Friday, July 18, 2014

বাইক ছুঁলেই...

আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ, রাজশাহী | আপডেট: ০১:৪৪, জুলাই ১৮, ২০১৪ |
বাইকের হাতল নাড়ালেই কল চলে যাবে মুঠোফোনে, দেখাচ্ছেন আতাউর রহমান। ছবি: প্রথম আলোমোটরবাইক চুরি হয়ে যাওয়ার ঘটনা প্রায়ই ঘটে। আর একবার চুরি হয়ে গেলে মোটরসাইকেল ফিরে পাওয়া সে এক কঠিন কাজ। কিন্তু যদি এমন হয়, চোর এসে মোটরসাইকেল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেই স্বয়ংক্রিয় একটা কল চলে যাবে বাইকের মালিকের মুঠোফোনে! একই সঙ্গে মোটরবাইকও সতর্কসংকেত দিতে থাকবে। এই যন্ত্র বাড়িতে ও দোকানেও ব্যবহার করা যাবে। এগুলো যিনি তৈরি করেছেন তিনি রাজশাহীর বাঘা উপজেলার দক্ষিণ মিলিকবাঘা গ্রামের আতাউর রহমান। অবাক হবেন তাঁর বয়স শুনে। আতাউরের বয়স ৬২ বছর। 
বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি মেরামতের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা থেকে যন্ত্রটি তিনি বানিয়েছেন। রাজশাহীতে প্রথম আলো কার্যালয়ে এসে যন্ত্রের খুঁটিনাটিও দেখালেন। আতাউর রহমানের যন্ত্রের তিনটি অংশ মিলে কাজটি করে। প্রধান অংশটির কাজ হচ্ছে চিঁ চিঁ শব্দে সতর্কসংকেত দেওয়া ও মুঠোফোনে কল পাঠানো। বাকি দুটি অংশকে মুখোমুখি করে রাখা হয়। একটির মুখ অন্যদিকে ঘোরালে অথবা দুটির মাঝখান দিয়ে কেউ প্রবেশ করলেই শব্দ উৎপাদক অংশটি কাজ শুরু করে দেয়। মুখোমুখি রাখা দুটি যন্ত্রে সেন্সর বসানো আছে। ফলে এ দুটির মাঝখান দিয়ে কেউ গেলে অথবা অন্যদিকে মুখটা ঘোরালেই সেন্সরে তা ধরা পড়ে এবং প্রধান যন্ত্রটি শব্দ করতে থাকে। 
আতাউর রহমান মোটরবাইকে এই যন্ত্রটি ক্ষুদ্রাকারে সংযোজন করতে পারেন। অন্য কোনো চাবি দিয়ে মোটরসাইকেলের হাতল সোজা করলেই দুটি যন্ত্রের মুখ দুদিকে ঘুরে যায়। আর সঙ্গে সঙ্গে তৃতীয় যন্ত্রটি কাজ শুরু করে। আবার নিজের চাবি দিয়ে হাতল খোলার সময় মালিক যন্ত্রটি বন্ধ রাখবেন। তাহলে কোনো শব্দ হবে না। এ জন্য ছোট্ট একটি সুইচ থাকবে। সুইচের অবস্থান শুধু মালিকই জানবেন।
আতাউর রহমান বলেন, দুই হাজার টাকায় যন্ত্রটি মোটরসাইকেলে সংযোজন করা যায়। বাসা বা দোকানের জন্য খরচ হয় তিন হাজার টাকা। এক সারিতে ৩০টি দোকান থাকলে একটি যন্ত্র স্থাপন করলেই চলবে। বাসায় কেউ না থাকলে রিং দেওয়ার পাশাপাশি চেঁচিয়ে যন্ত্রটি প্রতিবেশীর নজর কাড়তে পারবে। আবার বাজারের দোকানের ক্ষেত্রে পথচারীর মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারবে। 
দীর্ঘদিন ইলেকট্রনিকস যন্ত্রপাতি সারাইয়ের কাজ করছেন আতাউর রহমান। সেই অভিজ্ঞতা ও ভালোলাগা থেকেই নিজে নিজে নতুন নতুন যন্ত্রপাতি তৈরি করেন। চুরি ঠেকানোর এই যন্ত্র ছাড়াও স্বল্প খরচে লিফট তৈরি করেছেন তিনি। বাঘায় নিজের দোকানে সেটা ব্যবহারও করছেন। তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হচ্ছে একটি গবেষণাগার তৈরি করে সেখানে উৎসাহী যুবকদের উদ্ভাবনী কাজে প্রশিক্ষণ দেওয়া।

