Monday, February 28, 2011

জয় ক্রিকেটের


গোটা গ্যালারিতে তখন উৎকণ্ঠা। টিভি পর্দায় যারা খেলা দেখছিলেন, উৎকণ্ঠার কমতি ছিল না তাদেরও। শেষ তিন বলে ইংল্যান্ডের চাই ৫ রান। অতিরিক্ত থেকে একটি রান নিলেন আজমল শেহজাদ। পরের বলে দুটি রান নিলেন সোয়ান। শেষ বলে চাই ২ রান! উৎকণ্ঠা ছাড়িয়ে তখন একটা দম বন্ধ করার মতো পরিবেশ!
জয় যেতে পারে যে কারও ঘরে। যেন ফাঁসির মঞ্চে বোলার মুনাফ প্যাটেল আর ব্যাটসম্যান সোয়ান। মুনাফ যখন শেষ বলটা করতে দৌড়ালেন, তখন সোয়ান উত্তেজনায় নিজের ভেতরে ছিলেন কি না কে জানে! বল ব্যাটে লাগিয়েই দৌড়ালেন সোয়ান, এলো একটি রান। ভারত ৩৩৮, ইংল্যান্ডও ৩৩৮—ম্যাচ টাই, জয় হলো ক্রিকেটেরই!
ক্রিকেট যে সত্যিই ‘অনিশ্চয়তায়’ মোড়ানো খেলা, তা আরেকবার দেখা গেল ব্যাঙ্গালোরে। শচীন টেন্ডুলকার করলেন ১২০ রান। বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ পাঁচটি সেঞ্চুরি হাঁকানোর কৃতিত্বটা এখন শুধুই তাঁর। শচীনের সেঞ্চুরি মাটি করে দিতে বসেছিলেন অ্যান্ড্রু স্ট্রাউস। খেললেন ১৫৮ রানের এক ‘অবিশ্বাস্য’ ইনিংস। শেষ পর্যন্ত ম্যাচসেরাও হয়েছেন ইংলিশ অধিনায়ক। তবে ভারত হারেনি বলে বিষাদে ডুবতে হয়নি শচীন ভক্তদের।
৩৩৯ রান তাড়া করতে নেমে ৪০ ওভারে ২ উইকেটে ২৭২ তুলে ফেলেছিল ইংল্যান্ড। ৬০ বলে দরকার মাত্র ৬৭ রান। গোটা গ্যালারিতে তখন উৎকণ্ঠা। ম্যাচ যে চলে যাচ্ছে ভারতের নাগালের বাইরে! পরের অংশটুকু ছিল উৎকণ্ঠা আর রুদ্ধশ্বাসের। ম্যাচ যেন এগিয়ে যাচ্ছিল হেলে-দুলে। অবশেষে ম্যাচের সমাধান আসে শেষ বলের নাটকীয়তায়।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ভারত ৩৩৮/১০ (৪৯.৫ ওভার)
শচীন ১২০, যুবরাজ ৫৮, গম্ভীর ৫১
ব্রেসনান ৪৮/৫
ইংল্যান্ড: ৩৩৮/৮ (৫০ ওভার)
স্ট্রাউস ১৫৮, ইয়ান বেল ৬৯
জহির ৬৪/৩, মুনাফ ৭০/২, চাওলা ৭১/২

Saturday, February 26, 2011

 টাইগারদের প্রতিশোধ


২০০৭ সালের বিশ্বকাপ, এরপর ২০০৯ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ—বিশ্ব আসরে দুই-দুবার আয়ারল্যান্ডের কাছে হার মানতে হয়েছিল টাইগারদের। প্রতিশোধের ম্যাচে ব্যাটসম্যানরা জ্বলে উঠতে পারেননি। তবে বোলারদের হাত ধরে মিরপুরে আজ ঠিকই ‘প্রতিশোধটা’ নিয়ে নিয়েছে বাংলাদেশ।
ব্যাটসম্যানরা ২০৫ রানে অল আউট হওয়ার পর সংশয় জেগেছিল, শেষ পর্যন্ত প্রতিশোধ নেওয়া সম্ভব হবে কি না। তবে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আইরিশদের যন্ত্রণায় রাখেন শফিউল-সাকিব-আশরাফুলরা। যার পরিণতি, ৪৫ ওভারে ১৭৮ রানে অল আউট আয়ারল্যান্ড। টাইগারদের জয় ২৭ রানের!
পেসার শফিউল ইসলাম একাই চারটি উইকেট নিয়েছেন। বিনিময়ে আইরিশদের দিয়েছেন মাত্র ২১ রান। অধিনায়ক সাকিব আল হাসান ও মোহাম্মদ আশরাফুল শিকার করেন দুটি করে উইকেট। বোলারদের নৈপুণ্যে অসাধারণ জয় এলেও ব্যাটসম্যানদের নিয়ে একটু আক্ষেপ থেকেই যায়।
বাংলাদেশের ইনিংসটা এবার দেখুন—প্রথম পাঁচ ওভারে আসে ৪৯ রান, আর উদ্বোধনী জুটিতে ৫৩। এর পরই ব্যাটিং বিপর্যয়। সর্বোচ্চ ৪৪ রান করেন তামিম ইকবাল। এ ছাড়া রকিবুল হাসান ৩৮ এবং মুশফিকুর রহিম করেন ৩৬ রান। তবে নাঈম ইসলামকে আলাদা করে ধন্যবাদ দিতে হয়। ব্যাটসম্যানদের বিপর্যয়ের মধ্যেও শেষের দিকে এই ব্যাটসম্যানের ২৯ রানের ইনিংসের কল্যাণেই তো ২০০-র ঘর স্পর্শ করে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের সবচেয়ে বেশি কষ্ট দিয়েছেন আয়ারল্যান্ডের আন্দ্রে বোথা। এই বোলার শিকার করেন দলের হয়ে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট। দুটি করে উইকেট নেন জনস্টন ও ডকরেল।

রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার ইচ্ছে নেই শেখ রেহানার

বাংলাদেশের আগামী নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া কিংবা রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার কোনও ইচ্ছে এই মুহূর্তে নেই শেখ রেহানার। তবে পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে প্রয়োজন হলে তিনি নির্বাচনে দাঁড়াতে পারেন। আজ শুক্রবার তিনি কলকাতায় এই কথা বলেন।
বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠা কন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছোট বোন শেখ রেহানা আজ দক্ষিণ কলকাতার গ্যাঞ্জেস আর্ট গ্যালারিতে বাংলাদেশের চিত্রশিল্পী শাহাবুদ্দিন আহমেদের একক চিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন। 
শেখ রেহানা বলেন, এই মুহূর্তে তার রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার ইচ্ছে নেই। তিনি বলেন, রাজনীতিতে যোগ না দিয়েও নানা সমাজসেবামূলক কাজ করা যায়। তিনি সেই ধরনের কাজেই মনোনিবেশ করতে চান। বড় বোন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপর যেভাবে চাপ বাড়ছে, সেই চাপ তিনি কিছুটা শেয়ার করতে চান কিনা—এ সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তরে রেহানা বলেন, নতুন করে শেয়ার করার কিছু নেই। আর কাজের ব্যাপারে শেখ হাসিনা একাই যথেষ্ট।

