Thursday, February 17, 2011


বিশ্বকাপের আসর মাতালেন যাঁরা


দেশের সেরা শিল্পীদের পাশাপাশি কানাডা, শ্রীলঙ্কা ও ভারতের জনপ্রিয় শিল্পীদের পরিবেশনায় বিশ্বকাপের জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষ হলো। সন্ধ্যা ছয়টা ২০ মিনিটে ছায়ানটের শিল্পীদের জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এর পরই জুলফিকার রাসেলের কথায় বিশ্বকাপের স্বাগত ‘ও পৃথিবী এবার এসো...বাংলাদেশ নাও চিনে, ও পৃথিবী...তোমায় স্বাগত জানাই এই দিনে...গানটি গেয়ে শোনান ইবরার টিপু, বালাম, অর্ণব, মিলা, কণা ও এলিটা। গানটির সুর ও সংগীত পরিচালনা দুটোই করেছেন ইবরার টিপু। ইবরার টিপুর গানের পরই ১৪টি দেশের অধিনায়ককে সামনে রেখে ভারতের জনপ্রিয় শিল্পী সনু নিগম পরিবেশন করেন ‘লেটস গো ফর গ্লোরি’ গানটি।
স্বাগত সংগীতের পরই বেশ কিছুক্ষণ চলে বক্তৃতা পর্ব। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আইসিসি বিশ্বকাপ ক্রিকেটের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণার পরপরই শুরু হয় তিন দেশের বিভিন্ন ঐতিহ্যগত বিষয়গুলোর ওপর প্রামাণ্যচিত্র। তিন দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক বিষয়গুলো প্রাধান্য পায় এসব প্রামাণ্যচিত্রে।
ভারত ও শ্রীলঙ্কার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির নানা পরিবেশনার পর মঞ্চে আসেন সাবিনা ইয়াসমিন। তিনি গেয়ে শোনান ‘উত্তর দক্ষিণ পূর্ব পশ্চিম’, ‘ও আমার রসিয়া বন্ধু রে’ এবং ‘একটি বাংলাদেশ’। সাবিনার গান শেষ হতে না হতেই মঞ্চে আসেন ফোক সম্রাজ্ঞি খ্যাত শিল্পী মমতাজ বেগম। তিনি ‘মরার কোকিলে’ ‘খায়রুন লো’, এবং ‘নান্টু ঘটক’—এই তিনটি গান গেয়ে শোনান। আর সবশেষে মঞ্চে আসেন উপমহাদেশের প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পী রুনা লায়লা। তাঁর পরিবেশনায় ছিল ‘শিল্পী আমি তোমাদেরই গান শোনাব’ এবং ‘দমাদম মাস্ত কালান্দার’ গানগুলো। এঁদের পরিবেশনা স্টেডিয়ামভর্তি দর্শক প্রাণভরে উপভোগ করেন। সাবিনা-রুনা-মমতাজের গানের পরই বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ওপর একটি চমত্কার প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়। এর মাধ্যমে বিশ্ববাসী বাংলাদেশের রূপবৈচিত্র ও লড়াই-সংগ্রামের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে জানতে পারে। এতে প্রাধান্য পায় ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ, নববর্ষসহ বিভিন্ন উত্সব এবং চাকমা, রাখাইন, মারমা, সাঁওতাল, গারোদের সংস্কৃতিসহ আরও অনেক কিছু।
প্রামাণ্যচিত্রের পর মঞ্চে আসেন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ কানাডার রকশিল্পী ব্রায়ান অ্যাডামস। তিনি পরিবেশন করেন ‘সামার ৬৯’সহ জনপ্রিয় আরও দুটি গান। সবশেষে বিশ্বকাপের থিম সং ‘আরও জোরে সবার আগে, চতুর্পার্শ্বে ক্রিকেট তাপে চার-ছক্কা মাঠ পেরিয়ে, খেলছে দ্যাখো দামাল ছেলে। পেরিয়ে বাধা, ঘূর্ণি ধাঁধা কিংবা গতির তুমুল কোনো ঝড়/বাতাস কেটে, তুমুল বেগে, হাজার উল্লাসে জয়ের নিশান গড়ো, মারো ঘুরিয়ে, জিতবে এবার জিতবে ক্রিকেট।’ গানটির পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শেষ হয় এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান।
গানটি গেয়েছেন রাঘব চ্যাটার্জি। সুর ও সংগীত পরিচালনা করেছেন শংকর-এহসান-লয়। গানটির গীতিকার বাংলাদেশের শেখ রানা।
পুরো কোরিওগ্রাফি পরিচালনা করেন ভারতের কোরিওগ্রাফার সন্তোষ শেঠজি।
বাংলাদেশ পর্ব পরিচালনা করেন নৃত্যশিল্পী শিবলী মহম্মদ ও শামীম আরা নিপা।
বিশ্বকাপ ক্রিকেটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সার্বিক দায়িত্বে ছিল উইজ ক্রাফট ও বাংলাদেশের এশিয়াটিক ইভেন্ট।

