্নে পরিণত হয়েছে।
বর্তমানে নিজস্ব ওয়েবসাইট বা ব্লগসাইটে বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করে অর্থ উপার্জনকে অনেকে মূল পেশা হিসেবে নিচ্ছেন। আবার এটাকে খণ্ডকালীন কাজ হিসেবেও নিচ্ছেন অনেকে। এ ক্ষেত্রে মুখ্য বিষয় হচ্ছে ভিজিটর সংখ্যা, মানে কতজন আপনার ওয়েবসাইট দেখছে। আপনার ওয়েবসাইটে যত বেশি ভিজিটর আসবে, তত আয় বাড়বে। আর ওয়েবসাইট দেখার সংখ্যা বাড়াতে মানুষ বারবার সার্চ ইঞ্জিনে যে বিষয়গুলোর খোঁজ করে, এমন বিষয়ের ওপর তথ্যবহুল ওয়েবসাইট তৈরি করলে বেশি সুবিধা পাবেন।
যাঁরা এখনো ভাবছেন বিষয়ভিত্তিক বা কনটেক্সচুয়াল বিজ্ঞাপন কী, তাঁদের জন্য বলে রাখি, আপনার ব্লগ কিংবা ওয়েবসাইটের কনটেন্ট, অর্থাৎ লেখা ও ছবির বিষয়ের ওপর নির্ভর করে প্রাসঙ্গিক বিজ্ঞাপনই বিষয়ভিত্তিক বিজ্ঞাপন। এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে ওয়েবসাইট ব্যবহারকারী আপনার সাইটের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ বিজ্ঞাপন দেখতে পাচ্ছে। ফলে সেই বিজ্ঞাপনে ক্লিক করার হার বেড়ে যায়, অর্থাৎ বিজ্ঞাপন থেকে আপনার আয় বেড়ে যাবে। বিজ্ঞাপন নেটওয়ার্ক হিসেবে প্রথমে গুগল অ্যাডসেন্সে অনুমোদন পাওয়ার চেষ্টা করবেন। অ্যাডসেন্সে অনুমোদন পেয়ে গেলে তো অবশ্যই ভালো। কিন্তু যদি অনুমোদন না পান তো সে ক্ষেত্রে কি চুপচাপ বসে থাকা ঠিক হবে?
অ্যাডসেন্সের মতো রয়েছে আরও অনেক বিজ্ঞাপন নেটওয়ার্ক, যেগুলোর মাধ্যমে আপনার ওয়েবসাইটের দেখার হারকে কাজে লাগিয়ে পেতে পারেন নিয়মিত অর্থ। তবে বিজ্ঞাপন নেটওয়ার্ক নির্বাচনে কিছু সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। বিশেষ করে খোঁজ নিতে হবে তারা মূলত কী ধরনের বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করে থাকে, তাদের সেবার মূলনীতি কী, টাকা উত্তোলনের মাধ্যম ও উত্তোলনের সর্বনিম্ন পরিমাণ, কোনো ধরনের খরচ আছে কি না, কোন অঞ্চলের ভিজিটরদের জন্য বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করে থাকে ইত্যাদি। এখানে কিছু নির্ভরযোগ্য বিজ্ঞাপন নেটওয়ার্কের খোঁজ দেওয়া হলো। এগুলো ছাড়া আরও নেটওয়ার্ক রয়েছে।
চিতিকাচিতিকা
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসভিত্তিক এই বিজ্ঞাপনী নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠিত হয় ২০০৩ সালে। বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের ক্ষেত্রে তারা মূলত ব্যবহারকারীর ভৌগোলিক অবস্থান ও ওয়েবসাইটের বিষয়বস্তুর ওপর প্রাধান্য দেয়। চিতিকা পেপ্যাল ক্লিকভিত্তিক বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করে। অর্থাৎ ভিজিটর যদি বিজ্ঞাপনে ক্লিক করে, তবেই আপনি টাকা পাবেন। শুধু বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের জন্য কোনো টাকা পাওয়া যায় না। পেপ্যালের মাধ্যমে সর্বনিম্ন ১০ এবং চেকের মাধ্যমে সর্বনিম্ন ৫০ ডলার তোলা যায়। মোবাইল ফোনের জন্য বিজ্ঞাপনসহ চিতিকার রয়েছে বিভিন্ন আকারের এমনকি আপনার পছন্দমতো আকারের বিজ্ঞাপন তৈরির সুযোগ। তবে চিতিকা সম্পর্কে অভিযোগ আছে যে তারা শুধু যুক্তরাষ্ট্রের ভিজিটরদের জন্য টাকা দেয়। ঠিকানা: www.chitika.com
ইয়াহু-বিং নেটওয়ার্কইয়াহু-বিং নেটওয়ার্ক
দুই সার্চ ইঞ্জিন ইয়াহু ও বিংয়ের যৌথ উদ্যোগে মিডিয়া ডট নেটের মাধ্যমে এই বিজ্ঞাপন নেটওয়ার্ক পরিচালিত হয়। ইয়াহু ও বিং যৌথভাবে যেখানে বিজ্ঞাপন সরবরাহ করছে, সেখানে বিজ্ঞাপনের বৈশিষ্ট্য নিয়ে আপনাকে ভাবতে হবে না। ছোট কিংবা বড়, এমনকি অল্প ট্র্যাফিকের যেকোনো সচল ওয়েবসাইট তারা অনুমোদন করে থাকে। বিভিন্ন আকার ও থিম থেকে আপনার প্রয়োজনীয় বিজ্ঞাপন বেছে নিতে পারবেন। সেই সঙ্গে আপনার জন্য একজন ব্যক্তিগত প্রতিনিধির পরিচয় করিয়ে দেওয়া হবে, যেকোনো প্রয়োজনে আপনি তাঁর কাছে সাহায্য পাবেন। পেপ্যাল কিংবা চেকের মাধ্যমে সর্বনিম্ন ১০০ ডলার উত্তোলন করতে পারবেন। ঠিকানা: www.media.net
ট্রাইবাল ফিউশনট্রাইবাল ফিউশন
আপনার ব্লগ বা ওয়েবসাইটে যদি প্রতি মাসে কমপক্ষে পাঁচ লাখ ইউনিক ভিজিটর আসে, তবেই কেবল আপনি ট্রাইবাল ফিউশনে নিবন্ধনের কথা ভাবতে পারেন। তবে এই বিজ্ঞাপনী নেটওয়ার্কটি থেকে আপনি বেশ ভালো পরিমাণ টাকা উপার্জন করতে পারবেন। চেকে বা ব্যাংক ট্রান্সফারে সর্বনিম্ন ১০০ ডলার উত্তোলন করা যায়।
ঠিকানা: www.tribalfusion.com
ম্যাড অ্যাডস মিডিয়াম্যাড অ্যাডস মিডিয়া
এই বিজ্ঞাপনী নেটওয়ার্ক গুগল, ইয়াহু এবং অন্যান্য বড় নেটওয়ার্ক থেকে বিজ্ঞাপন সংগ্রহ করে প্রদর্শন করে। অনেকটা সহজেই অনুমোদন পাওয়া যায় আর তা ছাড়া ক্লিকের পাশাপাশি বিজ্ঞাপন দেখা, অর্থাৎ ইম্প্রেশনের জন্যও আপনার অ্যাকাউন্টে অর্থ জমা হতে থাকবে। ঠিকানা: www.madadsmedia.com
ক্লিকসরক্লিকসর
অনুমোদন পাওয়ার কোনো ঝামেলা নেই। যেকোনো সচল ওয়েবসাইটেই আপনি ক্লিকসর বিজ্ঞাপন দিতে পারেন। তবে বিজ্ঞাপনের ধরন নির্বাচনে সতর্ক থাকতে হবে। কারণ, ব্যানার ও লেখার বিজ্ঞাপন ছাড়া অন্যান্য বিজ্ঞাপনে আপনার ভিজিটরকে ঝামেলা পোহাতে হতে পারে। পেপ্যাল অথবা চেকের মাধ্যমে সর্বনিম্ন ৫০ ডলার উত্তোলন করা যাবে।
ঠিকানা: www.clicksor.com
ইনফোলিংকসইনফোলিংকস
ইন-টেক্সট বিজ্ঞাপন। অর্থাৎ আপনার ওয়েবসাইটের কিওয়ার্ডের ওপর ভিত্তি করে লিংক আকারে বিজ্ঞাপন থাকবে। কোনো ভিজিটর যদি সেই লিংকে ক্লিক করে, তবে ওয়েব পাবলিশারের অ্যাকাউন্টে অর্থ জমা হবে। ২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিজ্ঞাপনী নেটওয়ার্কটি বর্তমানে ইন-টেক্সট বিজ্ঞাপনের পাশাপাশি ইন-সার্চ, ইন-ফ্রেম ও ইন-ট্যাগ বিজ্ঞাপনী সেবা দিচ্ছে। ঠিকানা: www.infolinks.com
বাংলা ওয়েবসাইটের জন্য
অ্যাডসেন্সসহ অন্যান্য বিজ্ঞাপন নেটওয়ার্ক সাধারণত বাংলায় তৈরি ওয়েবসাইটের জন্য বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করে না কারণ বাংলা ভাষায় লেখা নিবন্ধের কিওয়ার্ড নির্বাচন করতে তারা পারে না।
এ ছাড়া আপনি সরাসরি সংশ্লিষ্ট কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করে আপনার ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের আবেদন জানাতে পারেন। প্রথমে ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপনের জন্য স্থান নির্ধারণ করে আপনার ওয়েবসাইটের বিষয়বস্তু, দৈনিক অথবা মাসিক ইউনিক ভিজিটর, সর্বমোট পেজভিউ এবং কোন দেশ থেকে বেশি ভিজিট হচ্ছে, এসব পরিসংখ্যান সরাসরি অথবা ই-মেইলে পাঠিয়ে দিন।