Monday, February 21, 2011

পর্দার আড়ালের নায়কেরা


দলকে নিয়ে পরিকল্পনা করেন, প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে ফন্দি আঁটেন, দলকে প্রশিক্ষণ ও টেকনিক্যালি সহযোগিতা করেন, দলকে সাফল্যের মুখ দেখাতে কৌশল নির্ধারণ করেন, তিনি খেলেন না খেলান। হ্যাঁ, বলছিলাম কোচদের কথাই। খেলোয়াড়ের পাশাপাশি তারাও দলে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। আর দলের সফলতা ও ব্যর্থতা অধিকাংশ নির্ভর করে তাদের ওপর। দলকে সাফল্যের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যান। খেলোয়াড়দের উত্সাহ-প্রেরণা জোগান। দলকে জেতাতে আগে থেকেই রণকৌশল ঠিক করে রাখেন। কোন স্টাইলে ব্যাটিং আর বোলিং করতে হবে, ফিল্ডিং কীভাবে দিতে হবে, কার কোন স্থান পরিবর্তন করতে হবে, কোন বোলার বল করবে, এসব সিদ্ধান্ত নেন মূলত কোচরাই। তবে মাঠে দলনেতা এসব সিদ্ধান্ত প্রয়োগ করেন। পর্দার অন্তরালে থেকে যারা দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তাদের নিয়ে আমাদের আজকের আয়োজন।
টিমোথি জন নেলসন (অস্ট্রেলিয়া)
এবারের বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার কোচ টিমোথি জন নেলসন। গত বিশ্বকাপের পর জন বুকানন কোচের দায়িত্ব ছেড়ে দিলে অস্ট্রেলিয়ার কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেন তিনি। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়াকে পঞ্চমবারের মতো বিশ্বকাপ শিরোপা এনে দিতে তিনি সেভাবেই তৈরি করেছেন দলকে। জন নেলসন জম্মগ্রহণ করেন ব্রিটেনে ১৯৬৮ সালের ৫ মে। ১৯৯৯ সালে তিনি অবসরে যান। ২০০৭ সালে ৫ ফেব্রুয়ারি জন বুকাননের স্থলাভিষিক্ত হন তিনি।
গ্যারি কারস্টেন (ভারত)
এবারের বিশ্বকাপের হট ফেভারিট ভারত। কোচের দায়িত্বে আছেন দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক খেলোয়াড় গ্যারি কারস্টেন। ৪৩ বছর বয়সী গ্যারি ১৯৬৭ সালে ২৩ নভেম্বর দক্ষিণ আফ্রিকায় জন্মগ্রহণ করেন। প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটার পল কারস্টেনের ভাই গ্যারি কারস্টেন দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে ১৮৫টি ওয়ানডে ও ১০১টি ম্যাচ খেলেছেন। তিনি দলের হয়ে টেস্টে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ২৭৫ রানের রেকর্ড গড়েছিলেন। ২০০৩ সালে ২৭৭ রান করে জ্যাক ক্যালিস এ রেকর্ড ভাঙেন। ২০০৮ সালে তিনি ভারতের কোচের দায়িত্ব নেন।
এন্ডি ফ্লাওয়ার (ইংল্যান্ড)
এন্ডি ফ্লাওয়ার জিম্বাবুয়ের সাবেক খেলোয়াড়। ২০০৭ সালে ইংল্যান্ড দলের গুরুদায়িত্ব নেন। ১৯৬৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় তিনি জম্মগ্রহণ করেন। ১৯৯২ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা শুরু করেন। তিনি মোট ৬৩টি টেস্ট ম্যাচ খেলেছেন। এরমধ্যে ছিল ১২টি সেঞ্চুরি আর ২৭টি হাফসেঞ্চুরি। ওয়ানডে ক্রিকেটেও তিনি সংগ্রহ করেছিলেন ৬৭৮৬ রান। ৪টি সেঞ্চুরি ও ৫৫টি হাফসেঞ্চুরি ছিল এর মধ্যে।
ট্রেভর বেলিস (শ্রীলঙ্কা)
ট্রেভর বেলিস। তিনি শ্রীলঙ্কা দলের কোচ। ১৯৬২ সালের ২১ ডিসেম্বর তিনি শ্রীলঙ্কাই জন্মগ্রহণ করেন। দেশের ক্রিকেটকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে ২০০৭ সালে তিনি কোচের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দেশকে ১৫ বছর পর আবারও শিরোপা এনে দিতে এবারের বিশ্বকাপে তিনিই থাকবেন কোচের দায়িত্বে। বিশ্বের যে কোনো ক্রিকেট দলকে টক্কর দিতে শ্রীলঙ্কান দলকে প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছেন।
ওয়াকার ইউনুস (পাকিস্তান)