বিশ্বকাপ ক্রিকেটের বর্ণিল উদ্বোধন


সুরের ঝংকার ও আতশবাজির ঝলকানির মধ্য দিয়ে পর্দা উঠল বিশ্বকাপের দশম আসরের। স্বাগতিক দেশগুলোর শিল্প-সংস্কৃতির অনন্য পরিবেশনার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় এই প্রতিযোগিতা। সঙ্গে বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে দর্শকদের মনোরঞ্জন করেছেন কানাডার রকশিল্পী ব্রায়ান অ্যাডামস। আর শঙ্কর-এহসান-লয়—সবাইকে নতুন উদ্দীপনায় জাগিয়েছেন বিশ্বকাপের থিম সং (মার ঘুরিয়ে) দিয়ে।
সন্ধ্যা সোয়া ছয়টায় শুরু হয় দশম বিশ্বকাপ ক্রিকেটের বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান। ছায়ানটের শিল্পীদের জাতীয় সংগীত পরিবেশনার পরপরই মঞ্চে আসন গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাতীয় সংগীতের পর এবারের বিশ্বকাপের স্বাগত সংগীত পরিবেশন করেন ইবরার টিপুর নেতৃত্বে বালাম, অর্ণব, মিলা, এলিটা, কনাসহ আরও অনেকে। এরপর বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী বাহন রিকশায় চড়ে মূল মঞ্চে আসেন বিশ্বকাপের ১৪ অধিনায়ক। এ সময় তাঁরা হাত নেড়ে স্টেডিয়ামে উপস্থিত দর্শকদের অভিবাদন জানান। ভারতের প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী সনু নিগমের ‘লেটস গো ফর গ্লোরি’ শিরোনামের পরিবেশনা ছিল পরবর্তী আকর্ষণ। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি আ হ ম মোস্তফা কামাল, ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আহাদ আলী সরকার, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ও আইসিসির সভাপতি শারদ পাওয়ারের স্বাগত বক্তব্যের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বকাপের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
স্বাগতিক দেশগুলোর শিল্পীদের পরিবেশনার শুরুতে মঞ্চে আসেন ভারতীয় কলাকুশলীরা। তাঁদের পরিবেশনা ‘ম্যাগনিফিসেন্ট ইন্ডিয়া’য় চমত্কারভাবে প্রতিফলিত হয়েছে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের সংস্কৃতি। তাঁদের এই অসাধারণ পরিবেশনার রেশ ফুরাতে না ফুরাতেই মঞ্চে আসেন শ্রীলঙ্কান শিল্পীরা। ‘অ্যামেজিং শ্রীলঙ্কা’ নামের পরিবেশনার মধ্য দিয়ে তাঁরা দর্শকদের নিয়ে যান স্বপ্নের জগতে। এর পরই আসে বাংলাদেশের পালা। একে একে মঞ্চে আসেন সাবিনা ইয়াসমিন, মমতাজ ও রুনা লায়লা। দেশের সংগীতজগতের প্রধান এই তিন শিল্পী উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করেন সুরের মূর্ছনায়। এরপর দেশবরেণ্য নৃত্যশিল্পী শিবলী মোহাম্মদ ও শামীম আরা নিপার নেতৃত্বে নৃত্য পরিবেশন করেন শিল্পীরা। নাচের তালে তালে তাঁরা চমত্কারভাবে তুলে ধরেন বাংলাদেশের গৌরবময় ইতিহাস-ঐতিহ্য।
দীর্ঘ প্রতিক্ষার অবসান ঘটিয়ে এরপর মঞ্চে আসেন কানাডার রকশিল্পী ব্রায়ান অ্যাডামস। একে একে গেয়ে শোনান ‘সামার ৬৯’সহ আরও তিনটি গান। সবশেষে বিশ্বকাপের থিম সং ‘দে ঘুমাকে/মার ঘুরিয়ে’ গানটির পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শেষ হয় এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান। পুরো সময়ই আতশবাজির ঝলকানি দর্শকদের মুগ্ধ করে রাখে।