Saturday, October 26, 2013

ইউনিকোডে লেখা বাংলা বিজয়ে

আপডেট: ০০:৩৮, অক্টোবর ২৬, ২০১৩ |
কম্পিউটারে বাংলা লেখার ক্ষেত্রে বিজয় সফটওয়্যার বেশ জনপ্রিয়। তবে অনেকেই ইউনিকোডের ফোনেটিক কি-বোর্ডে বাংলা লেখা চর্চা করেন। কম্পিউটারে বিজয় সফটওয়্যার ইনস্টল করা না থাকলেও বিজয়ে বাংলা লেখা পড়া যায়। এ জন্য বিজয়ের যেকোনো ফন্ট কপি করে C:/Windows/Fonts ফোল্ডারে রেখে দিলে বাংলা লেখা পড়া যায়।
লেখার জন্য অভ্র কি-বোর্ডে ফোনেটিক নিয়মে বাংলা লিখে বিজয়ে তা রূপান্তর (কনভার্ট) করে নেওয়া যাবে। এ জন্য অভ্র কি-বোর্ড ৫.১.০ -এ বাংলা লিখে এর Tools থেকে Unicode to Bijoy text converter-এ ক্লিক করে সেটি খুলে Type or paste Unicode Bangla Text here ঘরে অভ্রতে লেখা বাংলাগুলো কপি করে পেস্ট করে Convert to Bijoy encoding বোতাম চাপলে সেটি বিজয়ের নিয়মে রূপান্তর হয়ে যাবে। এবার রূপান্তরিত লেখাগুলো নির্বাচন করে বিজয়ের যেকোনো ফন্ট নির্ধারণ করে দিলে বিজয় ফন্টে লেখা হয়ে যাবে।

Tuesday, October 22, 2013

চাইলে ইউএসবি বন্ধ রাখা যায়

আপডেট: ০০:১০, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১৩
কম্পিউটারের ইউএসবি ব্যবহার বন্ধ রাখার প্রয়োজন পড়তেই পারে। আর আপনি ইচ্ছা করলেই রেজিস্ট্রি এডিটরের মাধ্যমে ইউএসবি ব্যবহার বন্ধ রাখতে পারেন। প্রথমে রানে গিয়ে লিখুন regedit। এন্টার করুন। ডায়ালগ বক্সের মধ্যে HKEY_LOCAL_MACHINE ফোল্ডারে দুই ক্লিক করুন। এরপর System ফোল্ডারে দুই ক্লিক করুন। তারপর Current Control Set ফোল্ডারের আবার দুই ক্লিক করুন। এর মধ্যে Services ফোল্ডারে দুই ক্লিক করতে হবে।
এখান থেকে USBSTOR ফোল্ডারের ওপর ক্লিক করুন। ডান পাশে কিছু অপশন প্রদর্শিত হবে এবং তার মধ্যে Start ফোল্ডারে ডান ক্লিক করে Modify অপশনে ক্লিক করুন। এখন Edit DWORD Value নামের একটি ডায়ালগ বক্স প্রদর্শিত হবে এবং তার মধ্যে Value data-এর USBSTOR বক্সের মধ্যে Value 3 মুছে দিয়ে 4 লিখে OK করুন। সবকিছু বন্ধ করে কম্পিউটার আবার চালু (রিস্টার্ট) করুন। এখন আপনার কম্পিউটারে ইউএসবি ড্রাইভ ঢোকালে দেখা যাবে না।
আবার ইউএসবি ব্যবহার করেত চাইলে Value 4 মুছে দিয়ে 3 লিখে OK করুন এবং কম্পিউটার রিস্টার্ট করুন।