এক সময়ের বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুতগতির পাকিস্তানি বোলার। নাম তার ওয়াকার ইউনুস। তবে পুরো নাম হচ্ছে ওয়াকার ইউনুস মাইতলা। তিনি ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের পাঞ্জাবে জন্মগ্রহণ করেন। বর্তমানে পাকিস্তানের কোচের দায়িত্বে আছেন। ২০০৬ সালে তিনি দেশের বোলার কোচ হিসেবে দায়িত্ব পান। বিশ্বব্যাপী যখন পাকিস্তানি দলকে নিয়ে সমালোচনা আর অন্তর্কোন্দল, ফর্মহীনতা তখন ওয়াকার ইউনুস খুবই সতর্কভাবে এবারের বিশ্বকাপের জন্য দল গুছিয়েছেন। বিশ্বজয়ের স্বপ্নে শীর্ষদের এরই মধ্যে কৌশল ঠিক করে দিয়েছেন।
জন রাইটস (নিউজিল্যান্ড)
এবারের বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের কোচ হিসেবে আছেন জন রাইটস। ১৯৫৪ সালের ৫ জুলাই তিনি নিউজিল্যান্ডে জন্মগ্রহণ করেন। কিউইদের সাবেক এ অধিনায়ক কোচের অভিজ্ঞতা ১৮ বছরের। কিউইদের হয়ে ১৪৯টি ওয়ানডে ও ৮২টি টেস্ট ম্যাচ খেলেছেন। সংগ্রহে ছিল ৫৫৩৪ রান টেস্টে আর ৩৮৯১ রান ওয়ানডে ম্যাচে। ২০১০ সালে জন রাইটস নিউজিল্যান্ডের কোচের দায়িত্ব নেন।
জেমি সিডন্স (বাংলাদেশ)
টাইগারদের সাফল্যের পেছনে কাজ করে যাচ্ছেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক খেলোয়াড় জেমি সিডন্স। ১৯৬৪ সালে অস্ট্রেলিয়ায় তার জন্ম। ২০০৭ সালের ২৮ অক্টোবরে তিনি বাংলাদেশে কোচ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। আগে তিনি ভিক্টোরিয়া ও সাউথ অস্ট্রেলিয়ার হয়ে খেলেছিলেন প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট। ১৬ বছরের ক্যারিয়ারে তিনি মাত্র একটি ওয়ানডে ক্রিকেট খেলেন। তবে খেলায় অভিজ্ঞতা যাই হোক, তিনি কোচ হিসেবে বেশি সফল।
অ্যালন বুচার (জিম্বাবুয়ে)
জিম্বাবুয়ের কোচ অ্যালন বুচার। ১৯৫৪ সালে তিনি ইংল্যান্ডে জন্মগ্রহণ করেন। খেলতেন ইংলিশদের হয়ে। ২০১০ সালে তিনি জিম্বাবুয়ে দলের কোচের দায়িত্ব নেন।
ফিল সিমন্স (আয়ারল্যান্ড)
ফিল সিমন্স আয়ারল্যান্ডের কোচ। তিনি ১৯৬৩ সালের ১৮ এপ্রিল ত্রিনিদাদে জন্মগ্রহণ করেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের অলরাউন্ডার ছিলেন। খেলেছেন ২৬টি টেস্ট ও ১৪৩টি ওয়ানডে ম্যাচ। ২০০৭ সালে তিনি আইরিশদের কোচ হিসেবে যোগ দেন।
গিবসন (ওয়েস্ট ইন্ডিজ)
প্রথম বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজের কোচ গিবসন। ১৯৬৯ সালের ১৬ মার্চ বার্বাডোজে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে দুটি টেস্ট ও ১৫টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছেন তিনি। ২০০৭ সালে ইংল্যান্ডের বোলিং কোচের দায়িত্ব পালন করেন।
পিটার ড্রিনেন (নেদারল্যান্ডস)
নেদারল্যান্ডসের কোচ হিসেবে আছেন পিটার ড্রিনেন। ১৯৫৫ সালে তিনি নেদারল্যান্ডসেই জন্মগ্রহণ করেন। ২০১০ সালে নিজের দেশে কোচ হিসেবে নিযুক্ত হন।
বেনজাইল (দক্ষিণ আফ্রিকা)
দক্ষিণ আফ্রিকার কোচের দায়িত্বে আছেন বেনজাইল। তিনি ১৯৬১ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় জন্মগ্রহণ করেন। ক্রিকেট জীবনে তিনি মাত্র দুটি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছেন।
পাডুমো ডাসানায়েক (কানাডা)
কানাডা দলে আছেন পাডুমো ডাসানায়েক। ১৯৭০ সালে তিনি শ্রীলঙ্কায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি কানাডা ও শ্রীলঙ্কার হয়ে খেলেছেন। ২০০৭ সালে তিনি কানাডার কোচের দায়িত্ব নেন।
এলডিন বেপটিন্স (কেনিয়া)
কেনিয়ার কোচ এলডিন বেপটিন্স। ১৯৬০ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে ৪৩টি ওয়ানডে ও ১০টি টেস্ট ম্যাচ খেলেছিলেন। ২০০৯ সালে তিনি কেনিয়ার কোচ হিসেবে দায়িত্ব পান।