Saturday, March 31, 2012

ডেসটিনি অবৈধ ব্যাংকিং করছে


বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন প্রতিবেদন

ডেসটিনি অবৈধ ব্যাংকিং করছে

ফখরুল ইসলাম | তারিখ: ৩০-০৩-২০১২

ডেসটিনি গ্রুপের অন্যতম সহযোগী প্রতিষ্ঠান ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি অবৈধ ব্যাংকিংয়ের সঙ্গে যুক্ত। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়া তারা একদিকে যেমন আমানত সংগ্রহ করছে, অন্যদিকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত না হয়েও শেয়ার বিক্রি করছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক ডেসটিনি গ্রুপের এই প্রতিষ্ঠানের ওপর পরিচালিত বিশেষ পরিদর্শন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সমবায় অধিদপ্তর থেকে নিবন্ধন নেওয়া এই প্রতিষ্ঠান জনগণের কাছ থেকে মাসে ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকা তুলে নিচ্ছে। ৪০ লাখ প্রতিনিধির মাধ্যমে ব্যাংকের মতো রীতিমতো আমানত সংগ্রহ করছে তারা। অন্যদিকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত না হয়েও বিক্রি করছে এর শেয়ার। তথাকথিত শেয়ার বিক্রি করেই প্রতিষ্ঠানটি হাতিয়ে নিয়েছে এক হাজার ৪০০ কোটি টাকা।
ব্যাংকিং খাতে বর্তমানে যে তারল্য-সংকট রয়েছে, এর জন্য ডেসটিনির মতো মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটিগুলোর যোগসূত্র থাকতে পারে বলেও বাংলাদেশ ব্যাংকের ওই প্রতিবেদনে আশঙ্কা করা হয়েছে। এতে আরও বলা হয়েছে, ব্যাংক বা পুঁজিবাজার থেকে মূলধন সংগ্রহ না করে সরাসরি জনগণের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করায় ব্যাংক ব্যবসা ও মূলধন বাজার ক্রমশ সংকুচিত হয়ে পড়তে পারে।
সরকারি, আধা সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বহুসংখ্যক কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির যোগসূত্র থাকায় অনেক সাধারণ মানুষ এর প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এই প্রতিবেদন গত রোববার অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভের সভাপতি হলেন ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রফিকুল আমীন। এ ছাড়া উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) মোহাম্মদ গোফরানুল হক, পরিচালক (অর্থ) মোহাম্মদ সাইদ-উর রহমান, পরিচালক (ক্রয়) মেজবাহ উদ্দীন, মোহাম্মদ হোসাইন প্রমুখ। এ ছাড়া ব্যবস্থাপনা ও উপদেষ্টা পর্ষদে তাঁদের আত্মীয়স্বজন রয়েছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিনব মাল্টি লেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) পদ্ধতি অবলম্বন করছে। বিনিময়ে আমানত সংগ্রহকারীদের কমিশন দেওয়া হচ্ছে, যা অবৈধ ও অনৈতিক। প্রতিষ্ঠানটির অস্তিত্ব ভবিষ্যতে হুমকির মুখে পড়তে পারে এবং প্রতারিত হতে পারে জনগণ।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, ২০০৮-০৯ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটি গবেষণা ও উন্নয়ন খাতে কোনো ব্যয় না করলেও ২০০৯-১০ অর্থবছরে ১৯৩ কোটি ২৭ লাখ টাকা এবং ২০১০-১১ অর্থবছরে ব্যয় দেখিয়েছে ৬৫৬ কোটি ৩২ লাখ টাকা। অথচ এর কোনো গবেষণাগার ও প্রশিক্ষণকেন্দ্র নেই।
অবৈধ ব্যাংকিং: প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিদ্যমান ২০০১ সালের সমবায় সমিতি আইনের অজুহাতে বাণিজ্যিক ব্যাংকের মতো আমানত সংগ্রহ করছে প্রতিষ্ঠানটি। ২০১১ সাল পর্যন্ত সংগ্রহ করেছে দুই হাজার কোটি টাকা। সমিতির শেয়ারহোল্ডারদের দায়দায়িত্ব তাদের পরিশোধিত মূলধনের মাধ্যমে সীমাবদ্ধ নয়। তবে কখনো যদি অবসায়ন ঘটাতে হয়, তখন পরিসম্পদে ঘাটতি থাকলে সদস্যরা নিজ নিজ শেয়ার অনুপাতে দায়ী থাকবেন। প্রতিষ্ঠানের লাখ লাখ শেয়ারহোল্ডার এ সম্পর্কে অবগত নন। প্রতিষ্ঠানটি শেয়ার মূলধন ও শেয়ারহোল্ডারের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়িয়ে অত্যন্ত সুচতুরভাবে এর দায়দেনার সঙ্গে লাখ লাখ মানুষকে সম্পৃক্ত করছে, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
বেআইনি শেয়ার বিক্রি: ডেসটিনির সদস্য হলেই ‘ডিস্ট্রিবিউটরস আইডেন্টিফিকেশন নম্বর’ (ডিআইএন) ও ‘কাস্টমারস আইডেন্টিফিকেশন’ (সিআইডি) দেওয়া হয়। বর্তমানে সিআইডি নম্বরধারীর সংখ্যা ৬৮ থেকে ৭০ লাখ এবং ডিআইএন নম্বরধারী ৪০ থেকে ৪৫ লাখ। ডিআইএন নম্বরধারীরাই ডেসটিনি মাল্টিপারপাসের সদস্য।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ৪০টি শেয়ারের একটি লট ২০ হাজার টাকা করে বিক্রি করছে এই ডিআইএনরা। শেয়ার বিক্রি করতে পারলে ৫০০ পয়েন্ট ভ্যালু (পিভি) অর্জন করা যায়। আশ্চর্যজনক যে, পরিবেশক করা হয় ডেসটিনি গ্রুপের মূল প্রতিষ্ঠান ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেডের। আবার এই পরিবেশক হওয়াই ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটির সদস্য হওয়ার পূর্বশর্ত। আবার এক লাখ টাকার মেয়াদি প্রকল্পে বিনিয়োগ করেও কোনো ব্যক্তি সদস্য হতে পারেন।
প্রলুব্ধ করে তহবিল বৃদ্ধি: পাঁচ বছর আগেও প্রতিষ্ঠানটির পরিশোধিত মূলধন ৫০ কোটি টাকা ছিল। বর্তমানে তা তিন হাজার কোটি টাকা, যা অস্বাভাবিক হারে বাড়ানো হয়েছে।
প্রতিবেদনমতে, প্রতিষ্ঠানটি ব্যাংকের মতো চলতি, স্থায়ী, সাড়ে পাঁচ বছরে দ্বিগুণ, মাসিক মুনাফা, শেয়ার মূলধন ইত্যাদি প্রকল্পের মাধ্যমে সদস্য সংগ্রহ করছে। এর জন্য প্রশিক্ষিত মাঠকর্মী তথা কমিশন এজেন্টদের ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে শহরের আনাচে-কানাচে ও প্রত্যন্ত গ্রামে।
এক হাজার ৪০০ কোটি টাকার শেয়ার সংগ্রহও আমানতেরই নামান্তর। ২০০৬-০৭ সালে ৭১ লাখ, ২০০৭-০৮ সালে সাত কোটি দুই লাখ, ২০০৮-০৯ সালে ১৭ কোটি ৫৬ লাখ, ২০০৯-১০ সালে ২২২ কোটি ১৮ লাখ এবং ২০১০-১১ সালে প্রতিষ্ঠানটি ৫২২ কোটি ৭৪ লাখ টাকা আমানত সংগ্রহ করেছে। এর মধ্যে বর্তমানে ৯৪ শতাংশ আমানতই দীর্ঘমেয়াদি আমানত।
আমানতের বিপরীতে সুদ দেওয়া হয় সর্বোচ্চ ১৬ শতাংশ। সমবায় আইন অনুযায়ী আয়ের টাকা যেহেতু করমুক্ত, তাই সুদের এত উচ্চহার অস্বাভাবিক। আমানত পরিশোধের দায়বদ্ধতা থাকলেও প্রতিষ্ঠানটি অতিরিক্ত শেয়ার ক্রয়ে জনগণকে প্রলুব্ধ করে তহবিল বাড়াচ্ছে।
অস্বচ্ছ হিসাব পদ্ধতি: প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোনো চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নিরীক্ষার বাধ্যবাধকতা না থাকায় যেকোনো মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভের মতো ডেসটিনিরও অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা করেছে সমবায় অধিদপ্তর। এতেও অনেক ত্রুটি ধরা পড়েছে। ২০০৯-১০ অর্থবছরের শাখাওয়ারি সঞ্চয় সংগ্রহ, শেয়ার মূলধন, আয়-ব্যয়ের কোনো হিসাবই নেই। ওই বছর অনুমোদনবিহীন ব্যয় হয়েছে ২১২ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। সঞ্চয় ও শেয়ার মূলধন আহরণে কমিশন বাবদ ব্যয় হওয়া ২০০ কোটি টাকাকে গবেষণা ও উন্নয়ন ব্যয় দেখানো হয়েছে, যা হিসাবশাস্ত্রের রীতিনীতির পরিপন্থী।
স্থিতিপত্রে প্রাপ্তি ও প্রদানে কোনো মিল নেই এবং প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত চিত্র এতে প্রতিফলিত হয় না। প্রতিষ্ঠানটি জনগণের কাছ থেকে যে পরিমাণ সঞ্চয় ও শেয়ার মূলধন সংগ্রহ করেছে বলে নিরীক্ষা দলকে জানিয়েছে, তা-ও সঠিক নয়। বরং প্রকৃত সংগ্রহের পরিমাণ অনেক বেশি।
নিজেদের প্রতিষ্ঠানে টাকা সরানো: প্রতিবেদনমতে, ডেসটিনি মাল্টিপারপাসের নামে জনগণের কাছ থেকে সংগৃহীত অর্থে মূলত জমি কেনা হচ্ছে। তবে জমির দলিল কার নামে হচ্ছে, তা স্পষ্ট নয়। আরও অর্থ নেওয়া হচ্ছে ডেসটিনি গ্রুপের ডেসটিনি ২০০০, ডেসটিনি ডায়মন্ড সিটিসহ ১৩টি সহযোগী প্রতিষ্ঠানে। প্রতিষ্ঠানটি এখন মুনাফা অর্জন করছে মনে হলেও গবেষণা ও উন্নয়ন খাতের কমিশন সমন্বয় করলে এর নিট ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় ১৪৪ কোটি টাকা। সে হিসাবে সমবায় সমিতির বিধিমালা অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটিতে তারল্য ঘাটতি রয়েছে। তারল্য-সংকটের কারণে যেকোনো সময় আমানতের টাকা ফেরতে বিঘ্ন সৃষ্টি হতে পারে। আমানতকারীদের মধ্যেও দেখা দিতে পারে আস্থাহীনতার মনোভাব।
সচিবের কাছে চিঠি: প্রতিবেদন পাঠানোর পাশাপাশি অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব শফিকুর রহমান পাটোয়ারীর কাছে একটি চিঠিও পাঠিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। চিঠিতে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়; স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করে তদন্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করে, ডেসটিনির বর্তমান প্রতারণামূলক ও অভিনব এমএলএম কার্যক্রম, উচ্চ হারে ও অযৌক্তিকভাবে মূলধন বৃদ্ধি এবং সংগ্রহীত আমানত ও মূলধন সুকৌশলে অন্যান্য কোম্পানিতে সরিয়ে নেওয়া ইত্যাদি অনিয়মের বিষয় আইনি কাঠামোর মধ্যে এনে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা প্রয়োজন। বিস্তারিত তদন্ত করে ডেসটিনির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতেও সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
যোগাযোগ করলে সচিব শফিকুর রহমান পাটোয়ারী প্রথম আলোকে বলেন, ডেসটিনির মতো আরও প্রতিষ্ঠান একই ধরনের কার্যক্রমে লিপ্ত। বিষয়টির সত্যিই একটি বিহিত করা দরকার।
বক্তব্য নেওয়ার জন্য যোগাযোগ করলে ডেসটিনির গণমাধ্যম উপদেষ্টা মাহমুদ আল ফয়সাল প্রথম আলোকে বলেন, ডেসটিনির এমডি রফিকুল আমীন এই মুহূর্তে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন এবং দেশে ফিরেই তিনি কথা বলবেন। প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বক্তব্য চাওয়া হলে তিনি বলেন, সবকিছুই এমডি। তিনি ছাড়া কারও পক্ষে কথা বলা সম্ভব নয়।