উইন্ডোজ আটে সরাসরি অ্যাপস

আপডেট: ০১:৩০, অক্টোবর ০৩, ২০১৩
মাইক্রোসফট উইন্ডোজ ৮ অপারেটিং সিস্টেমে সরাসরি ডেস্কটপ থেকে  কোনো অ্যাপস চালু করার সুবিধা দেওয়া নেই। স্টার্ট মেনুতে গিয়ে তা দেখতে হয়। চাইলে ডেস্কটপ থেকে যেকোনো অ্যাপস চালানো যায়।ডেস্কটপের যেকোনো ফাঁকা স্থানে ডান ক্লিক করুন।NewShortcut থেকে নির্বাচন করুন। এবার Location ঘরে Explorer Shell:AppsFolder লিখে নেক্সট চাপুন। উইন্ডোতে All Programs লিখে Finish করুন। ডেস্কটপে All Programs নামের শর্টকাট ফোল্ডার  তৈরি হয়ে যাবে। এটিতে দুই ক্লিক করলেই সব অ্যাপস দেখা যাবে।

নিজের প্রক্সি সার্ভার

আপডেট: ০০:০২, অক্টোবর ২২, ২০১৩
বাংলাদেশে এখনো ইন্টারনেট যোগাযোগের ক্ষেত্রে সীমিত ব্যান্ডউইথ এবং ধীরগতি একটা সমস্যাই বটে। তবে এই সীমাবদ্ধতা কাটানো যায় ওয়েব ক্যাশিং প্রক্সি সার্ভার তৈরি করে। ক্যাশিং প্রক্সির কাজ হলো যে ওয়েব পেজ দেখা হয়েছে বা হচ্ছে তা ক্যাশ মেমোরিতে সংরক্ষণ করে রাখা এবং আবার ওই পেজ খুললে সেখান থেকেই দ্রুত সরবরাহ করা। এর ফলে ব্যান্ডউইথ সাশ্রয়ের পাশাপাশি দ্রুতগতিতে ওয়েব পেজ দেখা সম্ভব হয়। এর জন্য প্রয়োজন হবে Squid Caching Proxy নামে একটি মুক্ত সফটওয়্যার প্যাকেজ। ডাউনলোড করতে হবে http://goo.gl/orm7WL ঠিকানার ওয়েবসাইট থকে। এর আকার ২ মেগাবাইট।
স্কুইড ২.৭ সংস্করণের জিপ ফাইলটিকে এক্সট্রাক্ট করে squid ফোল্ডারটিকে কপি করে C:/ ড্রাইভে রাখুন। এই ফোল্ডারে etc নামে আরেকটি সাবফোল্ডারে চারটি কনফিগারেশন ফাইল আছে। এগুলোকে Rename করে নামের শেষে .default ফাইল এক্সটেনশন মুছে শুধু .conf পর্যন্ত রাখতে হবে। তারপর squid.conf ফাইলটি নোটপ্যাড দিয়ে খুলে একটু সম্পাদনা করতে হবে। squid ফাইলটি নোটপ্যাডে খোলা অবস্থায় Ctrl+F চেপে Find বক্সে লিখুন http_access deny all এবং দুবার এন্টার করুন।
লক্ষ করুন, হাইলাইট করা লাইনটির আগে কোনো # চিহ্ন নেই। এখানে deny শব্দটি পরিবর্তন করে লিখুন http_access allow all এবং সেভ করুন। এবার স্টার্ট বাটনে ক্লিক করে সার্চ বক্সে cmd লিখে কমান্ড প্রম্পট টুলসটি এলে তাতে রাইট বাটন চেপে Run as administrator দিয়ে খুলুন। সেখানে প্রথমে cd c:quidbin লিখে এন্টার করুন। তারপর squid -i লিখে এন্টার চাপলে এই প্যাকেজটি উইন্ডোজ সার্ভিস হিসেবে রেজিস্ট্রিতে ঢুকে যাবে। এখন squid -z লিখে এন্টার চাপতে হবে। এবার স্টার্ট বাটনে ক্লিক করে সার্চ বক্সে Services লিখে এন্টার করুন। সেখান থেকে Squid খুঁজে বের করে দুই ক্লিক করে খুলুন। স্টার্টআপ টাইপ Automatic এবং সার্ভিস স্ট্যাটাস Start করে ওকে করুন।
ওয়েবসাইট দেখার সফটওয়্যার (ব্রাউজার) ফায়ারফক্স হলে Firefox>Options>Options>Advanced> Network>Settings-এ গিয়ে Manual Proxy Configuration নির্বাচন করে Http Proxy বক্সে লিখুন localhost এবং পোর্ট বক্সে লিখুন ৩১২৮ (স্কুইড সেবার পূর্বনির্ধারিত পোর্ট হলো ৩১২৮)। Use this proxy server for all protocols-এ টিক দিয়ে ওকে করুন। আর ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার হলে Tools>Internet Options>Connections>LAN Settings>Proxy Server-এ টিকচিহ্ন দিয়ে অ্যাড্রেস বক্সে localhost এবং পোর্ট ৩১২৮ লিখে ওকে করুন। তৈরি হলো নিজস্ব ওয়েব ক্যাশিং প্রক্সি সার্ভার, স্কুইড।
যদি একাধিক কম্পিউটার ল্যানে (লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক) যুক্ত থাকে তাহলে অন্যান্য কম্পিউটারে একইভাবে প্রক্সি সেটিং পরিবর্তন করে শুধু localhost এর বদলে স্কুইড যে কম্পিউটারে কনফিগার করা আছে তার আইপি ঠিকানা ব্যবহার করতে হবে। প্রক্সি সার্ভার ব্যবহার করতে না চাইলে ব্রাউজারের সেটিংস আবার আগের মতো করে দিন। স্কুইড সেবাটি উইন্ডোজ রেজিস্ট্রি থেকে মোছার প্রয়োজন হলে Administrator হিসেবে কমান্ড প্রম্পট খুলে সেখানে sc delete squid লিখে এন্টার করলে সেবাটি মুছে যাবে।