প্রভার অপূর্ববিচ্ছেদ

http://dc142.4shared.com/img/386393608/ce3af9eb/dlink__2Fdownload_2FZ_5FT8qSE-_2FProva_5Fscandal_5Fpart_5F3.3gp_3Ftsid_3D20110220-140806-a2f161be/preview.flv
শেষ পর্যন্ত বিচ্ছেদই ঘটল অপূর্ব-প্রভার। প্রায় পাঁচ মাস আলাদা থাকার পর আনুষ্ঠানিকভাবে হয়ে গেল তাদের ডিভোর্স। এ জন্য অপূর্বকে শরিয়ত মোতাবেক দেনমোহরের টাকাও গুনতে হয়েছে। ডিভোর্সের পর অপূর্ব মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। তবে প্রভার মধ্যে তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি। প্রসঙ্গত, বহুল আলোচিত একটি ভিডিও ক্লিপই এ বিচ্ছেদের অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন অনেকেই।

টসে জিতে ফিল্ডিং নেওয়ার নেপথ্যে

টস হারাটা যেন মহেন্দ সিং ধোনির শাপেবর হলো। বাংলাদেশের অধিনায়ক সাকিব আল হাসান টস জিতে ফিল্ডিং নিয়ে যেন নিজের পায়ে নিজেই কুড়াল মারলেন। ভারতকে ব্যাটিং করতে দেওয়ার মজাটা হাড়ে হাড়ে টের পেলেন। বিরেন্দর শেবাগের ক্যারিয়ার সেরা ১৭৫ রান এবং বিরোট কোহলির দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে ৩৭০ রানের পাহাড়ে পেঁৗছে ভারত। মূলত তখনই ম্যাচ হাতছাড়া হয়ে যায় বাংলাদেশের। তবে মিরপুরের এই চেনা উইকেটে ফিল্ডিং নেওয়ার পেছনে সাকিবের যুক্তিও রয়েছে। 'ভারতকে প্রথমে ব্যাটিং করে চাপে ফেলতে চাই' টস জয়ের পর এভাবেই নিজের অভিমত ব্যক্ত করেছেন। ভারত এবারের আসরের হট ফেভারিট। তাই তাদের বিরুদ্ধে জিততে হলে কিছুটা তো ভাগ্যের সহায়তাও চাই। এ কথা আগেই বলেছিলেন টাইগার দলপতি। তবে ভাগ্যদেবী কাল সাকিবদের দিকে মুখ ফিরে তাকায়নি। তাই ভারত চাপে রাখার বদলে উল্টো বাংলাদেশের ঘাড়েই চাপের মস্ত এক বোঝা চেপে যায়। শেষ পর্যন্ত সেই চাপ থেকে আর বাড়াতে পাড়েনি টাইগাররা।

বাংলাদেশের প্রধান শক্তি স্পিন, তাই দিনের আলোতে উইকেটে টার্ন থাকতে পারে। তাছাড়া পোর্ট অব স্পেনে তো প্রথমে ফিল্ডিং করে ভারতকে ১৯১ রানেই অল আউট করেছিল টাইগাররা, হয়তো সেই স্মৃতিও উঁকি মারছিল সাকিবের মনে। তাই ভারতের মারকুটে ব্যাটিং লাইন আপের সামনে ফিল্ডিং সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধাবোধ করেননি সাকিব।