Sunday, February 13, 2011

বিশ্বকাপের প্রস্তুতি টাইগারদের কাছে ধরাশায়ী কানাডা


অঘটন না ঘটলে বিশ্বকাপে দেখা হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। প্রস্তুতি ম্যাচেই তাই যেন আট বছর আগের হিসাবটা চুকিয়ে নিল টাইগাররা। চট্টগ্রামে আজ অনুষ্ঠিত দিবা-রাত্রির খেলায় কানাডাকে বাংলাদেশের কাছে হার মানতে হয়েছে ৯ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে।
কানাডার আত্মবিশ্বাস বলতে ছিল ২০০৩ সালের বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে হারানোর সুখস্মৃতি। কিন্তু সেই দিন যে এখন আর নেই, তা প্রমাণ করে দিয়েছে সাকিব আল হাসানের দল। বাংলাদেশের বোলারদের ঝড়ে কবলে পড়ে কানাডার ইনিংস শেষ হয় মাত্র ৩৭.৩ ওভারে, ১১২ রানে। জবাবে তামিম ইকবালের হাফ সেঞ্চুরিতে মাত্র একটি উইকেট হারিয়ে জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ।
লক্ষ্যটা সহজ, মাত্র ১১৩ রান। এ সহজ যাত্রায় বাংলাদেশকে বেগ পেতে হয়নি একটুও। তামিম ইকবাল ও ইমরুল কায়েসের উদ্বোধনী জুটিতে আসে ১০৬ রান। ব্যক্তিগত ৬৯ রানে সাজঘরে ফেরেন তামিম। কিন্তু কায়েসকে ফেরাতে পারেননি কানাডার বোলাররা। বাংলাদেশকে জয়ের বন্দরে নিয়ে এই ব্যাটসম্যান অপরাজিত থাকেন ৩৯ রানে। সঙ্গে ১ রানে অপরাজিত থাকেন জুনায়েদ।
শুরু থেকেই ভাগ্য সহায় ছিল বাংলাদেশের। টসে জিতে সাকিব আল হাসান ফিল্ডিং নেন। প্রথম ওভারেই উইকেট তুলে নিয়ে অধিনায়কের সিদ্ধান্তের যথার্থতা প্রমাণ করেন শফিউল ইসলাম। এর পর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়তে থাকে কানাডার। বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট শিকার করেন অধিনায়ক সাকিব। দুটি করে উইকেট নেন শফিউল, মাহমুদউল্লাহ ও রুবেল হোসেন।

Wednesday, February 9, 2011

দ্বিতীয় রাউন্ডে যেতে পারলে বড় কিছু নয় কেন: সাকিব


এবারের বিশ্বকাপ আসরের কনিষ্ঠতম অধিনায়ক তিনি। সংবাদ সম্মেলনে আসা সাকিব আল হাসানের দিকে দেশ-বিদেশের সাংবাদিকদের উত্সুক চোখে তাকিয়ে থাকার কারণ তাঁর বয়স নয়। কারণ, প্রাক-বিশ্বকাপ সংবাদ সম্মেলনে আসা প্রথম অধিনায়ক সাকিব।
বয়সে একবারেই তরুণ, চব্বিশে পা দেবেন আগামী মাসে। তবে সাকিব নিজেকে উপস্থাপন করেছেন ‘পরিপূর্ণ’ একজন অধিনায়ক হিসেবেই। উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নবাণকে সামলেছেন কৌশলে।
বিশ্বকাপে দলের লক্ষ্য কী? সামনে অধিনায়ককে পেলে সবার মাথায় এ প্রশ্নটিই ঘুরপাক খাওয়ার কথা। তবে সরাসরি নিজেদের লক্ষ্যটা প্রকাশ করেননি সাকিব। ‘বিশেষ টার্গেট নেই। প্রথম ম্যাচের অপেক্ষায় আছি আমরা। এক-দেড় বছর ধরে ভালো ক্রিকেট খেলছি। দ্বিতীয় রাউন্ডে যেতে পারলে বড় কিছু নয় কেন’—বলেছেন টাইগারদের অধিনায়ক।
ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ। সমর্থকের প্রত্যাশাটা ‘চাপ’ হয়ে দাঁড়াবে না তো? চাপ নয়, সাকিব বরং এটিকে ‘বোনাস’ হিসেবেই দেখছেন, ‘আমরা এটিকে বোনাস হিসেবেই দেখছি। কন্ডিশন জানা। অনুশীলন ক্যাম্প ভালো হয়েছে। সব মিলিয়ে আমরা আত্মবিশ্বাসী।’
সমর্থকদের প্রত্যাশার চাপ না হয় বাদ দিলাম। কিন্তু অধিনায়কত্বের চাপটা কীভাবে সামলাবেন? এ প্রশ্নেও কৌশলী সাকিব, ‘অধিনায়কত্ব কখনো সমস্যা মনে হয় না। ড্রেসিং রুমে আগের মতোই আছি আমি।’