Saturday, August 3, 2013

অ্যান্ড্রয়েডের জন্য মাইক্রোসফট অফিস

অ্যান্ড্রয়েডে এমএস অফিসস্মার্টফোনের মুক্ত অপারেটিং সিস্টেম অ্যান্ড্রয়েডের জন্য এবার চালু হচ্ছে মাইক্রোসফট অফিস প্যাকেজ। মাইক্রোসফটের অফিস ৩৬৫ হোম প্রিমিয়াম ও প্রো প্লাস সংস্করণ ব্যবহারকারীরা অ্যান্ড্রয়েড-চালিত স্মার্টফোন ব্যবহার করতে পারবেন। এর আগে মাইক্রোসফট উইন্ডোজ ফোনের পাশাপাশি অ্যাপলের আইওএস-চালিত আইফোনের জন্যও অফিস প্যাকেজ ব্যবহারের সুবিধা চালু করে। এ সুবিধা চালুর ফলে অ্যান্ড্রয়েড-চালিত স্মার্টফোন ব্যবহারকারীরা বিনা মূল্যে মাইক্রোসফট অফিস ব্যবহার করতে পারবেন। অফিস মোবাইল অ্যান্ড্রয়েড সংস্করণে মাইক্রোসফট ওয়ার্ড, এক্সেল ও পাওয়ারপয়েন্ট ব্যবহার করা যাবে। মাইক্রোসফটের একজন মুখপাত্র জানান, মূলত কম্পিউটারে মাইক্রোসফট অফিস ব্যবহার করে পরবর্তী সময়ে যাতে স্মার্টফোন কিংবা ট্যাবলেটেও সে কাজগুলো দেখা যায় এবং প্রয়োজনীয় কাজ করা যায়, সে জন্যই মাইক্রোসফট অফিসের মোবাইল সংস্করণ চালু হয়েছে।
অফিস ৩৬৫ সংস্করণ স্কাইড্রাইভ ওয়েব সেবা ব্যবহার করে, যার ফলে ডেস্কটপ বা মোবাইলে করা কাজগুলো স্কাইড্রাইভে জমা হয় এবং যন্ত্রগুলোতেই তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সিঙ্কক্রোনাইজ হয়ে যায়। উইন্ডোজ ফোনে মাইক্রোসফট অফিসের এ সুবিধা চালুর পর আইওএসের জন্যও মাইক্রোসফট অফিস মোবাইল সংস্করণ চালু করা হয়। অফিস মোবাইল সংস্করণ অ্যান্ড্রয়েড ৪.০ বা পরবর্তী সংস্করণে ব্যবহার করা যাবে। http://goo.gl/qkrYtz ঠিকানার ওয়েবসাইট থেকে অফিস ৩৬৫ সংস্করণ নামানো যাবে।