Saturday, March 17, 2012

শচীনের শততম সেঞ্চুরি, ভারত ২৮৯

বাংলাদেশের বিপক্ষেই ক্যারিয়ারের শততম সেঞ্চুরিটা তুলে নিলেন শচীন টেন্ডুলকার। ঘুচালেন দীর্ঘ এক বছরেরও বেশি সময়ের সেঞ্চুরি- খরা। অবসান ঘটালেন ভক্তদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার। মিরপুরে এশিয়া কাপের চতুর্থ ম্যাচে শচীনের সেঞ্চুরির উপর ভর করে বড় সংগ্রহ দাড় করিয়েছে ভারত। নির্ধারিত ৫০ ওভার শেষে ৫ উইকেট হারিয়ে স্কোরবোর্ডে ২৮৯ রান জমা করেছে বিশ্বকাপজয়ীরা।
মাশরাফি বিন মুর্তজার শিকারে পরিণত হওয়ার আগে শচীন করেন ১১৪ রান। ১৪৭ বলে লিটল মাস্টারের এই ইনিংসে ছিল একটি ছয় ও ১২টি চারের মার।
দ্বিতীয় উইকেটে শচীনের সঙ্গে ১৪৮ রানের জুটি গড়ে সাজঘরে ফেরেন বিরাট কোহলি (৬৬)। সুরেশ রায়না আউট হন ৫১ রানে। দিবা-রাত্রির এই ম্যাচে টস জিতে ফিল্ডিং করার নেন বাংলাদেশের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম।
শক্তিমত্তার বিচারে আজকের ম্যাচে ভারতীয় দল এগিয়ে, বলার অবকাশ রাখে না। চলতি আসরেও এগিয়ে ভারত। প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী ম্যাচে পাকিস্তানের কাছে ২১ রানে হেরেছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। অন্যদিকে, নিজেদের প্রথম ম্যাচে হেসে-খেলে শ্রীলঙ্কাকে ৫০ রানে হারায় ভারত।

বাংলাদেশের অসাধারণ জয়

শচীন টেন্ডুলকারের দীর্ঘ প্রতীক্ষার শততম সেঞ্চুরিটি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর হাত ধরে রেকর্ড-বুকে জায়গা করে নিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু টেন্ডুলকারের ইতিহাস-গড়া এ দিনটিতে শুধু নিষ্ক্রিয়ভাবেই থাকতে চাননি স্বাগতিকেরা। এশিয়া কাপের চতুর্থ ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে ৫ উইকেটের অসাধারণ এক জয় দিয়ে ম্যাচটা দীর্ঘদিন মনে রাখার মতো একটা ম্যাচে পরিণত করেছে সাকিব-তামিম-মুশফিক-মাশরাফিরা। তামিম, জহুরুল, নাসির, সাকিব, মুশফিকের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে মাত্র ৫ উইকেট হারিয়ে ৪ বল হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় টাইগাররা।
ভারতের বিপক্ষে ২৯০ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালোভাবে করতে পারেনি বাংলাদেশ। পঞ্চম ওভারেই প্রাভিন কুমারের শিকারে পরিণত হয়ে সাজঘরে ফিরেছেন ওপেনার নাজিমুদ্দিন। তবে দ্বিতীয় উইকেটে ১১৩ রানের জুটি গড়ে প্রাথমিক বিপর্যয় সামলে বেশ ভালোই লড়াই চালিয়েছিলেন আরেক ওপেনার তামিম ইকবাল ও জহুরুল ইসলাম। কিন্তু দলীয় ১২৮ রানের মাথায় রবীন্দ্র জাদেজার শিকারে পরিণত হয়ে সাজঘরে ফিরেছেন জহুরুল। তবে তার আগে তিনি দেখা পেয়েছেন ক্যারিয়ারের প্রথম অর্ধশতকের। আউট হয়েছেন ৫৩ রান করে। তারপর খুব বেশিক্ষণ উইকেটে থাকতে পারেননি তামিমও। তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে ৭০ রানের লড়াকু ইনিংস। চতুর্থ উইকেটে ৬৮ রানের জুটি গড়ে জয়ের পথে বাংলাদেশকে আরও কিছুটা এগিয়ে দেন সাকিব ও নাসির। কিন্তু ব্যক্তিগত ৪৯ রানের মাথায় থার্ড আম্পায়ারের কিছুটা বিতর্কিত সিদ্ধান্তের বলি হয়ে সাজঘরে ফিরেছেন সাকিব। তবে তাতেও জয় পেতে সমস্যা হয়নি বাংলাদেশের। শেষ পর্যায়ে ঝোড়ো ব্যাটিং করে জয় নিশ্চিত করেছেন অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম ও নাসির হোসেন। জয়ের জন্য যখন আর মাত্র ২ রান দরকার তখন ৬ মেরে জয় পাওয়ার তাড়নায় প্রাভিন কুমারকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে আউট হন নাসির (৫৪)। মুশফিকুর শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন ২৫ বলে ৪৬ রানের ইনিংস খেলে।