সপ্তাহে পাঁচটি করে সাবান খান তিনি


প্রতি দিন সাবান খান তিনি। সপ্তাহে গায়ে মাখার অন্তত গোটা পাঁচেক সাবান লাগে তাঁর। এ ছাড়া মুঠি মুঠি কাপড় ধোয়ার গুঁড়ো সাবান তো আছেই। চিকিৎসকেরা এরই মধ্যে তাঁকে সতর্ক করেছেন, সাবান খাওয়ার খেসারত হিসেবে প্রাণ যেতে পারে। এর পরও কোনো ভ্রূক্ষেপ নেই তাঁর। সাবান খাওয়া চলছেই।
সাবান খাওয়ার বাতিকে ভোগা ১৯ বছরের এই তরুণীর নাম টেম্পেস্ট হেনডারসন। বাড়ি যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায়। গুঁড়ো সাবান চেখে দেখার মধ্য দিয়ে তাঁর সাবান খাওয়া শুরু। এ ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘প্রথম যেদিন গুঁড়ো সাবান খেলাম, ওই দিনটির কথা এখনো বেশ মনে পড়ে। প্রথমে আঙুলে একটুখানি গুঁড়ো সাবান নিয়ে স্বাদ নিলাম। দেখলাম, নোনতা নোনতা মজার স্বাদ, যা ভালো লেগে গেল। এর পর থেকে সাবান খেতে শুরু করলাম।’
সেবিকা হওয়ার প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন টেম্পেস্ট হেনডারসন। তিনি জানান, সাবান খাওয়ার পরিণতি যে মারাত্মক হতে পারে, তা তিনি জানেন। তার পরও এই অভ্যাস ছাড়তে পারছেন না। রোজ সকাল থেকে ঘুমানোর আগ পর্যন্ত কয়েক দফায় চলে তাঁর এই সাবান ভক্ষণ।
টেম্পেস্ট বলেন, ‘স্নান করার সময় সাবানের ফেনা খাই। আরও খাই গুঁড়ো সাবান। এ ছাড়া এক টুকরো সাবান মুখে পুরে তা শেষ না হওয়া পর্যন্ত চুষতে থাকি।’
চিকিৎসকদের মতে, টেম্পেস্ট ‘পাইকা’ নামে এক ধরনের সমস্যায় আক্রান্ত। এই সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিরা অস্বাভাবিক খাবারে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে, যা প্রচলিত নয় এবং এসব খাবারে পুষ্টি বলে কিছু নেই। আক্রান্ত ব্যক্তিরা ধাতব মুদ্রা, চক, ব্যাটারি ও টুথব্রাশের মতো অখাদ্যে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরে খনিজ উপাদানের ঘাটতি থেকে এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ ব্যাপারে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলেন, অনেক সন্তানসম্ভবা নারীকে গর্ভকালীন কয়লা খেতে দেখা যায়। গবেষণায় দেখা গেছে, এসব নারী তখনই কয়লা খান, যখন তাঁদের শরীরে লৌহ উপাদানের ঘটতি দেখা দেয়।
টেম্পেস্টের বেলায় শারীরিক কোনো পুষ্টির ঘাটতি রয়েছে মনে করছেন না চিকিৎসকেরা। মানসিক অবসাদ থেকে তাঁর এই ক্ষতিকর অভ্যাসটি হতে পারে বলে ধারণা করছেন তাঁরা। টেম্পেস্ট অবশ্য মানসিক অবসাদে ভোগার কথা স্বীকারও করেছেন। তিনি বলেন, ‘বন্ধু জেসনের সঙ্গে সম্পর্ক ছেদ হওয়ার পর থেকে তিনি সত্যিই অবসাদে ভুগছেন।’ ডেইলি মেইল অনলাইন।