Friday, August 2, 2013

অ্যাডসেন্সের বিকল্প

শিরোনামটা দেওয়া বোধ হয় কিছুটা ভুল হলো। কারণ, বর্তমানে ওয়েবসাইটে বিষয়ভিত্তিক বিজ্ঞাপনের জগতে গুগল অ্যাডসেন্সের রয়েছে একক আধিপত্য। অন্যভাবে বলতে গেলে, বিষয়টা যখন ওয়েব বিজ্ঞাপনের, তখন সবার প্রথম পছন্দ অ্যাডসেন্স। এই আধিপত্য গুগল এমনিতে পায়নি, অর্জন করে নিয়েছে। নির্ঝঞ্ঝাট অর্থ লেনদেন, সাপোর্ট ফোরাম, বেশিআয়ের সুযোগ এবং এক অ্যাকাউন্ট দিয়ে সবকটি অনুমোদিত ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন প্রকাশবা দেখানোর সুযোগ থাকায় মানুষের ঝোঁক অ্যাডসেন্সের দিকে। কিন্তু অ্যাডসেন্সে অনুমোদন পাওয়া সহজ কথা নয়। বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে তবেই গুগল অ্যাডসেন্স অ্যাকাউন্ট ও ওয়েবসাইট অনুমোদন করে। তা ছাড়া বাংলাদেশসহ দক্ষিণ-এশীয় দেশগুলোতে রয়েছে আরও প্রতিবন্ধকতা। সব মিলিয়ে নতুন ওয়েবসাইটের জন্য অ্যাডসেন্সের অনুমোদন পাওয়া রীতিমতো স্বপ্নে পরিণত হয়েছে।
বর্তমানে নিজস্ব ওয়েবসাইট বা ব্লগসাইটে বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করে অর্থ উপার্জনকে অনেকে মূল পেশা হিসেবে নিচ্ছেন। আবার এটাকে খণ্ডকালীন কাজ হিসেবেও নিচ্ছেন অনেকে। এ ক্ষেত্রে মুখ্য বিষয় হচ্ছে ভিজিটর সংখ্যা, মানে কতজন আপনার ওয়েবসাইট দেখছে। আপনার ওয়েবসাইটে যত বেশি ভিজিটর আসবে, তত আয় বাড়বে। আর ওয়েবসাইট দেখার সংখ্যা বাড়াতে মানুষ বারবার সার্চ ইঞ্জিনে যে বিষয়গুলোর খোঁজ করে, এমন বিষয়ের ওপর তথ্যবহুল ওয়েবসাইট তৈরি করলে বেশি সুবিধা পাবেন।
যাঁরা এখনো ভাবছেন বিষয়ভিত্তিক বা কনটেক্সচুয়াল বিজ্ঞাপন কী, তাঁদের জন্য বলে রাখি, আপনার ব্লগ কিংবা ওয়েবসাইটের কনটেন্ট, অর্থাৎ লেখা ও ছবির বিষয়ের ওপর নির্ভর করে প্রাসঙ্গিক বিজ্ঞাপনই বিষয়ভিত্তিক বিজ্ঞাপন। এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে ওয়েবসাইট ব্যবহারকারী আপনার সাইটের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ বিজ্ঞাপন দেখতে পাচ্ছে। ফলে সেই বিজ্ঞাপনে ক্লিক করার হার বেড়ে যায়, অর্থাৎ বিজ্ঞাপন থেকে আপনার আয় বেড়ে যাবে। বিজ্ঞাপন নেটওয়ার্ক হিসেবে প্রথমে গুগল অ্যাডসেন্সে অনুমোদন পাওয়ার চেষ্টা করবেন। অ্যাডসেন্সে অনুমোদন পেয়ে গেলে তো অবশ্যই ভালো। কিন্তু যদি অনুমোদন না পান তো সে ক্ষেত্রে কি চুপচাপ বসে থাকা ঠিক হবে?