বাংলাদেশ ভালো লড়লেও জয় ভারতের

 ভারত : ৩৭০/৪ (৫০ ওভার), বাংলাদেশ : ২৮৩/৯ (৫০ ওভার), ফলাফল : ভারত ৮৭ রানে জয়ী

বাংলাদেশ ভালো লড়লেও জয় হলো ভারতের। উৎসবের আমেজে যাত্রা শুরু হলো বিশ্বকাপ ক্রিকেট-২০১১ এর। শুরুর দিনই টাইগারদের ম্যাচ থাকায় সারাদেশেই ছিল বাড়তি উত্তেজনা। মিরপুর যেন উন্মাদনার সাগরে পরিণত হয়েছিল। গতকাল স্টেডিয়াম এলাকা ছিল সারাবিশ্বের ক্রিকেটামোদীদের পদচারণায় মুখরিত। স্টেডিয়ামের বাইরেও ছিল জনসে াত। লাখ লাখ দর্শক বাংলাদেশ বাংলাদেশ বলে চিৎকারে স্টেডিয়াম এলাকা প্রকম্পিত করেছিল। সরাসরি খেলা দেখা যাবে না তাতে কি! স্টেডিয়ামের বাইরে থেকেই যেন তারা অভিনন্দন বার্তা জানিয়ে দিচ্ছিল সাকিবদের। স্টেডিয়ামের ভেতরের চিত্র অন্য রকম। লাল-সবুজ চাদরে মোড়ানো পুরো মাঠ, গ্যালারিও। সমর্থকদের গায়ে প্রিয় দলের জার্সি, হাতে লাল-সবুজের গর্বের পতাকা। পুরো স্টেডিয়ামেই ছিল উৎসবের আমেজ। তবে টস জিতে বাংলাদেশের অধিনায়ক সাকিব আল হাসান ভারতকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানালে চিত্র পাল্টে যায়। শেবাগ-কোহলির মারকুটে ব্যাটিংয়ে দর্শকদের আনন্দ যেন বেদনায় রূপান্তরিত হয়। সবার মুখেই তখন হতাশার ছাপ। স্বপ্নের বিশ্বকাপে পরাজয় দিয়ে যাত্রা শুরু করল সারথিরা। টাইগারদের প্রিয় মাঠ মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামই মৃত্যুকূপে পরিণত হয়েছিল গতকাল। বড় একটা ধাক্কা খেল স্বপ্নকাতর দেশবাসী। দিবা-রাত্রির ম্যাচে টস সব সময়ই বড় ফ্যাক্টর। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মতে, দিবা-রাত্রির ম্যাচে টস জিতলেই ৫০ ভাগ ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। কিন্তু টস জিতে ফিল্ডিং নিয়ে গতকাল সাকিব কি তাহলে নিজের পায়ে নিজেই কুড়াল মারলেন? সেটা যাদের ভাবার তারাই ভাববেন। তবে প্রথমে ফিল্ডিং নেওয়ার সিদ্ধান্ত ভুল ছিল না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, 'আজ আমাদের খারাপ দিন ছিল। পেসাররা ভালো করতে পারেননি। তবে পরের ম্যাচেই ফিরব।' প্রথমে ফিল্ডিং নেওয়ার পেছনে পোর্ট অব স্পেনের সেই স্মৃতিও সাকিবকে প্রভাবিত করতে পারে। কেননা গত বিশ্বকাপের সেই ম্যাচে বাংলাদেশ প্রথমে ভারতকে ব্যাটিং করতে দিয়ে ১৯১ রানেই অলআউট করেছিল। তারপর ব্যাটিংয়ে নেমে তামিম, সাকিব, মুশফিকের দুর্দান্ত হাফ সেঞ্চুরিতে মহাকাব্যিক সে জয়, যা এখনো বাংলাদেশের কাছে মধুর স্মৃতি হয়ে আছে। তবে কাল সাকিবদের বাস্তবে নামালেন ধোনিরা। ভারত ৮৭ রানে জিতে বুঝিয়ে দিল পুরনো স্মৃতি যতই মধুর হোক তা এখন শুধুই অতীত। গতকাল এক শেবাগের কাছেই হেরে গেল বাংলাদেশ। বিরাট কোহলির অভিষেক সেঞ্চুরিও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। শেবাগ-কোহলি মিলে তৃতীয় উইকেটজুটি ২০৩ রান করে ভারতকে পেঁৗছে দেয় দুর্গম পাহাড়ের চূড়ায়। ৩৭০ রান বিশ্বকাপে ভারতের তৃতীয় সর্বোচ্চ (বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ৪১৩ বারমুডার বিরুদ্ধে ২০০৭ ওয়েস্ট ইন্ডিজে)। শেবাগ তার ক্যারিয়ারসেরা ১৭৫ রানের অসাধারণ একটি ইনিংস খেলেছেন। ১৪০ বলে ১৪টি চার ও ৫টি ছয়ে সাজানো ইনিংসটি ওয়ানডের ইতিহাসে দশম সর্বোচ্চ রানের তালিকায় স্থান পেয়েছে। শেবাগের দিনে সুবিধা করতে পারেননি লিটল মাস্টার শচীন টেন্ডুলকার। তিনি দুর্ভাগ্যজনকভাবে ২৮ রান করেই রানআউট হয়ে যান। দুর্ভাগ্যের ছোঁয়ায় ব্যাটিং জিনিয়াস তার ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ শুরু করলেও ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলে পাকিস্তানি তারকা জাভেদ মিয়াঁদাদকে ছুঁয়ে ফেলেন কালই। সাকিব বাহিনীও ৬৯ রানের মাথায় প্রথম উইকেটের পতন ঘটিয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন। উইকেটে এসে নামের প্রতি সুবিচার করে খেলতে পারেননি বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ভারতের সবচেয়ে সফল ব্যাটসম্যান গৌতম গম্ভীরও। তবে শেবাগ-কোহলিরা যখন তাণ্ডব চালাচ্ছিলেন তখন গ্যালারি ছিল সুনসান। যেন খেলা হচ্ছে মরুভূমিতে, আর হাজারও মানুষের মূর্তি তা ঠায় দাঁড়িয়ে তা দেখছে। তাদের অনুভূতি নেই। নেই আবেগও। মাঝে মাঝে স্টেডিয়ামের বাইরে থেকে আসছিল ভুভুজেলার আওয়াজ। সাকিবদের সংকটের দিনে সে শব্দও খুবই বিদঘুটে শোনাচ্ছিল। পুরো গ্যালারি তখন শোকে বিহ্বল। টাইগাররা ব্যাটিংয়ে নামার সঙ্গে প্রাণ ফিরে আসে গ্যালারিতে। প্রথম ৫ ওভারে তামিম ইকবাল ও ইমরুল কায়েসের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ৫১ রান করেন টাইগাররা। উত্তেজনায় কাঁপতে থাকে পুরো স্টেডিয়াম। কিন্তু ৫৬ রানের মাথায় ইমরুল ২৯ বলে ৩৪ রান করে আউট হয়ে গেলে বাংলাদেশের ইনিংসও কিছুটা ঝিমিয়ে পড়ে। তারপর জুনায়েদ সিদ্দিকের সঙ্গে তামিম ৭৩ রানের জুটি গড়ে পাহাড় টপকে বাংলাদেশকে জয়ের স্বপ্ন দেখান। সেই স্বপ্নে বাড়তি রঙ ঢেলে দেয় অধিনায়ক সাকিবের সঙ্গে তামিমের গড়া ৫৯ রানের পার্টনারশিপটি। তবে ১৮৮ রানের মাথায় ব্যক্তিগত ৭০ রান করে তামিম আউট হয়ে গেলে দেশবাসীর স্বপ্নও অনেকটা ফেকাসে হয়ে যায়। স্তব্ধ হয়ে যায় পুরো গ্যালারি। মুনাফ প্যাটেলের বলে দুর্দান্ত একটি ক্যাচ ধরে যুবরাজ সিং তামিমকে ফিরিয়ে দেন। স্ট্যাম্পিংয়ের ফাঁদে পড়েন জুনায়েদ। তবে এ আউটটি ঘিরে বাতাসে বিতর্কের গন্ধ ছড়িয়ে বেড়াচ্ছে। কেননা ক্রিকেটে সব সময় ফিফটি ফিফটি সুযোগ তৈরি হলে তা ব্যাটসম্যানের পক্ষেই যায়। কিন্তু কাল হলো তার উল্টো। টাইগাররা শেষ পর্যন্ত লড়াই করে দেখিয়ে দিলেন, দুর্গম গিরি হলেও বুকে সাহস থাকলে তা টপকানো অসম্ভব নয়। সাকিব যতক্ষণ উইকেটে ছিলেন ততক্ষণ তো বাংলাদেশের আশা ছিলই। ৫৫ রানে সাকিব আউট হয়ে যাওয়ার পড়েই ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় বাংলাদেশ। তবে ৮৭ রানের এই হারেই টাইগারদের সব সম্ভাবনা কিন্তু শেষ হয়ে যায়নি। বাকি ম্যাচগুলোতে সাকিবরা কেমন করেন তা দেখার অপেক্ষায় দেশবাসী। 