Tuesday, February 8, 2011

পুঁজি হারিয়ে বিনিয়োগকারীরা এখন দিশেহারা


‘আপনারা আমার বুকে অস্ত্র ঠেকিয়ে একটি গুলি করেন। আমি মরতে চাই। আমি শেষ হয়ে গেছি। এভাবে বেঁচে থাকার চেয়ে মরাই ভালো।’ আজ সোমবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মূল ভবনের সামনে পুলিশকে লক্ষ্য করে এমন আকুতি করেন একজন বিনিয়োগকারী।
শুধু ওই বিনিয়োগকারীই নন, তাঁর মতো পুঁজি হারিয়ে আরও অনেকে এখন দিশেহারা। অনেকে শুরু করেন অস্বাভাবিক আচরণ। এক বিনিয়োগকারী সড়ক দ্বীপে থাকা একটি সাইনবোর্ড ভেঙে নিয়ে সেখানে কর্তব্যরত ক্যামেরাম্যানদের দিকে তেড়ে আসেন। এ সময় সেখানে অবস্থান করা বেশ কয়েকজন লোক তাঁর কাছ থেকে সাইনবোর্ডটি কেড়ে নেন। অনেককে আবার পুঁজি হারিয়ে কান্নাকাটি করতে দেখা যায়। অনেকে জুতা মিছিল করেন। কেউ কেউ আবার সড়কে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করেন। মতিঝিলের শাপলা চত্বর থেকে ইত্তেফাক মোড় পর্যন্ত ডিএসইর সামনের সড়কে আজ সারা দিনই ছিল এমন চিত্র।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রধান বিরোধী দলের ডাকা হরতালের দিনে আজ কোরাম পূর্ণ হওয়ায় বেলা ১১টায় ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয়। গত দুই দিনের মতো আজও দরপতনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় লেনদেন। পাঁচ মিনিটে ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক ২৩৭ পয়েন্ট নেমে যায়। এরপর সূচক ঘুরে দাঁড়ালেও ১১টা ৫০ মিনিটের পর থেকে আবার পতন শুরু হয়, যা সারা দিনই অব্যাহত থাকে। তবে দুপুর একটার দিকে সূচক প্রায় ২৮০ পয়েন্ট পড়ে গেলে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীরা রাজপথে নেমে আসেন। প্রথমে সংখ্যা কম থাকলেও কিছুক্ষণের মধ্যে বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউস থেকে বিনিয়োগকারীরা রাস্তায় নামেন। তাঁরা ডিএসইর সামনের সড়কে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ করে দফায় দফায় বিক্ষোভ মিছিল করতে থাকেন। বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে কয়েকদফা ইট নিক্ষেপ করেন। তাঁরা অর্থমন্ত্রী ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরসহ এসইসির চেয়ারম্যান ও ডিএসইর প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। ওই সব ব্যক্তির পদত্যাগেরও দাবি করেন তাঁরা। বেশ কিছু বিনিয়োগকারী খালি গায়ে মিছিল করেন। একপর্যায়ে কিছু বিনিয়োগকারীকে সেখানে জুতা মিছিলও বের করতে দেখা যায়। দুপুর দুইটার দিকে একদল বিক্ষুব্ধ বিনিয়োগকারী মতিঝিলের জীবনবিমা টাওয়ারের (এসইসির কার্যালয়) নিচতলায় কাচ ভাঙচুর করেন। এ সময় চার/পাঁচটি যানও ভাঙচুর করা হয়।
বেলা সাড়ে তিনটার দিকে মতিঝিল শাপলা চত্বরের পাশে অবস্থিত আইএফআইসি ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক, সিটি ব্যাংক এবং ডিএসই ভবনের বিপরীত পাশের জনতা ব্যাংকের অফিসে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে কাচ ভাঙচুর করেন বিনিয়োগকারীরা। এ সময় পুলিশ ধাওয়া দিলে বিনিয়োগকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট নিক্ষেপ করেন। এ ছাড়া কয়েকটি ব্রোকারেজ হাউসেও ভাঙচুরের খবর পাওয়া যায়।
প্রায় তিন ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর বেলা পৌনে চারটার দিকে মতিঝিলের শাপলা চত্বর থেকে ইত্তেফাক মোড় পর্যন্ত সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
বাজার পরিস্থিতি: আজ দিন শেষে ডিএসইতে সাধারণ মূল্যসূচক ৩২৪ দশমিক ৫১ পয়েন্ট বা ৪ দশমিক ৮২ শতাংশ কমে ৬ হাজার ৩৯৪ দশমিক ৫৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। লেনদেন হওয়া ২৫৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ১২টির, কমেছে ২৪১টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে দুটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম। আজ স্টক এক্সচেঞ্জটিতে ৬০৯ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। গতকালও স্টক এক্সচেঞ্জটিতে ৪০৬ পয়েন্ট পতন হয়।
আজ ডিএসইতে লেনদেনে শীর্ষে থাকা ১০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে ইউসিবিএল, গ্রামীণফোন, এনবিএল, বেক্সিমকো, তিতাস গ্যাস, এবি ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ, পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস ও সাইথইস্ট ব্যাংক।
অপরদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) আজ দরপতন হয়েছে। সিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক আজ ৭৮৩ দশমিক ৭ পয়েন্ট কমে ১৮৪২৯ দশমিক ১৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। সিএসইতে লেনদেন হওয়া ১৮৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে মাত্র ছয়টির, কমেছে ১৮০টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে দুটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম। আজ স্টক এক্সচেঞ্জটিতে ৮৪ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে।