অ্যাডসেন্সের মতো রয়েছে আরও অনেক বিজ্ঞাপন নেটওয়ার্ক, যেগুলোর মাধ্যমে আপনার ওয়েবসাইটের দেখার হারকে কাজে লাগিয়ে পেতে পারেন নিয়মিত অর্থ। তবে বিজ্ঞাপন নেটওয়ার্ক নির্বাচনে কিছু সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। বিশেষ করে খোঁজ নিতে হবে তারা মূলত কী ধরনের বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করে থাকে, তাদের সেবার মূলনীতি কী, টাকা উত্তোলনের মাধ্যম ও উত্তোলনের সর্বনিম্ন পরিমাণ, কোনো ধরনের খরচ আছে কি না, কোন অঞ্চলের ভিজিটরদের জন্য বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করে থাকে ইত্যাদি। এখানে কিছু নির্ভরযোগ্য বিজ্ঞাপন নেটওয়ার্কের খোঁজ দেওয়া হলো। এগুলো ছাড়া আরও নেটওয়ার্ক রয়েছে।
চিতিকাচিতিকা
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসভিত্তিক এই বিজ্ঞাপনী নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠিত হয় ২০০৩ সালে। বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের ক্ষেত্রে তারা মূলত ব্যবহারকারীর ভৌগোলিক অবস্থান ও ওয়েবসাইটের বিষয়বস্তুর ওপর প্রাধান্য দেয়। চিতিকা পেপ্যাল ক্লিকভিত্তিক বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করে। অর্থাৎ ভিজিটর যদি বিজ্ঞাপনে ক্লিক করে, তবেই আপনি টাকা পাবেন। শুধু বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের জন্য কোনো টাকা পাওয়া যায় না। পেপ্যালের মাধ্যমে সর্বনিম্ন ১০ এবং চেকের মাধ্যমে সর্বনিম্ন ৫০ ডলার তোলা যায়। মোবাইল ফোনের জন্য বিজ্ঞাপনসহ চিতিকার রয়েছে বিভিন্ন আকারের এমনকি আপনার পছন্দমতো আকারের বিজ্ঞাপন তৈরির সুযোগ। তবে চিতিকা সম্পর্কে অভিযোগ আছে যে তারা শুধু যুক্তরাষ্ট্রের ভিজিটরদের জন্য টাকা দেয়। ঠিকানা: www.chitika.com
ইয়াহু-বিং নেটওয়ার্কইয়াহু-বিং নেটওয়ার্ক
দুই সার্চ ইঞ্জিন ইয়াহু ও বিংয়ের যৌথ উদ্যোগে মিডিয়া ডট নেটের মাধ্যমে এই বিজ্ঞাপন নেটওয়ার্ক পরিচালিত হয়। ইয়াহু ও বিং যৌথভাবে যেখানে বিজ্ঞাপন সরবরাহ করছে, সেখানে বিজ্ঞাপনের বৈশিষ্ট্য নিয়ে আপনাকে ভাবতে হবে না। ছোট কিংবা বড়, এমনকি অল্প ট্র্যাফিকের যেকোনো সচল ওয়েবসাইট তারা অনুমোদন করে থাকে। বিভিন্ন আকার ও থিম থেকে আপনার প্রয়োজনীয় বিজ্ঞাপন বেছে নিতে পারবেন। সেই সঙ্গে আপনার জন্য একজন ব্যক্তিগত প্রতিনিধির পরিচয় করিয়ে দেওয়া হবে, যেকোনো প্রয়োজনে আপনি তাঁর কাছে সাহায্য পাবেন। পেপ্যাল কিংবা চেকের মাধ্যমে সর্বনিম্ন ১০০ ডলার উত্তোলন করতে পারবেন। ঠিকানা: www.media.net