বাংলায় প্রথম কোরআন শরিফ

বিশ্বের মুসলমান সম্প্রদায়ের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কোরআন শরিফ-এর বাংলায় প্রথম অনুবাদের সোয়া শ বছর পেরিয়ে গেছে আজ থেকে এক বছর আগে। একেবারে নীরবে। কাউকে কিছু জানান না দিয়ে। অথচ গিরিশচন্দ্র সেন (১৮৩৫-১৯১০) ছয় বছর দীর্ঘ (১৮৮১-১৮৮৬) কঠোর ও একাগ্র শ্রমে যখন কোরআন শরিফ-এর অনুবাদের কাজ শেষ করেছিলেন, তখন সেটা গোটা বাংলা ভাষাভাষী সমাজে একটা চাঞ্চল্য সৃষ্টিকারী ঘটনা হয়ে উঠেছিল। ঐতিহাসিক ঘটনা তো বটেই। কোরআন শরিফ-এর সঠিক অনুবাদ সেই প্রথম। অমন পরিশ্রমসাধ্য কাজের দৃষ্টান্ত সত্যিই এক বিরল ঘটনা। অবশ্য মাওলানা মহিউদ্দিন খান নামের একজন বিশিষ্ট আলেম পবিত্র কোরআন শরিফ-এর প্রথম বাংলা অনুবাদ করেছিলেন বলে যে দাবি করা হয়, তার অনুকূলে তেমন জোরালো কোনো সমর্থন বা তথ্য পাওয়া যায় না। যদি যেত, তাহলে ১৯৩৬ সালে মওলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁ (১৮৬৮-১৯৬৮) কেন এ কথা বলতে যাবেন, ‘তিন কোটি মোছলমানের মাতৃভাষা যে বাংলা তাহাতে কোরআনের অনুবাদ প্রকাশের কল্পনা ১৮৭৬ খ্রি. পর্যন্ত এ দেশের কোনো মনীষীর দৃষ্টি আকর্ষণ করিতে পারে নাই। তখন আরবি-পারসি ভাষায় সুপণ্ডিত মোছলমানের অভাব ছিল না।...কিন্তু এদিকে মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ তাঁহাদের একজনেরও ঘটিয়া উঠে নাই। এই গুরুদায়িত্বভার বহন করিবার জন্য সুদৃঢ় সংকল্প নিয়া, সর্বপ্রথমে প্রস্তুত হইলেন বাংলার একজন হিন্দু সন্তান, ভাই গিরিশচন্দ্র সেন—বিধান-আচার্য কেশবচন্দ্রের নির্দেশ অনুসারে।’ এই ঘটনার উল্লেখ শেষে মাওলানা আকরম খাঁর মন্তব্য, ‘গিরিশচন্দ্রের এই অসাধারণ সাধনা ও অনুপম সিদ্ধিকে জগতের অষ্টম আশ্চর্য বলিয়া উল্লেখ করা যাইতে পারে।’
গিরিশচন্দ্রের জন্ম তখনকার ঢাকা জেলা, বর্তমান নারায়ণগঞ্জ জেলার মহেশ্বরদি পরগনার পাঁচদোনা গ্রামে। নবাব আলিবর্দী খাঁর দেওয়ান দর্পনারায়ণ রায়ের বংশে তাঁর জন্ম। ফারসি ভাষা চর্চার জন্য এই বংশের সুনাম ছিল। পাঁচ বছর বয়সেই তাঁর হাতেখড়ি হয়েছিল। সাত বছর বয়সেই ফারসি ভাষা শিক্ষা আরম্ভ করেন। ইংরেজি শিক্ষার ব্যাপারে তাঁর অনীহা ছিল। ফলে ১৩-১৪ বছর বয়সে তাঁকে মুন্সি কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের কাছে ফারসি শিক্ষার ব্যবস্থা করা হয়। ১৮-১৯ বছর বয়সে তাঁকে তাঁর এক ভাই ময়মনসিংহে নিয়ে যান এবং ফারসি সাহিত্যে যাতে বুৎপত্তি লাভ করতে পারেন, সে জন্য একজন ভালো মওলানার হাতে তাঁকে তিনি তুলে দেন। সংসদ চরিতাভিধান-এর মতে, এরপর তিনি ময়মনসিংহ ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেটের কাছারিতে নকলনবিশের কাজ করতেন। কিন্তু সে কাজ তাঁর ভালো লাগত না। ১৮৭১ খ্রিষ্টাব্দে তিনি কেশবচন্দ্র সেন ও বিজয়কৃষ্ণের প্রভাবে ব্রাহ্মধর্মে দীক্ষা নেন এবং গ্রহণ করেন এই ধর্মের প্রচারকের ব্রত। সর্বধর্মসমন্বয়ে উৎসাহী ভাই গিরিশচন্দ্র কেশবচন্দ্রের আদেশে ইসলাম ধর্ম অনুশীলনে গভীরভাবে মনোনিবেশ করেন। আরবি ভাষা ও ইসলাম ধর্মশাস্ত্র অধ্যয়নের জন্য ১৮৭৬ খ্রিষ্টাব্দে তিনি লক্ষ্নৌ যান। এ সম্পর্কে তিনি তাঁর আত্মজীবনী আত্ম-জীবন-এ লেখেন, ‘মোসলমান জাতির মূল ধর্মশাস্ত্র কোরআন শরীফ পাঠ করিয়া এসলাম ধর্মের গূঢ়তত্ত্ব অবগত হইবার জন্য আমি ১৮৭৬ খৃঃ লক্ষ্নৌ নগরে আরব্যভাষা চর্চা করিতে গিয়াছিলাম।’ তখন তাঁর বয়স ছিল ৪২ বছর। তাঁর শিক্ষক ছিলেন ‘সুবিজ্ঞ’ বৃদ্ধ মৌলবি এহসান আলী। ‘আরব্য ব্যাকরণ এবং পারস্য দেওয়ান হাফেজের’ চর্চা করতেন তাঁর কাছে। মৌলবি এহসান আলী সাহেব গিরিশচন্দ্রকে অত্যন্ত ভালোবাসতেন। এরপর লক্ষ্নৌ থেকে আরবি ব্যাকরণের চর্চা শেষে কলকাতায় ফিরে আসেন। সেখানেও তিনি একজন মৌলবির কাছে আরবির পাঠ নিতেন নিয়মিত। পরে ঢাকায় এসে মৌলবি আলিমুদ্দিন সাহেবের কাছ থেকে আরবের ইতিহাস ও সাহিত্যের পাঠ নেন। এ সময়ই গিরিশচন্দ্রের কোরআন শরিফ পাঠের আকাঙ্ক্ষার প্রকাশ ঘটে। কিন্তু অন্য ধর্মে বিশ্বাসী বলে এই পবিত্র ধর্মগ্রন্থ তাঁর পক্ষে সরাসরি সংগ্রহ করা সম্ভব ছিল না। ফলে তিনি ‘ঢাকা নগরস্থ সমবিশ্বাসী বন্ধু’ মিঞা জালালউদ্দিনের মাধ্যমে একখানা কোরআন সংগ্রহ করতে সক্ষম হন। তাঁর আত্ম-জীবন-এ তিনি এ সম্পর্কে লিখেছেন, ‘এরপর আমি তফসির ও অনুবাদের সাহায্যে পড়িতে আরম্ভ করি। যখন আমি তফসিরাদির সাহায্যে আয়াত সকলের প্রকৃত অর্থ কিছু কিছু বুঝিতে পারিলাম, তখন তাহা অনুবাদ করিতে প্রবৃত্ত হইলাম।’
কোরআন শরিফ-এর বাংলায় অনুবাদের কাজটা মূলত শুরু হয় ১৮৮১ সালের শেষভাগ থেকে। গিরিশচন্দ্র তখন ময়মনসিংহ শহরে বসবাস করতেন। অল্প অল্প করে অনুবাদ করে তা খণ্ডে খণ্ডে প্রকাশ করতে থাকেন। আত্ম-জীবন-এ এর বিবরণ দিয়ে তিনি আরও জানাচ্ছেন, ‘শেরপুরস্থ চারুযন্ত্রে প্রথম খণ্ড মুদ্রিত হয়, পরে কলকাতায় আসিয়া খণ্ডশঃ আকারে প্রতিমাসে বিধানযন্ত্রে মুদ্রিত করা যায়। প্রায় দুই বছরে কোরআন সম্পূর্ণ অনুবাদিত ও মুদ্রিত হয়। পরিশেষে সমুদয় এক খণ্ডে বাঁধিয়া লওয়া যায়। প্রথমবারে সহস্র পুস্তক মুদ্রিত হইয়াছিল, তাহা নিঃশেষিত হইলে পরে ১৮৯৮ সালে কলকাতা দেবযন্ত্রে তাহার দ্বিতীয় সংস্করণ হয়। দ্বিতীয়বারের সহস্র পুস্তকও নিঃশেষিত প্রায়। এখন (১৯০৬ খ্রি.) সংশোধিত আকারে তাহার তৃতীয় সংস্করণের উদ্যোগ হইতেছে।’
অবশ্য একজন ভিন্ন ধর্মমতের ব্যক্তিপুরুষ পবিত্র কোরআন শরিফ অনুবাদ করায় তখনকার মুসলমান সমাজের একটি ক্ষুদ্র অংশ যে ক্ষুব্ধ ও ক্রোধান্বিত হয়নি, তা নয়। হয়েছিল। কেশবচন্দ্র তাদের সেই ক্রোধের বহিঃপ্রকাশে দুঃখ পেয়েছিলেন এবং মুসলমান সমাজের প্রতি তাঁর সর্বধর্মসমন্বয়বাদের মন্ত্র ও আদর্শের পক্ষে সুদৃঢ় অভিমত তুলে ধরেছিলেন। বাংলায় পবিত্র কোরআন শরিফ-এর অনুবাদের ঘটনায় তিনি অপরিসীম আনন্দ পেয়েছিলেন।
তবে শিক্ষিত ও উদার স্বাধীনচেতা মুসলমানদের বৃহত্তর অংশ গিরিশচন্দ্র সেনের বাংলা অনুবাদে পবিত্র কোরআন শরিফ পেয়ে যে প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছিল, এক অর্থে তা অভাবিত ও অভূতপূর্ব। তখনকার কলকাতা মাদ্রাসার ভূতপূর্ব আরবি শিক্ষক আহমদউল্লা এবং আরও কিছু আলেম-উলেমা অনুবাদকের উদ্দেশে ইংরেজিতে যে চিঠি লিখেছিলেন, বাংলায় তার কিছু অংশ উদ্ধৃত করা হলো। তাঁরা বলেছিলেন, ‘আমরা বিশ্বাসে ও জাতিতে মোসলমান। আপনি নিঃস্বার্থভাবে জনহিত সাধনের জন্য যে এতাদৃশ চেষ্টা ও কষ্টসহকারে আমাদিগের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কোরআনের গভীর অর্থ প্রচারে সাধারণের উপকার সাধনে নিযুক্ত হইয়াছেন, এজন্য আমাদিগের অত্যুত্তম ও আন্তরিক বহু কৃতজ্ঞতা আপনার প্রতি দেয়।
‘কোরআনের উপরিউক্ত অংশের অনুবাদ এতদূর উৎকৃষ্ট ও বিস্ময়কর হইয়াছে যে, আমাদিগের ইচ্ছা, অনুবাদক সাধারণসমীপে স্বীয় নাম প্রকাশ করেন। যখন তিনি লোকমণ্ডলীর এতাদৃশ উৎকৃষ্ট সেবা করিতে সক্ষম হইলেন, তখন সেই সকল লোকের নিকটে আত্মপরিচয় দিয়া তাহার উপযুক্ত সম্ভ্রমলাভ করা উচিত।’
উল্লেখ করা যেতে পারে, পবিত্র কোরআন শরিফ ভাই গিরিশচন্দ্র অনুবাদ করেছিলেন নিজের নামস্বাক্ষরহীনভাবে। যখন তিনি তাঁর কাজের স্বীকৃতি পেলেন, প্রশংসা পেলেন এবং সেটা স্বয়ং মুসলমান সমাজের কাছ থেকে, তখন তিনি স্বনামে তা প্রকাশ করলেন। এবং এ সম্পর্কে নিজের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে ‘অনুবাদকের বক্তব্যে’ বললেন, ‘আজ কোরআনের অনুবাদ সমাপ্ত দেখিয়া আমার মনে যুগপৎ হর্ষ-বিষাদ উপস্থিত। হর্ষ এই যে, এতকালের পরিশ্রম সার্থক হইল। বিষাদ এই যে, ইহার প্রথমাংশ শ্রীমদাচার্য কেশবচন্দ্র সেনের করকমলে অর্পণ করিয়াছিলাম; তিনি তাহা পাইয়া পরমাহ্লাদিত হইয়াছিলেন ও তাহার সমাপ্তি প্রতীক্ষা করিতেছিলেন; শেষাংশ আর তাহার চক্ষুর গোচর করিতে পারিলাম না। ঈশ্বর তাহাকে আমাদের চক্ষুর অগোচর করিলেন। তিনি এই অনুবাদের এরূপ পক্ষপাতী ছিলেন যে, তাহার নিন্দা কেহ করিলে সহ্য করিতে পারিতেন না। আজ অনুবাদ সমাপ্ত দেখিলে তাহার কত না আহ্লাদ হইত, দাসও তাহার কত আশীর্বাদ লাভ করিত।’
এর পর থেকে তিনি মুসলমান ধর্ম বিষয়ে তাঁর অধ্যয়ন ও অনুবাদের পরিধি ক্রমাগত বাড়িয়ে চললেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি আরবি ও ফারসি থেকে হাদিসসহ মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.), খলিফাবৃন্দ, মুসলমান মনীষীবর্গের জীবনীসহ অন্য বহু বিষয়ে মোট ৪২টি গ্রন্থ বাংলায় রচনা ও প্রকাশ করেন।
এর পর থেকে বাংলার মুসলমান সমাজে যাতে গিরিশচন্দ্রের বাংলায় অনূদিত কোরআন শরিফ বহুল পরিমাণে বিক্রি, প্রচার ও আদৃত হয়, তার জন্যও চেষ্টা করেছিলেন তাঁর অনেক মুসলমান বন্ধু ও শুভানুধ্যায়ী। বাংলা ১২৮৮ সনের ৬ ফাল্গুন আবুয়ল্ মজফ্র আবদুল্লাহ নামের একজন ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি পত্র মারফত অনুবাদককে জানান, ‘মহাশয়ের বাংলা ভাষায় অনুবাদিত কোরআন শরিফ দুই খণ্ড উপহার প্রাপ্ত হইয়া অতি আহ্লাদের সহিত পাঠ করিলাম। এই অনুবাদ আমার বিচেনায় অতি উত্তম ও শুদ্ধরূপে টীকাসহ হইয়াছে। আপনি তফসীর হোসেনী ও শাহ আবদুল কাদেরের তফসীর অবলম্বন করিয়া যে সমস্ত টীকা লিখিয়াছেন এজনের ক্ষুদ্র বিদ্যাবুদ্ধিতে পর্যন্ত বুঝিতে পারিয়াছি, তাহাতে বোধ করি যে, এ পর্যন্ত কোরআন শরীফের অবিকল অনুবাদ অন্য কোনোও ভাষাতেই করা হয় নাই, এবং আমি মনের আহ্লাদের সহিত ব্যক্ত করিতেছি যে, আপনি যে ধর্ম্ম উদ্দেশ্যে যার পর নাই পরিশ্রম স্বীকার করিয়া এই অনুবাদ করিয়াছেন, ইহার ফল ঈশ্বর আপনাকে ইহ ও পরকালে প্রদান করুন।’
এবং ১৯৩৬ সালে যখন ভাই গিরিশচন্দ্রের কোরআন শরিফ-এর চতুর্থ সংস্করণ কলকাতা থেকে বের হচ্ছে, তার ভূমিকায় মাওলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁ অকপটে লিখেছেন, ‘...তখন আরবি-পারসি ভাষায় সুপণ্ডিত মোছলমানের অভাব বাংলাদেশে ছিল না। তাঁহাদের মধ্যকার কাহারও কাহারও যে বাংলা সাহিত্যের উপরও যথেষ্ট অধিকার ছিল তাঁহাদের রচিত বা অনুবাদিত বিভিন্ন পুস্তক হইতে তাহার অনেক প্রমাণ পাওয়া যায়। কিন্তু এদিকে মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ তাহাদের একজনেরও ঘটিয়া উঠে নাই।’ পরিশেষে অনূদিত এই কোরআন শরিফ সম্পর্কে তাঁর সেই অবিস্মরণীয় মন্তব্য, ‘গিরিশচন্দ্রের এই অসাধারণ সাধনা ও অনুপম সিদ্ধিকে জগতের অষ্টম আশ্চর্য বলিয়া উল্লেখ করা যাইতে পারে।’
মহীয়সী বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনও (১৮৮০-১৯৩২) যারপরনাই খুশি হন বাংলায় পবিত্র কোরআন শরিফ-এর অনুবাদে। গিরিশচন্দ্রকে তিনি ‘মোসলমান ব্রাহ্ম’ বলে উল্লেখ করেছেন নিঃসংকোচে। গিরিশচন্দ্র তাঁর আত্মজীবনীতে তাঁদের দুজনের সম্পর্ক বিষয়ে লিখতে গিয়ে বলেছেন, ‘তাঁহার (রোকেয়ার) সঙ্গে আমার মাতৃপুত্র সম্বন্ধ স্থাপিত। সেই মনস্বিনী মহিলা উক্ত ঘনিষ্ঠতার পরিচয় নিজেই প্রদান করিয়া থাকেন। তিনি আমাকে পত্রাদি লিখিতে পত্রে নিজের নাম না লিখিয়া নামের পরিবর্তে “মা”, “আপনার স্নেহের মা” বলিয়া স্বাক্ষর করিয়া থাকেন।’
বাংলায় প্রথম কোরআন শরিফ এবং মুসলমান মনীষী ও তাঁদের অন্যান্য সাহিত্যকর্ম অনুবাদের কল্যাণে তিনি বাংলার মুসলমান সমাজে এতদূর জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন যে, তাঁকে ‘মৌলবি’ ও ‘ভাই’ গিরিশচন্দ্র অভিধায় অভিহিত করা হতো। সে সময়কার মুসলমান সমাজের পত্রপত্রিকা ও সাময়িকীতে তাঁর জীবনীও ছাপা হয়েছে সবিস্তারে। এমন কী তাঁর মৃত্যুর পর শবানুগমন করেছিলেন ব্রাহ্ম ও মুসলমান সমাজের লোকজন সমভাবে।
গিরিশচন্দ্র সেনকে আমরা ‘মৌলবি’ কিংবা ‘ভাই’, যে বিশেষণেই বিশেষায়িত করি না কেন, বাংলার ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসে হিন্দু ও মুসলমান—এই দুই বৃহৎ ধর্মসম্প্রদায়ের মধ্যে সমন্বয়গত সেতুবন্ধনে যে সবিশেষ ভূমিকা রেখেছিল তাঁর বাংলায় অনূদিত পবিত্র কোরআন শরিফ, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, কোরআন শরিফ-এর সেই অনুবাদ-কর্মের কাল সোয়া শ বছর পেরিয়ে গেছে খুবই নীরবে। কেউ কিছু লেখেননি। আমরা কি জাতি হিসেবে এতই কৃপণ, অনুদার এতটাই!