সংবাদপত্রের সমালোচনা করলেন প্রধানমন্ত্রী


সংবাদপত্রের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মন্ত্রীদের সমালোচনা হচ্ছে বা হবে, এটা ঠিক। তবে পত্রিকাগুলো অনেক সময়ই অসত্য, বানোয়াট তথ্য দিয়ে সংবাদ পরিবেশন করে। এর প্রতিকার হওয়া উচিত।
আজ সোমবার রাশেদ খান মেননের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মন্ত্রীর সমালোচনা করবেন, এটা সাংবিধানিক অধিকার, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু পত্রিকাগুলো যখন মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন সংবাদ পরিবেশন করে তখন এর প্রতিকার কী হবে। আপনিও যে আজকের অবস্থায় পড়বেন না, তারই বা নিশ্চয়তা কী? কাল যখন আপনি এ অবস্থায় পড়বেন তখন কী হবে, এটা ভেবে দেখা উচিত।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘যোগাযোগসচিব আমার কাছে কোনো চিঠি পাঠাননি। আইন অনুসারে তিনি এটা পাঠাতে পারেন না। মন্ত্রী আমার কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন। আজ এটি আমি দেখেছি। প্রধানমন্ত্রীর কাছে ফাইল যাওয়ার আগেই গণমাধ্যমে কীভাবে তা যায়, এর রহস্যও জানা দরকার।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর সাম্প্রতিক যুক্তরাজ্য সফরের কথা তুলে ধরে বলেন, ‘একটি পত্রিকা সম্পাদকীয় লিখে ফেলল, আমি নাকি হলিডে কাটাতে গেছি, আয়েশ করতে গেছি। অথচ আমি যুক্তরাজ্য পৌঁছে কর্মব্যস্ত সময় কাটিয়েছি। সেখানে গিয়ে আমি দুই ঘণ্টাও বিশ্রাম পেলাম না। সেখানকার প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আমাকে কাজ করতে হয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের এ পর্যায়ে মাগরিবের নামাজের বিরতি হয়। এরপর অধিবেশন শুরু হলে তোফায়েল আহমেদ পয়েন্ট অব অর্ডারে ফ্লোর চান। কিন্তু স্পিকার তাঁকে ফ্লোর না দিয়ে বলেন, এ বিষয়ের ওপর আলোচনার আর কোনো সুযোগ নেই। তোফায়েল আহমেদ তখন কিছু না বলে বসে পড়েন।
এ সময় আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও স্বতন্ত্র সদস্যরা একযোগে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের পাঠানো চিঠি নিয়ে পয়েন্ট অব অর্ডারে কৌশলে বক্তব্য দেন।
সরকারি দলের সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, সংসদ নেতার বক্তব্যের পর আলোচনা শেষ হয়ে যায়, এটা ঠিক। স্পিকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘সবার মুখ খুলে দেন। শত ফুল ফুটতে দিতে হবে।’
আওয়ামী লীগের আবদুল মতিন খসরু বলেন, উচ্চ আদালতের রায়েই পরিষ্কারভাবে সাংসদদের মর্যাদা ঠিক করা রয়েছে। সাংসদ হলেন দেশের মালিক জনগণের প্রতিনিধি। আর আমলারা হলেন জনগণের কর্মচারীদের প্রতিনিধি। জনগণকে অপমান বা অবমূল্যায়ন করার সুযোগ কারও নেই।
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের মাঈন উদ্দীন খান বাদল বলেন, সংসদ বোবা এবং বধিরদের জায়গা নয়। তিনি সাংসদদের কথা বলতে দেওয়ার দাবি জানিয়ে বলেন, ‘সংসদে আজ ইশান কোণে মেঘ দেখছি। এটি ভালো লক্ষণ নয়।’ তিনি বলেন, প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা কোথাও ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স অনুসারে সাংসদদের ওপর নন। কিন্তু তা নিয়ে আজ প্রশ্ন তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘বিরোধী দল আসে না, আমাদের সংসদে কথা বলতে দেন। ওনারা আসুক বা না আসুক, আমাদের কথায় মানুষের কথার প্রতিধ্বনি থাকবে। নইলে এ সংসদে মানুষের কথার প্রতিধ্বনি হবে না।’
এ সময় সংসদে সভাপতিত্বকারী ডেপুটি স্পিকার বিষয়টি সংসদীয় দলের সভায় উত্থাপন করার পরামর্শ দেন।
স্বতন্ত্র সাংসদ ফজলুল আজিম বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার তোফায়েল আহমেদের বক্তব্যের পক্ষে সংসদের সবাই ছিলেন। কিন্তু আজ সেই প্রবীণ সদস্যের ব্যাপারে একজন সচিব যে কাজ করেছেন, তা অমর্যাদাকর। অধিকার ক্ষুণ্নের কথা যদি সংসদে বলতে না পারি, তাহলে কী হবে। সংসদ থেকে বেরিয়ে গিয়ে বিরোধী দলের মতো কি হরতাল করব?’ তিনি বলেন, ‘অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে আমরা শুদ্ধ হচ্ছি না, ক্রমশ ড্রেনের দিকে যাচ্ছি। বিরোধী দলকে আশ্বাস দিচ্ছেন সংসদে এলে সব কথা বলার সুযোগ দেওয়া হবে। কিন্তু এখন সরকারি দলই সে সুযোগ পাচ্ছে না।’
এর আগে এ বিষয়ে রাশেদ খান মেননের বক্তব্যের সময় সরকারি দলের সাংসদেরা টেবিল চাপড়ে তাঁকে সমর্থন জানান। আরও কয়েকজন সাংসদ তখন ফ্লোর চাইলে প্রধানমন্ত্রী দাঁড়িয়ে বক্তৃৃতা দিতে শুরু করেন।