শ্রীশান্তের দুঃস্বপ্ন!


ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হয়নি। গত বিশ্বকাপের মতো এবার আর ভারতকে বধ করা যায়নি। কিন্তু তাতে কী! টাইগাররা ভারতকে জবাবটা মন্দ দেয়নি। অন্তত তুলোধুনো তো করেছে ভারতের আগ্রাসী বোলার শ্রীশান্তকে। আর বেচারা ধোনি তো তাতে ভয়ই পেয়ে গিয়েছিলেন। আর কী চাই!
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের পারফরমেন্সে হতাশ হয়েছেন, এমন মানুষ খুব কমই পাওয়া যাবে। ভারতের মতো শক্তিশালী ব্যাটিংনির্ভর দলের বিপক্ষে শুরুতে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্তটা না নিলে ফলাফলটা হয়তো অন্য রকমও হতে পারত। আমাদের ব্যাটসম্যানরা এমন আশা বেশ ভালোভাবেই জাগিয়ে তুলেছিলেন। আর গতকালকের নখ-দন্তহীন বোলিং আক্রমণ মাশরাফির অনুপস্থিতিটা বারবারই মনে করিয়ে দিচ্ছিল।
তবে ৮৭ রানের হার দিয়ে শুরু হলেও প্রাপ্তিটা কিন্তু একেবারেই কম না টাইগারদের। ঘরের মাটিতে বিশ্বকাপের যে উত্তেজনা তাতে অন্তত পানি ঢেলে দেননি ইমরুল-তামিম-সাকিবরা। বরং বাংলাদেশের আপামর ক্রিকেটপাগল মানুষকে অন্তত কিছুক্ষণের জন্য হলেও আনন্দে মাতিয়েছিলেন তারা। বিশেষত ইমরুল কায়েস।
উপলক্ষটা করে দিয়েছিলেন শ্রীশান্ত। মাঠের উগ্র আচরণের কারণে হয়তো শুরু থেকেই ভারতীয় এই ফাস্ট বোলারের ওপর আলাদাভাবেই কিছুটা ক্ষুব্ধ ছিল বাংলাদেশ সমর্থকেরা। যেন টাইগাররা শুধু শ্রীশান্তকে উড়িয়ে দিতে পেরেছে বলেই আলাদাভাবে খুশি বাংলাদেশের মানুষ। মাত্র পাঁচ ওভার বল করে বেচারা শ্রীশান্ত দিয়েছেন ৫৭ রান।
ইনিংসের প্রথম ওভারে বল করতে আসলেন শ্রীশান্ত। একটা চারসহ সেই ওভারে তামিম নিলেন আট রান। শ্রীশান্ত দ্বিতীয় ওভারে মুখোমুখি হলেন ইমরুল কায়েসের। এই ওভার থেকেও এল আট রান। তবে এবার দুটাই চার। কিন্তু শ্রীশান্তের তৃতীয় ওভারটা রীতিমতো দুঃস্বপ্নে পরিণত করলেন ইমরুল। শুরুতেই একটা সিঙ্গেল নিয়ে ইমরুলকে স্ট্রাইকে পাঠালেন তামিম। দ্বিতীয় বলেই চার। তৃতীয় বলে স্কোয়ার লেগ দিয়ে আবারও বল চলে গেল সীমানার বাইরে। আম্পায়ার নো বলের ইশারা করতেই দর্শকদের উল্লাস আরও বেড়ে গেল। ফ্রি-হিট। এবার আরও হাত খুলে ব্যাট চালালেন ইমরুল। সেই স্কোয়ার লেগ দিয়ে আবারও চার। দর্শকেরা যেন প্রায় ফেটে পড়ল উল্লাসে। ওভারের পঞ্চম বলটা ইমরুল খেললেন রক্ষণাত্মক ভঙ্গিতে। কোনো রান হলো না। এবার টিভি স্ক্রিনে শ্রীশান্তকে একপলক দেখা যেতেই মাশরাফির বাক্য ধার করে এক দর্শককে বলতে শোনা গেল, ‘দাঁড়া, ধরে দেবানি!’ এই কথার মান রাখতেই বোধহয় পরের বলটা আবারও সীমানার বাইরে পাঠালেন ইমরুল। চার! শ্রীশান্ত যে রীতিমতো নাজেহাল হয়ে পড়েছেন, তার প্রমাণ পাওয়া গেল পরের বলটায়। বলটা ডেলিভারি দিলেন উইকেটের প্রায় বাইরে দিয়ে। এত বড় ওয়াইড, যে উইকেটরক্ষক ধোনি অনেক চেষ্টা করেও বলটা আটকাতে পারলেন না। ওয়াইড বলে আবারও চার। ওভারের শেষ বলটাও যদি সীমানার বাইরে যেত, তাহলে বোধহয় ষোলকলা পূর্ণ হতো। কিন্তু এবার শুধু এক রান। ওই ওভার থেকে এসেছিল মোট ২৪ রান। ধোনি পরবর্তী ওভারে আর শ্রীশান্তের হাতে বল তুলে দেওয়ার সাহস দেখালেন না। তিন ওভারে ৪০ রান দিয়ে প্রথম স্পেল শেষ করলেন ভারতীয় এই ফাস্ট বোলার।
ইমরুল আউট হয়ে যাওয়ার পর দ্বিতীয় স্পেলে আরও দুই ওভার বল করেছিলেন তিনি। কিন্তু এবারও তাঁকে খুব বেশি স্বস্তিতে থাকতে দিলেন না তামিম আর সাকিব। একটা চারসহ ওই দুই ওভার থেকে বাংলাদেশের অধিনায়ক আর সহ-অধিনায়ক নিলেন ১৭ রান। পরে আর শ্রীশান্তের হাতে বল তুলে দেননি ধোনি। ভারতের বিশ্বকাপ মিশন জয় দিয়ে শুরু হলেও শ্রীশান্তের স্বপ্নে বোধহয় বেশ কিছুদিন হানা দিতে পারে ইমরুল, সাকিব, তামিমদের ব্যাট। দুঃস্বপ্ন হয়ে!

বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচে


শেবাগের ১৭৫
 শেবাগের সর্বোচ্চ রান, আগের সর্বোচ্চ ১৪৬ (শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে, রাজকোট, ২০০৯)।
 বাংলাদেশের মাটিতে সর্বোচ্চ ইনিংস। আগের সর্বোচ্চ ১৪১, টেন্ডুলকার, ভারত-অস্ট্রেলিয়া, ১৯৯৮।
 মিরপুরে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস। আগের সর্বোচ্চ অপরাজিত ১২৯, সালমান বাট, পাকিস্তান-ভারত, ২০০৮।
 বাংলাদেশের বিপক্ষে ২য় সর্বোচ্চ, সর্বোচ্চ ১৯৪*, চার্লস কভেন্ট্রি, জিম্বাবুয়ে, ২০০৯।
 শেবাগের ১৪তম ওয়ানডে সেঞ্চুরি।
 বিশ্বকাপে শেবাগের ২য় সেঞ্চুরি, বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম।