ট্রাইবাল ফিউশনট্রাইবাল ফিউশন
আপনার ব্লগ বা ওয়েবসাইটে যদি প্রতি মাসে কমপক্ষে পাঁচ লাখ ইউনিক ভিজিটর আসে, তবেই কেবল আপনি ট্রাইবাল ফিউশনে নিবন্ধনের কথা ভাবতে পারেন। তবে এই বিজ্ঞাপনী নেটওয়ার্কটি থেকে আপনি বেশ ভালো পরিমাণ টাকা উপার্জন করতে পারবেন। চেকে বা ব্যাংক ট্রান্সফারে সর্বনিম্ন ১০০ ডলার উত্তোলন করা যায়।
ঠিকানা: www.tribalfusion.com
ম্যাড অ্যাডস মিডিয়াম্যাড অ্যাডস মিডিয়া
এই বিজ্ঞাপনী নেটওয়ার্ক গুগল, ইয়াহু এবং অন্যান্য বড় নেটওয়ার্ক থেকে বিজ্ঞাপন সংগ্রহ করে প্রদর্শন করে। অনেকটা সহজেই অনুমোদন পাওয়া যায় আর তা ছাড়া ক্লিকের পাশাপাশি বিজ্ঞাপন দেখা, অর্থাৎ ইম্প্রেশনের জন্যও আপনার অ্যাকাউন্টে অর্থ জমা হতে থাকবে। ঠিকানা: www.madadsmedia.com
ক্লিকসরক্লিকসর
অনুমোদন পাওয়ার কোনো ঝামেলা নেই। যেকোনো সচল ওয়েবসাইটেই আপনি ক্লিকসর বিজ্ঞাপন দিতে পারেন। তবে বিজ্ঞাপনের ধরন নির্বাচনে সতর্ক থাকতে হবে। কারণ, ব্যানার ও লেখার বিজ্ঞাপন ছাড়া অন্যান্য বিজ্ঞাপনে আপনার ভিজিটরকে ঝামেলা পোহাতে হতে পারে। পেপ্যাল অথবা চেকের মাধ্যমে সর্বনিম্ন ৫০ ডলার উত্তোলন করা যাবে।
ঠিকানা: www.clicksor.com
ইনফোলিংকসইনফোলিংকস
ইন-টেক্সট বিজ্ঞাপন। অর্থাৎ আপনার ওয়েবসাইটের কিওয়ার্ডের ওপর ভিত্তি করে লিংক আকারে বিজ্ঞাপন থাকবে। কোনো ভিজিটর যদি সেই লিংকে ক্লিক করে, তবে ওয়েব পাবলিশারের অ্যাকাউন্টে অর্থ জমা হবে। ২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিজ্ঞাপনী নেটওয়ার্কটি বর্তমানে ইন-টেক্সট বিজ্ঞাপনের পাশাপাশি ইন-সার্চ, ইন-ফ্রেম ও ইন-ট্যাগ বিজ্ঞাপনী সেবা দিচ্ছে। ঠিকানা: www.infolinks.com
বাংলা ওয়েবসাইটের জন্য
অ্যাডসেন্সসহ অন্যান্য বিজ্ঞাপন নেটওয়ার্ক সাধারণত বাংলায় তৈরি ওয়েবসাইটের জন্য বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করে না কারণ বাংলা ভাষায় লেখা নিবন্ধের কিওয়ার্ড নির্বাচন করতে তারা পারে না।
এ ছাড়া আপনি সরাসরি সংশ্লিষ্ট কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করে আপনার ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের আবেদন জানাতে পারেন। প্রথমে ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপনের জন্য স্থান নির্ধারণ করে আপনার ওয়েবসাইটের বিষয়বস্তু, দৈনিক অথবা মাসিক ইউনিক ভিজিটর, সর্বমোট পেজভিউ এবং কোন দেশ থেকে বেশি ভিজিট হচ্ছে, এসব পরিসংখ্যান সরাসরি অথবা ই-মেইলে পাঠিয়ে দিন।