Wednesday, February 2, 2011

ফেসবুকের তথ্য নিরাপত্তায় ৫ টিপস


ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা এখন ৫০০ মিলিয়ন

ফেসবুকে ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে অনেকেই আজকাল বেশ চিন্তিত। যেকোনো মুহূর্তে হ্যাকারা ঢুকে পড়তে পারে আপনার ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে, নিয়ে নিতে পারে ছবি কিংবা ব্যক্তিগত তথ্য। তারপর কেবলই হয়রানি। এ রকম আরও কত দুঃশ্চিন্তা!
ফেসবুক ব্যবহারকারীদের এ ধরনের দুঃশ্চিন্তা দূর করতে তথ্যপ্রযুক্তিবিদেরা কাজ করে যাচ্ছেন। ফেসবুকে ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাঁচটি কৌশল আবিষ্কার করেছেন তাঁরা। তো আর দেরি কেন; জেনে নিন নিরাপত্তার সেই কৌশলগুলো।

এক. ব্যক্তিগত গোপন (প্রাইভেসি) সেটিং সম্পর্কে জানা
আপনি দীর্ঘদিন ফেসবুক ব্যবহার করলেও নিজের গোপন সেটিং সম্পর্কে ধারণা না-ও থাকতে পারে। এমন অনেকেই আছেন, যাঁরা কখনো এই অপশনটিতে প্রবেশ করেননি। কিন্তু ফেসবুকে নিজের তথ্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে গোপন সেটিং সম্পর্কে জানা জরুরি।
এ জন্য প্রথমেই নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করতে হবে। এরপর ওপরে ডান দিকে অ্যাকাউন্ট মেন্যুতে ক্লিক করে প্রাইভেসি সেটিংয়ে আবার ক্লিক করতে হবে। প্রাইভেসি সেটিং পেজটি এলে সেটিং টেবিল থেকে কাস্টমাইজ সেটিংয়ে ক্লিক করতে হবে। এখন নির্ধারণ করুন, বন্ধু, বন্ধুর বন্ধু অথবা সবার সঙ্গে কী কী এবং কোন কোন তথ্য আপনি শেয়ার করতে চান অথবা চান না।
এখানেই শেষ নয়। এরপর ভিউ সেটিংয়ে ক্লিক করুন। এখন দেখতে পাবেন অন্যরা আপনার ফেসবুকের পেজটি কেমন দেখতে পাবেন। এভাবে নিজের কোন ধরনের তথ্য আপনি শেয়ার করতে চান, তা সহজেই নির্ধারণ করতে পারবেন।

দুই. কী তথ্য পোস্ট করছেন, তা ভালোভাবে দেখা
ফেসবুকে আপনি ইচ্ছামতো মনের কথা, কবিতা-গল্প-গানের লাইন, তথ্য পোস্ট করতে পারেন। পোস্টের লেখা দেখতে পাবে আপনার ফেসবুক বন্ধুরা। আপনি হতে পারেন যেকোনো মানুষের বন্ধু। যাঁকে হয়তো কখনো চোখে দেখেননি, এমন মানুষেরও। ডিজিটাল যুগে এ ধরনের অনেক কিছুই সম্ভব। তবে কিছু বিষয় থাকে একান্তই গোপনীয়। তাই আপনি কী তথ্য পোস্ট করছেন, সেটা ভালোভাবে দেখে তারপর পোস্ট করা উচিত। তাই নিজের তথ্যের নিরাপত্তার প্রথম বিষয় হচ্ছে কী তথ্য পোস্ট করছি, সেটা ভালোভাবে ভেবে-চিন্তে পোস্ট করা।

তিন. তৃতীয় পক্ষের অ্যাপলিকেশন নিয়ন্ত্রণে রাখা
বিশ্বব্যাপী ফেসবুকের পাশাপাশি আরও বেশ কিছু সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইট রয়েছে। এসব ওয়েবসাইটে বিভিন্ন ধরনের অ্যাপলিকেশন প্রদানের সুযোগ রয়েছে। এ ধরনের ওয়েবসাইট থেকে অনেক সময় আপনার ফেসবুক পেজে অ্যাপলিকেশন ব্যবহারের অনুরোধ আসে। ফেসবুকের পাশাপাশি অন্য কোনো ওয়েবসাইট থেকে এ ধরনের অনুরোধ এলে ভালোভাবে না জেনে তা গ্রহণ করা ঠিক নয়। ওই অ্যাপলিকেশনের কারণে আপনি যতবার বা যতক্ষণ অনলাইনে থাকেন, তার চেয়েও বেশি সময় দেখাতে পারে। এমনকি আপনার ফেসবুক পেজেও তাঁরা প্রবেশ করতে পারেন।
যদি তৃতীয় পক্ষের অ্যাপলিকেশন ব্যবহার করতে চান, তাহলে আপনার ফেসবুক প্রাইভেসি সেটিংয়ের এডিট সেটিংয়ে ক্লিক করুন। এরপর কোন কোন অ্যাপলিকেশন ও ওয়েবসাইটকে আপনি গ্রহণ করবেন, সেটা নির্ধারণ করুন। এর ফলে ওই সুনির্দিষ্ট বিষয়গুলোই আপনার পেজে দেখা যাবে।