ভারতের ৩৭০
 বাংলাদেশের মাটিতে সর্বোচ্চ রান
 বাংলাদেশের বিপক্ষে ভারতের সর্বোচ্চ
 বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচের সর্বোচ্চ রান
 ওয়ানডেতে বাংলাদেশের বিপক্ষে ৩য় সর্বোচ্চ
 বাংলাদেশের মাটিতে তিন শ পেরোনো ১৫তম স্কোর।

কোহলির ১০০*
 ওয়ানডেতে ভারতীয় ব্যাটসম্যানের পঞ্চম সেঞ্চুরি।
 বাংলাদেশের বিপক্ষে কোহলির দ্বিতীয় সেঞ্চুরি (আগেরটিও ছিল মিরপুরে)।

২০৩ রানের জুটি
 শেবাগ-কোহলির ২০৩ রানের জুটি তৃতীয় উইকেটে মিরপুরে সর্বোচ্চ (আগের রেকর্ড ১৩০*, আশরাফুল-নাফিসের, আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে, ২০০৮)।
 বিশ্বকাপে যেকোনো উইকেটে অষ্টম সেরা।
 বিশ্বকাপে তৃতীয় উইকেট জুটিতে তৃতীয় সর্বোচ্চ। সেরা টেন্ডুলকার-দ্রাবিড়ের অপরাজিত ২৩৭ (কেনিয়ার বিপক্ষে, ১৯৯৯)।
 বাংলাদেশের বিপক্ষে যেকোনো জুটিতে ষষ্ঠ সর্বোচ্চ রান।
 বাংলাদেশের মাটিতে ৫ম ও মিরপুরের ৪র্থ সর্বোচ্চ জুটি।

Saturday, February 19, 2011

উত্সবের সাজে উত্তাল বাংলাদেশ


‘এখানে এসেছি বিশ্বকাপের আনন্দমুখর পরিবেশের স্বাদ নিতে। দুই দিন লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও উদ্বোধনী ম্যাচটার টিকিট পাইনি। তাই আমার জন্য বিশ্বকাপ উপভোগের এটাই সবচেয়ে ভালো উপায়।’ কথাগুলো বলছিলেন একজন ব্যাংক কর্মকর্তা বিপুল সরকার। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে শুভকামনা জানাতে আরও অনেকের মতো তিনিও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের দিন সকালেই চলে এসেছিলেন বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে। টিকিট পাওয়া নিয়ে আক্ষেপ না করে হাজারও মানুষ এভাবেই খুঁজে নিয়েছে আনন্দের উপলক্ষ। মেতে উঠেছে ক্রিকেটের আনন্দে।
শুধু আজ সকালেই না। ১৭ ফেব্রুয়ারি বিশ্বকাপের দশম আসরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনটা হয়ে যাওয়ার পরপরই নেচে উঠেছে বাংলাদেশের ক্রিকেটপাগল মানুষ। বিশ্বকাপ উপলক্ষে পুরো ঢাকাই সেজেছে উত্সবের সাজে। বর্ণিল আলোকসজ্জায় ঝলমল করছে চারদিক। গতকাল শুক্রবার রাতেও ঢাকার কিছুটা ফাঁকা রাস্তায় মাঝেমধ্যে দেখা গেছে বাংলাদেশের পতাকা বা বিশ্বকাপ ‘ট্রফি’ হাতে উল্লসিত তরুণদের। অনেকেই বলেছে, ক্রিকেট বিশ্বকাপটা এবার বাংলাদেশের জন্য একেবারেই নতুন ধরনের অভিজ্ঞতা। গার্মেন্টস মার্চেন্ডাইজার শফিউল ইসলামের ভাষায়, ‘আমি ২২ বছর ধরে ঢাকায় আছি। কিন্তু কখনোই এই শহরের এত বর্ণিল, প্রাণবন্ত চেহারা দেখিনি।’
আজ বেলা আড়াইটায় বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে ভারতের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। যে সৌভাগ্যবানেরা সরাসরি মাঠে বসে এই মহারণটা দেখার সুযোগ পাবে, তাদের আনন্দ তো বোধহয় ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। আর যারা টিকিট পায়নি, তারাও কোনো না কোনোভাবে অংশ হতে চাইছে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের এই মাহেন্দ্রক্ষণের। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী নীলিমা রায় বলেছেন, ‘এটা আমাদের জন্য খুবই বিরল একটা মুহূর্ত। আমি এটা কোনোভাবেই হারাতে চাইনি। সে জন্য আমি সকালেই চলে এসেছি স্টেডিয়ামে।’ খেলা চলার সময় মাঠে স্বেচ্ছাসেবকের দায়িত্ব পেয়েছেন আবদুল আজিজ। এ দায়িত্বটা পেয়ে নিজেকে খুবই সৌভাগ্যবান উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, ‘ সত্যিই আজ আমাদের জন্য বিশেষ একটা দিন। আমি জানি না, আমার জীবদ্দশায় এ রকম অভিজ্ঞতা আর কখনো হবে কি না।’ রয়টার্স।