Friday, March 9, 2012

প্রযুক্তির ৫ উদ্ভাবন

তরুণদের তৈরি অনেক প্রযুক্তি প্রকল্প মাঝেমাঝেই চমকে দেয় আমাদের। সম্প্রতি শেষহওয়া বেসিসের সফটওয়্যার মেলাতেও দেখা গেল এমন কিছু প্রকল্প।যেগুলো ছিল ‘আবিষ্কারের খোঁজে ২০১২’ প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত বাছাই। সেগুলোর পাঁচ প্রকল্প নিয়ে লিখেছেন ইমাম হাসান

অ্যানিমেশন তৈরির সহজ কাণ্ডারি
হাসিনুর রহমান, মোয়াজ্জেম হোসেন, সাফায়াতুল ইসলাম ও শুভ্র সরকার—এই চার তরুণের হাতেই উদ্ভাবন প্রযুক্তিটার। চারজনই কাজ করছেন একটি অ্যানিমেশন তৈরির প্রতিষ্ঠানে।নিজেদের কাজে নিত্যদিন যেসব সমস্যা চোখে পড়ে, তা নিয়ে আলোচনা করেন তাঁরা। সেই সঙ্গে এ দেশের অ্যানিমেশন প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে কী কী করার আছে, তা নিয়েও চলে নিজেদের মধ্যে আলোচনা। শুধু আলোচনা থেকে বাইরে এসে কিছু করার আগ্রহ জন্মে চারজনেরই। তার পর থেকেই কাজ শুরু করেন তাঁরা। শুরুতে নিজেদের কাজের সুবিধার কথা ভেবেই ধারণাটা নিয়ে বসেন। চার তরুণের কাছেই জানা গেল, বিদেশি সফটওয়্যারগুলো ব্যবহার করে অ্যানিমেশন ছবি বানাতে লাখ লাখ টাকা দরকার। তা ছাড়া সময় লাগে প্রায় বছর খানেক। যে কারণে বাংলাদেশে অ্যানিমেশন মুভি বানাতে আগ্রহী লোক কম। শুভ্র সরকার বলেন, ‘বাংলাদেশে অ্যানিমেশন জনপ্রিয় করতে চাইলে এর উন্নয়নে দরকার আধুনিক যন্ত্রপাতি, যা বিদেশ থেকে আনতে হয় বলে প্রচুর টাকা ও সময় লাগে। এসব দিক বিবেচনা করেই কাজে হাত দিই আমরা।’ কাজও এগিয়ে নেন। প্রস্তুত করেন এমন একটি সফটওয়্যার, যা কিনা আধুনিক অ্যানিমেশন তৈরিতে পারদর্শী। তাঁদের তৈরি ‘অ্যাফোর্ডেবল মার্কার লেস মোশন ক্যাপচার সলিউশন’ সরাসরি মানুষের কঙ্কাল শনাক্ত করে সম্পূর্ণ শরীর নাড়াতে সক্ষম। এ ছাড়া অ্যানিমেশন করতে আলাদা কোনো পোশাকেরও দরকার হবে না, যা অ্যানিমেশন করতে প্রচলিত সময়ের চেয়ে কয়েক গুণ কম সময় নেয়। খরচও হাতের নাগালে। সফটওয়্যারটি তৈরির পর লোকজনের ফিডব্যাকের জন্যই আবিষ্কারের খোঁজে প্রতিযোগিতায় আসা। সেখানেই আসে প্রথম রানার আপের পুরস্কার।

না দেখেই বই পড়া
‘এমন যদি হতো যে না দেখেই বই পড়া যেত। তাহলে বিশেষ করে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য লেখাপড়া আরও সহজ হয়ে যেত। কারণ, তারা চোখে দেখতে না পারায় আর দশজন সাধারণ শিক্ষার্থীর মতো সহজে পড়তে পারে না। এ জন্য অন্যের সাহায্য দরকার পড়ে। তাঁদের এই কষ্ট দূর করতেই বুদ্ধিটা মাথায় আসে। কাজ শুরু করি। বছর দুই আগে তৈরি করি অনলাইন গ্রন্থাগারের এই সাইটটা। এবারে অংশ নিই আবিষ্কারের খোঁজে। তারপর তো সেরা দশে চলে এলাম।’ বলছিলেন আছিয়া খালেদা। আছিয়ার ওয়েবসাইটে দেশের শিক্ষাব্যবস্থার ওপর ভিত্তি করে প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষার বইগুলো রাখা হয়েছে। দুটি পদ্ধতিতে বইগুলো পড়া যাবে। ব্রেইল পদ্ধতির বইগুলো নামিয়ে নেওয়া (ডাউনলোড) যাবে। তা ছাড়া আরেকটি পদ্ধতি হচ্ছে টকিং বুক, যা খুললেই নিজে নিজে পড়ে শোনাবে পাঠককে। অর্থাৎ পাঠক তখন হয়ে যাবেন শ্রোতা। তা ছাড়া সারা বিশ্বে দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের সব খোঁজখবর নিয়মিত পাওয়া যাবে এই সাইটে। এখানে ব্লগের মাধ্যমে দৃষ্টি প্রতিবন্ধীরা নিজেদের মতামত প্রকাশ করতে পারবে। আছিয়া খালেদা বললেন, ‘এবার দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের নিয়ে কাজ করেছি। আগামীতে অন্য প্রতিবন্ধীদের উন্নয়নে কাজ করার ইচ্ছা আছে।’