চার. নিয়মিত তথ্য কাটছাঁট করা
অনেকেই আপনাকে বন্ধু হওয়ার অনুরোধ পাঠাতে পারে। আপনি সেগুলো গ্রহণও করতে পারেন। কিন্তু যদি কেউ আপনাকে বিভিন্নভাবে বার্তা বা তথ্য দিয়ে বিরক্ত করতে থাকে কিংবা অপ্রয়োজনীয় তথ্য পাঠাতে থাকে; তখন ওই বন্ধুকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়াই ভালো। তা ছাড়া মাঝেমধ্যে বন্ধুদের তালিকা হালনাগাদ করাও ভালো। এভাবে কাউকে বাদ দিলে এ জন্য ফেসবুক থেকে কোনো ধরনের বার্তা বা সতর্কতা আপনাকে পাঠাবে না। তা ছাড়া অপ্রয়োজনীয় নিজের অনেক তথ্যও বাদ দেওয়া বা মুছে ফেলা যেতে পারে। মোট কথা নিয়মিত নিজের পেজের তথ্য কাটছাঁট করা ভালো। নিজের বার্তা, বন্ধুর অনুরোধসহ অন্যান্য তথ্য নিয়মিত কাটছাঁট করলে তথ্যের নিয়ন্ত্রণ নিজের কাছেই থাকে।

পাঁচ. অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় করে
ফেসবুকে অ্যাকাউন্ট খোলার পর কোনো কারণে যদি আর ব্যবহারের ইচ্ছা না থাকে, তবে অ্যাকাউন্টটি নিষ্ক্রিয় করাই ভালো। তাহলে নিজের তথ্য হারানো বা অন্যের কাছে পৌঁছানোর আর কোনো আশঙ্কা থাকবে না।
অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় করতে অ্যাকাউন্ট সেটিংয়ে গিয়ে একেবারে নিচের দিকে ‘ডিঅ্যাকটিভেট’ লিংকটি পাওয়া যাবে। এটিতে ক্লিক করলে আপনার অ্যাকাউন্টটি নিষ্ক্রিয় হয়ে যাবে। তবে অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় হওয়া মানেই আপনার অ্যাকাউন্ট একেবারে হারিয়ে যাওয়া (ডিলিট) নয়। আপনি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট একেবারে মুছে ফেলতে চাইলে তাও করতে পারবেন। স্থায়ীভাবে অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলতে অ্যাকাউন্টের মধ্যে হেল্প সেন্টারে ক্লিক করতে হবে। এরপর পারমানেন্টলি ডিলিট অপশনটিতে ক্লিক করতে হবে। এ ছাড়া http://on.fb.me/3qsIFP এই লিংকের মাধ্যমেও সরাসরি মুছে ফেলা অপশনে যাওয়া যাবে।

সংবাদ ব্রিফিংয়ে জয়নাল আবদিন ২৪ ঘণ্টার মধ্যে খালেদার মামলা প্রত্যাহার না হলে গণ-আন্দোলন

আড়িয়ল বিলের ঘটনায় বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যাহার না করলে সারা দেশে গণ-আন্দোলনের কর্মসূচি দেবে বিএনপি।
আজ মঙ্গলবার সংসদের মিডিয়া সেন্টারে বিএনপির সংসদীয় দল আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে দলের চিফ হুইপ জয়নাল আবদিন এসব কথা বলেন।
সরকারকে হুঁশিয়ার করে জয়নাল আবদিন বলেন, মামলা প্রত্যাহার না হলে সারা দেশে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলবে। আড়িয়ল বিলে নতুন বিমানবন্দর নির্মাণের প্রতিবাদে মুন্সিগঞ্জবাসী সড়ক অবরোধসহ বিভিন্ন আন্দোলন করছে। যে নাশকতা ঘটেছে, তার সঙ্গে সরকারদলীয় স্থানীয় সাংসদেরা জড়িত, বিএনপি নয়। জনগণের আন্দোলনের প্রতি বিএনপির নৈতিক সমর্থন রয়েছে। জনগণের আন্দোলন বানচাল করার জন্য সাংসদেরা নিজেদের ক্যাডার বাহিনী দিয়ে নাশকতা চালিয়েছেন।
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করে জয়নাল আবেদিন বলেন, বিএনপি যখনই সংসদে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করে, তখনই সরকার বিরোধী দলের ওপর নানা ধরনের নির্যাতন চালাতে শুরু করে। এতে বোঝা যায়, বিরোধী দল সংসদে আসুক, সরকারই তা চায় না।
সংবাদ ব্রিফিংয়ে অন্যান্যের মধ্যে সাংসদ নজরুল ইসলাম, এ বি এম আশরাফ উদ্দীন নিজান, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী, জেড আই এম মোস্তাফা আলী, শাম্মী আক্তার ও নিলুফার চৌধুরী।