কোন রোগে কী দাওয়াই
কোন রোগের জন্য কোন ওষুধ খেতে হবে, তা আপনিও বলে দিতে পারেন। বাংলাদেশের কোন কোন প্রতিষ্ঠান কোন কোন ওষুধ সরবরাহ করে, এই কৌতূহল মেটাতে পারেন ঘরে বসেই। ইন্টারনেটে একটি ওয়েবসাইটে বসেই পাওয়া যাবে রোগ আর পথ্যের সব আদ্যোপান্ত। আর ওয়েবসাইটটি তৈরি করেছেন পাঁচ ফার্মাসিস্ট বন্ধু। তাঁরা হলেন সায়হাম আহমেদ বীন হালিম, নাজমুল হাসান, আজহারুল ইসলাম, মেজবাউল গাফফার ও মাহবুবুর রহমান।
যেখানে পাওয়া যাবে রোগ আর ওষুধের প্রায় সব ধরনের তথ্য। সফটওয়্যার মেলায় প্রদর্শন করা হয় এই ওয়েবসাইট। ইতিমধ্যে প্রায় ৫০০ সদস্য হয়ে গেছে সাইটটির। জনপ্রিয়তা বাড়ছে প্রতিদিনই। সাইটটি সম্পর্কে সায়হাম বলেন, ‘আমরা চেয়েছি এই সাইটটা যাতে করে সত্যি সত্যি মানুষের কাজে লাগে। আর তাই আমরা এর ব্যাপ্তি বাড়াচ্ছি প্রতিদিন। এটি একটি স্বাস্থ্যসেবার ওয়েবসাইট।’
কোন ওষুধের নাম কী, সেটি কোন নিয়মে বানানো, কোন কোম্পানির ওষুধ—এসবই জানা যাবে এখানে। মেডিকেল ক্লাসিফিকেশনের মাধ্যমে ওষুধগুলোকে ভাগ করা আছে। এ ছাড়া আপনি যে ওষুধটি খাচ্ছেন, তার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া কী, জানা যাবে এখানে। কোন ওষুধ খেলে কী বাদ রাখবেন, তা জানতে পারা যাবে এখানে। আর এগুলো জানতে হলে আপনাকে নিবন্ধন করতে হবে বিডিড্রাগস ডটকমে। নিবন্ধন একেবারে বিনা মূল্যে। সারা দেশে হাসপাতালের তালিকা, ঠিকানা ও ফোন নম্বর পাওয়া যাবে এখান থেকে। এ ছাড়া স্বাস্থ্য দিবসে এখানে পড়তে পারেন বিশেষ কোনো রোগ ও এর আদ্যোপান্ত। পাওয়া যাবে স্বাস্থ্যবিষয়ক চাকরির খোঁজখবর। কোন ওষুধ কোন বাজারে গেলে সহজে পেতে পারেন, তার একটি তালিকা অচিরেই প্রকাশ পাচ্ছে এখানে।

কথায় চলেরোবট
এটি একটি স্মার্ট মোবাইল রোবট। চাইলে সামরিক গোয়েন্দা রোবটের কাজে একে ব্যবহার করা সম্ভব। বিপজ্জনক এবং দুর্গম এলাকায় রোবটটি কাজ করতে পারবে কোনো মানুষ ছাড়াই। মোবাইল ফোনে কথার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে তাকে। একইভাবে রোবটের সঙ্গে থাকা ভিডিও ক্যামেরার মাধ্যমে সেখানকার ছবিও দেখা সম্ভব। যেহেতু এটি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে তাই মোবাইলের ফোনের নেটওয়ার্ক আছে এমন যেকোনো দূরত্বে কাজ করতে পারবে রোবটটি। রোবটটিতে তথ্য প্রক্রিয়া করার জন্য এআরএম প্রসেসর এবং যোগাযোগব্যবস্থার জন্য জিএসএম, জিপিআরএস ও জিপিএস প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানান ফিরোজ আহমেদ। কথা শণাক্ত করার (ভয়েজ ডিটেকশন) প্রযুক্তিটি চাইলে রোবট বাদে হুইল চেয়ারে সেট করা সম্ভব। তখন এটি হুইল চেয়ার ব্যবহারকারীর অন্য কারও সাহায্য ছাড়াই নিজের কথার মাধ্যমে এটি চালাতে পারবে। এর বাইরেও অন্য অনেক কমান্ড শিখিয়ে দিলে রোবটটি ঠিকমতো তা সম্পন্ন করতে পারবে। বাসার নানা কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে রোবটটি। ছোটবেলা থেকেই রোবটের প্রতি আলাদা আগ্রহ ফিরোজ আহমেদের। বেশ কিছু রোবট বানিয়েছেন বিভিন্ন সময়ে। তাঁর রোবটের খবর প্রচার করেছে বিবিসি, সিএনএন বা রয়টার্সের মতো সংবাদমাধ্যম। বিভিন্ন সময়ে রোবট বানিয়ে তা কীভাবে মানুষের নানা কাজে লাগতে পারে তা নিজে ভাবেন। তবে এবারের রোবটটি নিয়ে ফিরোজ আহমেদ বলেন, ‘ছোট শিশুদের দেখাশোনা করতে বাসায় এমন একটি রোবটই যথেষ্ট। এমনকি বাচ্চাটির কান্না যদি তাকে শিখিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে শিশুটি কেঁদে উঠলেই রোবট নিজে ফোন করে তা জানিয়ে দেবে। আপনি ফোনটি রিসিভের পর কথা বলে রোবটটি চালিয়ে দেখতে পারবেন বাচ্চাটি কেমন আছে।’ এমন নানা সুবিধা দিতে পারবে রোবটটি।
আবিষ্কারের খোঁজে প্রতিযোগিতায় রোবটটি তাই জিতে নিয়েছে চ্যাম্পিয়ন পুরস্কার।

আপনার হয়ে যন্ত্র বলবে কথা
নিজের মনের ভাব অন্যকে বোঝাতে কথা বা ভাষা ব্যবহার করি আমরা। কিন্তু যাঁরা কথা বলতে পারেন না, তাঁরা যেমন নিজেদের বোঝাতে পারেন না, তেমনি অনেক সময় অন্যকেও বোঝাতে পারেন না। এমনই বাকপ্রতিবন্ধী বা বয়স্ক ব্যক্তির যোগাযোগ সহজ করে দিতেই টকিং অ্যাসিস্ট্যান্ট। যে যন্ত্রটি ব্যবহার করে তাঁরা সহজেই অন্যের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তুলতে পারেন। নিজের কাজ সহজ করতে তাঁদের একটি বাটন চাপাই যথেষ্ট। তাঁর কথাটি অন্যকে জানিয়ে দেবে যন্ত্র নিজেই। আর অভিনব এই যন্ত্রটি উদ্ভাবন করেছেন বজলুর রহমান। নিজে কাজ করছেন একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থাপক হিসেবে।
বজলুর রহমান বলেন, ‘যন্ত্রটিতে রয়েছে বেশ কিছু বাটন, যেখানে দৈনন্দিন কাজে দরকারি কথা ছাড়াও অন্যের সঙ্গে সাধারণ যোগাযোগের নানা কথা সংরক্ষিত আছে। ব্যবহারকারী নিজের ইচ্ছামতো বাটন চাপ দিয়ে অন্যকে তাঁর প্রয়োজনটি সহজে বোঝাতে পারবেন। কথা বলতে না পারা অসহায় মানুষের কথা ভেবেই এমন যন্ত্রের চিন্তা মাথায় আসে। অন্যের কাজে লাগলেই আমার আবিষ্কার সার্থক হবে বলে মনে করি।’ বাংলা ভাষায় তৈরি এ যন্ত্রটিতে সংরক্ষিত কথা ছাড়াও নিজের প্রয়োজনীয় কথাগুলো সংযোজন করে দেওয়া যাবে। সঙ্গে যন্ত্রটির এলসিডি ডিসপ্লেতে ডিভাইস উচ্চারিত বাক্যটি দেখা যাবে।

Wednesday, August 17, 2011

 মুশফিক-বীরত্বের পরও সিরিজ হাতছাড়া


সিরিজে বাকি আরও দুটি ম্যাচ। তবে এর আগেই ৩-০ করে ফেলল স্বাগতিক জিম্বাবুয়ে! আর ব্যাটে-বলে সমানতালে ব্যর্থ হয়ে বাংলাদেশ করল সিরিজ হাতছাড়া।
ঘুরে দাঁড়ানো হলো না সাকিব আল হাসানদের। ৪ উইকেট, ৭ উইকেটের পর আজ তৃতীয় ওয়ানডেতে বাংলাদেশের হার ৫ রানে। সিরিজ হাতছাড়া হওয়ায় এখন বাংলাদেশ দলের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ‘হোয়াইটওয়াশ’ ঠেকানো!
১০০ বলে ১০১ রান—৮ চার, ১ ছয়। বীরোচিত ইনিংস খেলে বাংলাদেশকে জয়ের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গিয়েছিলেন মুশফিকুর রহিম। তবে নায়কের বদলে এখন উল্টো মুশফিককে ‘খলনায়ক’ বলেও আখ্যায়িত করতে পারেন অনেকে! ৫ বলে প্রয়োজন ছিল মাত্র ৬ রান। হাতে শুধু একটি উইকেট। এ অবস্থায় কী দরকার ছিল ওভাবে তুলে মারার? তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে মুশফিক ক্যাচ-আউট হলেন—অলআউট হয়ে গেল বাংলাদেশও!
প্রথম দুই ম্যাচে দলের হার ডেকে এনেছিলেন ব্যাটসম্যানরা, ১৮৪ ও ১৮৮ রানে অলআউট হয়ে। আজ হার ডেকে আনার দায়িত্বটা যেন পড়েছিল বোলারদের ওপর! বাংলাদেশি বোলারদের চোখরাঙিয়ে মাসাকাদজা করলেন ৭৪ রান, টাইবু খেললেন ৮৩ রানের ইনিংস। এই দুই ব্যাটসম্যানের ব্যাটের ওপর ভর করে জিম্বাবুয়ের সংগ্রহ দাঁড়াল ২৫০! জিম্বাবুয়ের সফরে গিয়ে অসহায় সাকিব-তামিমদের কাছে সংগ্রহটা বিস্ময়েরই বটে!
হতাশার মধ্যেও ব্যাটসম্যানদের ধন্যবাদ না দিয়ে উপায় নেই। উদ্বোধনী জুটিতে এলো ৫০ রান। প্রথম দুই ম্যাচে ৪ ও ৩ করা তামিম ইকবাল খেললেন ৪৪ রানের ইনিংস। আশরাফুলের জায়গায় খেলতে আসা শুভাগত হোম অভিষেক ম্যাচে করলেন ৩২ রান। মুশফিকুর রহিম সেঞ্চুরি করলেন। কম কীসে!
সংক্ষিপ্ত স্কোর—
জিম্বাবুয়ে: ২৫০/৭ (৫০ ওভার)
টাইবু ৮৩, মাসাকাদজা ৭৪
রুবেল ৪১/২, সাকিব ৪৬/২
বাংলাদেশ: ২৪৫/অলআউট (৪৯.২ ওভার)
মুশফিক ১০১, তামিম ৪৪
উেসয়া ৪৭/৩, পোফু ৪৩/২, জারভিজ ৫২/২

Tuesday, August 9, 2011

এই পরাজয়ে বড় লজ্জা

জিম্বাবুয়ে: ৩৭০ ও ২৯১/৫ (ডিক্লে.)
বাংলাদেশ: ২৮৭ ও ২৪৪
ফল: জিম্বাবুয়ে ১৩০ রানে জয়ী

বড় সিরিজ-টিরিজ জিতলে শ্যাম্পেনে ভেজেন খেলোয়াড়েরা। নিজেদের দেশে খেলা হলে ল্যাপ অব অনারও দেয় কখনো কখনো। কিন্তু এক টেস্ট জিতেই?
হারারে টেস্টে জয়ের পর জিম্বাবুইয়ান খেলোয়াড়েরা শ্যাম্পেনে ভিজলেন। জাতীয় পতাকা গায়ে জড়িয়ে দিল ল্যাপ অব অনারও। টেস্ট ক্রিকেটে ব্যতিক্রমী আরেকটি ব্যাপারও ঘটল। খেলোয়াড়দের সবার গলায় পরিয়ে দেওয়া হলো স্বর্ণপদক।
এমনিতেই জিম্বাবুয়ের কাছে টেস্ট জয় মহার্ঘ্য এক ব্যাপার। ৮৪তম টেস্টে এটি মাত্র নবম জয়। শ্যাম্পেন-ল্যাপ অব অনার-স্বর্ণপদক এসবের কারণ অবশ্য অন্য। এটি তো শুধুই একটি টেস্ট জয় নয়। পাকিস্তান ও ভারতের বিপক্ষেও তো টেস্ট জিতেছে জিম্বাবুয়ে। সে সবকেও ছাপিয়ে গেছে বাংলাদেশের বিপক্ষে এই জয়। সাবেক অধিনায়ক ও বর্তমান প্রধান নির্বাচক অ্যালিস্টার ক্যাম্পবেল যেমন বললেন, ‘অনেক নিদ্রাহীন রাতের পর এই জয়।’
নিদ্রাহীন রাতের সঙ্গে ছিল অনেক লজ্জা, অনেক অপমানও। বর্ণবাদের কারণে দক্ষিণ আফ্রিকার নিষিদ্ধ হওয়া বাদ দিলে ক্রিকেট ইতিহাসে আর কোনো দেশের টেস্ট খেলার অধিকার কেড়ে নেওয়ার ঘটনা নেই। সাড়ে ছয় বছরের নির্বাসন শেষে জয় দিয়ে প্রত্যাবর্তন। জিম্বাবুইয়ান ক্রিকেটে কাল ছিল উ ৎ সবের দিন।
আর বাংলাদেশের ক্রিকেটে? অপমানের দিন। লজ্জার দিন। টেস্ট ক্রিকেট জিনিসটা কেমন প্রায় ভুলে যাওয়া সাতজনের সঙ্গে আনকোরা চারজনের এক দলের কাছে ১৩০ রানে পরাজয়টা যদি ‘লজ্জা’ নয় তো কী!’
খেলায় জয়-পরাজয় থাকেই। লজ্জা শব্দটা তখনই আসে, যখন পরাজয়টা এমন প্রতিরোধহীন আত্মসমর্পণ হয়। সেই প্রথম দিন থেকেই এই টেস্ট ম্যাচে জিম্বাবুয়ে শ্রেয়তর দল। এর সবকিছুকে তা ৎ পর্যহীন প্রমাণ করার সুযোগ হয়ে এসেছিল পঞ্চম ও শেষ দিনটি। অথচ সেদিনই সবচেয়ে করুণ চেহারায় দেখা দিল বাংলাদেশ দল। বাংলাদেশের ক্রিকেটও কি নয়!
হাতে ৭ উইকেট নিয়ে ২৬৩ রান। খুব সহজ নয়। কিন্তু পঞ্চম দিনের সঙ্গে বেমানান ব্যাটিং-উইকেট এটিকে অসম্ভব মনে করতে দিচ্ছিল না। দাবি ছিল একটাই, ব্যাটসম্যানদের একটু বিচারবুদ্ধি প্রয়োগ করে খেলা। আর একটা অবশ্যপালনীয় নিয়মের কথা মনে রাখা। তা হলো, বড় স্কোর তাড়া করতে হলে পার্টনারশিপ চাই। আর চাই প্রতি ঘণ্টা, প্রতিটি সেশন শেষে পরিস্থিতি বিবেচনা করে সে অনুযায়ী ব্যাটিং করা। এমন কোনো মহাকাশবিজ্ঞান নয়, খুবই সাধারণ ক্রিকেট-জ্ঞানের কথা।
অথচ লাঞ্চের মিনিট পনেরো পরে শেষ হয়ে যাওয়া টেস্ট ম্যাচ নিয়ে আলোচনাটাই কেমন হাস্যকর লাগছে! কাল বাংলাদেশের ইনিংস স্থায়ী হলো মাত্র ২৭.৩ ওভার। সবচেয়ে বড় পার্টনারশিপ ৫০ রানের। সেটি যখন, জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের লোকজন তখন পুরস্কার বিতরণীর প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। আবদুর রাজ্জাক ব্যাটসম্যানদের ওপর রেগে গিয়েই কিনা হঠা ৎ ‘জয়াসুরিয়া’ হয়ে গেলেন। রাজ্জাকের ১৭ বলে পাঁচ চার ও তিন ছয়ে ৪৩ রানের ইনিংসটির কল্যাণেই অষ্টম উইকেটে ওই ফিফটি পার্টনারশিপ।

রাজ্জাকের ব্যাটিং দেখে এটি টেস্ট না ওয়ানডে, বোঝা যাচ্ছিল না। তবে সেই ধন্দে কি অন্যরাও ফেলেননি? মোহাম্মদ আশরাফুল ও মুশফিকুর রহিম ছাড়া আর কারও ব্যাটেই তো টেস্টের মেজাজ খুঁজে পাওয়া গেল না। টেস্টের মেজাজ মানে শুধু ঠেকিয়ে যাওয়া নয়, বল বুঝে একটু কম ঝুঁকি নিয়ে খেলা। অথচ সাকিব আল হাসান ও মাহমুদউল্লাহর ব্যাটিং দেখে কেউ ভুল করে ভাবতেই পারতেন, বুঝি ওয়ানডে ম্যাচের পাওয়ার প্লে চলছে!
১৬৭ রানে ৫ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর নেমেছেন সাকিব। ওই পরিস্থিতিতে বড় একটা পার্টনারশিপ হলে তবেই জয়ের কথা ভাবনায় আসবে। এর আগ পর্যন্ত উইকেট না দেওয়াটাই হবে ধ্যানজ্ঞান। অথচ সাকিব সদর্পে জানালেন, ড্রয়ের কথা তিনি মাথায়ই আনেননি!
আত্মবিশ্বাস ভালো। তবে আত্মবিশ্বাস আর ঔদ্ধত্যের মাঝখানে সীমারেখা, সেটি পেরিয়ে গেলে বড় বিপদ হয়। কখনো কখনো তা টেনে আনে বড় লজ্জাও। যেমন আনল কাল। জিম্বাবুয়ে দল যখন আনন্দে মত্ত, বাংলাদেশের খেলোয়াড়েরা অধোবদন দর্শক। লাউড স্পিকারে উচ্চ স্বরে বাজছে জিম্বাবুইয়ান গান। আর বাংলাদেশ দলের সীমানা ছাড়িয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেট ঘিরে যেন রবীন্দ্রনাথের নৃত্যনাট্যে চিত্রাঙ্গদার গ্লানিময় আক্ষেপ—লজ্জা লজ্জা হায় এ কী লজ্জা, মিথ্যা রূপ মোর মিথ্যা সজ্জা...

Thursday, April 14, 2011

পরাজয়েও দর্শকের প্রাপ্তি বি নোদন

অস্ট্রেলিয়া: ৫০ ওভারে ৩৬১/৮
বাংলাদেশ: ৫০ ওভারে ২৯৫/৬
ফল: অস্ট্রেলিয়া ৬৬ রানে জয়ী

মিরপুর স্টেডিয়াম অনেকটা বিশ্বকাপের চেহারায় ফিরে গেল কাল। গ্যালারি প্রায় পূর্ণ। জয়-পরাজয়ের কথা ভুলে শুধু খেলার মূল উদ্দেশ্যের কথা ভাবলে সেই দর্শকদের খুব একটা অভিযোগ থাকার কথা নয়। খেলার মূল উদ্দেশ্য বিনোদন। সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে দর্শকেরা ভালোই বিনোদিত হলো। এককথায় পয়সা উশুল।
সেই বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচের পর মিরপুরে খেলা মানেই রানের খরা। ব্যাটসম্যানদের প্রাণান্ত চেষ্টায় রান করা। অস্ট্রেলিয়া সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচও একটু ব্যতিক্রম ছিল। তবে বাংলাদেশের দর্শকদের সেটি উপভোগ করার মতো পরিস্থিতি ছিল না। প্রথম ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার ২৭০, দ্বিতীয় ম্যাচে ওয়াটসনের ছক্কা-বৃষ্টি। তৃতীয় ম্যাচে বাংলাদেশ দলও দর্শকদের কিছু আনন্দের উপলক্ষ দিতে পারল।
লো-স্কোরিং ওয়ানডেরও মজা আছে। তবে সেটির পূর্বশর্ত রোমাঞ্চকর সমাপ্তি। হাই-স্কোরিং ম্যাচে ফলাফল যা-ই হোক, দর্শকদের লাফালাফি করার প্রচুর সুযোগ থাকে। ১০০ ওভারে ৬৫৬ রান। ৬৩টি চার ও ১৪টি ছয়। কালকের দিবারাত্রির ম্যাচও তা সেই সুযোগ ভালোই করে দিল। ওয়ানডের জন্য চরমতম দুঃস্বপ্ন এক ইনিংস শেষেই ম্যাচ শেষ হয়ে যাওয়াটাও সেই আনন্দে খুব একটা বাদ সাধতে পারল না। ৬৬ রানের পরাজয়, কিন্তু বিশ্বকাপ স্বপ্নভঙ্গ ও সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে অসহায় আত্মসমর্পণ বিবেচনায় এটিকেও বলতে হচ্ছে দীর্ঘ আন্তর্জাতিক মৌসুমের স্মরণীয় সমাপ্তি!
উইকেট ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় রহস্যগুলোর একটি। মিরপুরের উইকেট আরও এককাঠি সরেস। এখানে উইকেট কখন যে কার দিকে তাকিয়ে হাসবে, সেটি দেব না জানন্তি। দ্বিতীয় ম্যাচে ওয়াটসনের ১৫ ছক্কার বিশ্ব রেকর্ডের পরও বাংলাদেশের খেলোয়াড়েরা বলছিলেন, ছক্কা মারতে পারলেই ব্যাটিং উইকেট হয়ে যায় না। উইকেট খুব ব্যাটিংবান্ধব ছিল না। তবে তৃতীয় ম্যাচের উইকেট ঠিকই ব্যাটসম্যানদের পরম বন্ধু হয়ে আবির্ভূত হলো। টসে জিতে সেই উইকেটে প্রথম ব্যাটিং করেই অস্ট্রেলিয়া ম্যাচের ফলাফল নিয়ে আলোচনা শেষ করে দিল।
জিততে হলে (!) বাংলাদেশকে করতে হতো ৩৬২ রান। ওয়ানডে ইতিহাসেই সাড়ে তিন শ রানের বেশি তাড়া করে জয়ের ঘটনা আছে মাত্র একটি। সেটি সর্বকালের সেরা চেজ—২০০৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার ৪৩৪ রান তাড়া করে দক্ষিণ আফ্রিকার জয়।
এই মিরপুরে রেকর্ডটা আরও নিরুৎসাহজনক। এখানে পরে ব্যাটিং করে সবচেয়ে বেশি রান করে জয়ের রেকর্ড ২৯৭ রান। সেটি বাংলাদেশেরই বিপক্ষে (২০১০ সালে ভারত)। ওয়ানডে ইতিহাস বা মিরপুর মাঠের রেকর্ডের আগে অবশ্য অস্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশ দ্বৈরথের রেকর্ডটা দেখা উচিত। বাংলাদেশের একটিই জয়। সেটি ২৪৯ রান তাড়া করে। ২০০৫ সালে কার্ডিফের সেই অবিস্মরণীয় ম্যাচে।
সেই রেকর্ডকে ১১২ রান বাড়িয়ে নেওয়া বাংলাদেশের অসাধ্য ছিল। তবে রেকর্ড কিন্তু বেশ কিছু হলো। ৬ উইকেটে ২৯৫ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান (আগের সর্বোচ্চ কার্ডিফেরই ওই ২৪৯)। দ্বিতীয় উইকেটে ইমরুল কায়েস ও শাহরিয়ার নাফীসের ১৩৬ রান অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে যেকোনো জুটিতেই বাংলাদেশের নতুন রেকর্ড। এখানেও পেছনে পড়ল সেই কার্ডিফ (চতুর্থ উইকেটে আশরাফুল-হাবিবুলের ১৩০)। কার্ডিফের দুটি কীর্তিকে ছাড়িয়ে গিয়েও জয়টার পুনরাবৃত্তি করা গেল না, তার কারণ তো একটাই। ৩৬১ তাড়া করার মতো সামর্থ্য বাংলাদেশের এখনো হয়নি। বড় কোনো দলের বিপক্ষে আগে ব্যাট করেই এখনো তিন শ করতে পারেনি বাংলাদেশ (সর্বোচ্চ ভারতের বিপক্ষে ২৯৬, মিরপুর, ২০১০), অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পরে ব্যাটিং করে ৩৬২ করবে কীভাবে!
ব্রেট লিকে বাইরে রেখে নামা অস্ট্রেলিয়া তাই কখনোই ম্যাচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েনি। তবে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের ভয়ডরহীন স্ট্রোক প্লেতে একটু চমকে তো অবশ্যই গেছে। চমকে দেওয়ার কাজটা প্রথম করেছেন যথারীতি তামিম ইকবাল। জনসনের প্রথম ওভারেই চার ও ছয়। ২০০ স্ট্রাইক রেটে ১৬ বলে ৩২ করে ফেলার পর জনসনের প্রায় ইয়র্কার বলে বোল্ড হয়েছেন। তবে ইমরুল ও শাহরিয়ার সেটিকে মোটেই ধাক্কা মনে করতে দেননি।
দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ইমরুল কায়েসের ৪১ বলে ৫ করার ‘কীর্তি’ ১৯৭৫ বিশ্বকাপে ৬০ ওভার খেলে সুনীল গাভাস্কারের ৩৬ রানে অপরাজিত থাকার মতোই অবিশ্বাস্য। সেই ইমরুলই কাল রান আর বলে প্রায় সমতা রেখে ৯৫ বলে ৯৩। ওয়ানডেতে দ্বিতীয় সেঞ্চুরিটা প্রাপ্য ছিল। ওয়ানডেতে প্রথম উইকেট হিসেবে প্যাটিনসন তাঁকেই বেছে নেওয়ায় তা আর পাওয়া হলো না।
শাহরিয়ার নাফীস ৬০ রান করে জুনায়েদের দলে ফেরাটা খুব কঠিন বানিয়ে দিলেন। আর মাহমুদউল্লাহ ৬১ বলে অপরাজিত ৬৮ রানের ইনিংস খেলে বুঝিয়ে দিলেন, গত কিছুদিন বাংলাদেশ দলের জন্য মহা দুশ্চিন্তার চার নম্বর পজিশনটা তাঁরই প্রাপ্য। সেটি টিম ম্যানেজমেন্ট বুঝলেও মাহমুদউল্লাহর নিজেরই ওপরে ব্যাট করায় আপত্তি ছিল বলে শোনা যায়। এবার যদি তিনি দলের ভালোর সঙ্গে নিজের ভালোটাও বোঝেন।
প্রায় আড়াই বছর পর বাংলাদেশ দলে ফেরা অলক কাপালি ১৩ রানেই শেষ হয়ে না গেলে পরাজয়ের মধ্যেও ম্যাচটাতে আলোর ঝলকানিটা আরও তীব্র হতো। বোলিংয়ে আরও কিছু করতে পারতেন কি না, সেটি যে জানা গেল না সেই দায় অবশ্য অলকের নয়। ২ ওভারে ৮ রান দেওয়ার পরও তাঁকে আর বোলিং করাননি অধিনায়ক।
পয়লা বৈশাখের আবাহনের দিনে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের শুরুটাও ছিল কালবৈশাখীর মতো। ৮ ওভারেই ওয়াটসন ও পন্টিংয়ের ৮০ রান। বোলাররা বল ফেলার জায়গা পাচ্ছেন না এমন অবস্থা। এই অবস্থায় পরিত্রাণের একমাত্র উপায় উইকেট তুলে নেওয়া। তা নিয়েই একটু স্বস্তিতে ফেরা গিয়েছিল। হাসি আর জনসনের ৭০ রানের ঝোড়ো জুটিটি খুব দ্রুতই কেড়ে নিয়েছে সেই স্বস্তি। তিন ম্যাচে তিন সেঞ্চুরি অস্ট্রেলিয়ার। ক্লার্ক ও ওয়াটসনের পর হাসি। চার বছরের মধ্যে তাঁর প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরি।
জনসনের ২৪ বলে ৪১। পরে ৩ উইকেট। মাশরাফি ব্যাটিংয়েরই সুযোগ পাননি, তবে বোলিংয়ে দুজনের মধ্যে অনেক মিল। দুজনই ওয়ানডেতে ১৫০তম উইকেট পেলেন এই ম্যাচে। উইকেটও ৩টি করে। রান খরচেও কাছাকাছি। ৯ ওভারে জনসন ৬৭। মাশরাফি ৮০। প্রথম স্পেলের ৪ ওভারে ৪৩ রান দেওয়ার পর ব্যাটিং পাওয়ার প্লেতে মাশরাফির বোলিংকে মনে হচ্ছিল দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন। কিন্তু ৩ ওভারের দ্বিতীয় স্পেলের প্রথম ১৫ বলে ৭ রান দেওয়ার পর শেষ তিন বলে দিয়ে ফেললেন ১৬ রান। এখানেও জনসন—৪ ৬ ৬।
বাংলাদেশ আক্ষেপ করলে বোলিং নিয়েই করতে পারে। ব্যাটিংকে বলতে হবে গত কিছুদিনের মধ্যে সেরা। পরে ব্যাটিং করে অল্পের জন্য না পারলে ২০-২৫টা রান বেশি দিয়ে ফেলার আক্ষেপ থাকে। এখানে আক্ষেপটা ৬০-৬৫ রানের। এ কারণেই ২৯৫ রান করেও কপালে বড় পরাজয়!