Saturday, March 31, 2012

ডেসটিনি অবৈধ ব্যাংকিং করছে


বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন প্রতিবেদন

ডেসটিনি অবৈধ ব্যাংকিং করছে

ফখরুল ইসলাম | তারিখ: ৩০-০৩-২০১২

ডেসটিনি গ্রুপের অন্যতম সহযোগী প্রতিষ্ঠান ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি অবৈধ ব্যাংকিংয়ের সঙ্গে যুক্ত। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়া তারা একদিকে যেমন আমানত সংগ্রহ করছে, অন্যদিকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত না হয়েও শেয়ার বিক্রি করছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক ডেসটিনি গ্রুপের এই প্রতিষ্ঠানের ওপর পরিচালিত বিশেষ পরিদর্শন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সমবায় অধিদপ্তর থেকে নিবন্ধন নেওয়া এই প্রতিষ্ঠান জনগণের কাছ থেকে মাসে ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকা তুলে নিচ্ছে। ৪০ লাখ প্রতিনিধির মাধ্যমে ব্যাংকের মতো রীতিমতো আমানত সংগ্রহ করছে তারা। অন্যদিকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত না হয়েও বিক্রি করছে এর শেয়ার। তথাকথিত শেয়ার বিক্রি করেই প্রতিষ্ঠানটি হাতিয়ে নিয়েছে এক হাজার ৪০০ কোটি টাকা।
ব্যাংকিং খাতে বর্তমানে যে তারল্য-সংকট রয়েছে, এর জন্য ডেসটিনির মতো মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটিগুলোর যোগসূত্র থাকতে পারে বলেও বাংলাদেশ ব্যাংকের ওই প্রতিবেদনে আশঙ্কা করা হয়েছে। এতে আরও বলা হয়েছে, ব্যাংক বা পুঁজিবাজার থেকে মূলধন সংগ্রহ না করে সরাসরি জনগণের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করায় ব্যাংক ব্যবসা ও মূলধন বাজার ক্রমশ সংকুচিত হয়ে পড়তে পারে।
সরকারি, আধা সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বহুসংখ্যক কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির যোগসূত্র থাকায় অনেক সাধারণ মানুষ এর প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এই প্রতিবেদন গত রোববার অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভের সভাপতি হলেন ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রফিকুল আমীন। এ ছাড়া উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) মোহাম্মদ গোফরানুল হক, পরিচালক (অর্থ) মোহাম্মদ সাইদ-উর রহমান, পরিচালক (ক্রয়) মেজবাহ উদ্দীন, মোহাম্মদ হোসাইন প্রমুখ। এ ছাড়া ব্যবস্থাপনা ও উপদেষ্টা পর্ষদে তাঁদের আত্মীয়স্বজন রয়েছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিনব মাল্টি লেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) পদ্ধতি অবলম্বন করছে। বিনিময়ে আমানত সংগ্রহকারীদের কমিশন দেওয়া হচ্ছে, যা অবৈধ ও অনৈতিক। প্রতিষ্ঠানটির অস্তিত্ব ভবিষ্যতে হুমকির মুখে পড়তে পারে এবং প্রতারিত হতে পারে জনগণ।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, ২০০৮-০৯ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটি গবেষণা ও উন্নয়ন খাতে কোনো ব্যয় না করলেও ২০০৯-১০ অর্থবছরে ১৯৩ কোটি ২৭ লাখ টাকা এবং ২০১০-১১ অর্থবছরে ব্যয় দেখিয়েছে ৬৫৬ কোটি ৩২ লাখ টাকা। অথচ এর কোনো গবেষণাগার ও প্রশিক্ষণকেন্দ্র নেই।
অবৈধ ব্যাংকিং: প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিদ্যমান ২০০১ সালের সমবায় সমিতি আইনের অজুহাতে বাণিজ্যিক ব্যাংকের মতো আমানত সংগ্রহ করছে প্রতিষ্ঠানটি। ২০১১ সাল পর্যন্ত সংগ্রহ করেছে দুই হাজার কোটি টাকা। সমিতির শেয়ারহোল্ডারদের দায়দায়িত্ব তাদের পরিশোধিত মূলধনের মাধ্যমে সীমাবদ্ধ নয়। তবে কখনো যদি অবসায়ন ঘটাতে হয়, তখন পরিসম্পদে ঘাটতি থাকলে সদস্যরা নিজ নিজ শেয়ার অনুপাতে দায়ী থাকবেন। প্রতিষ্ঠানের লাখ লাখ শেয়ারহোল্ডার এ সম্পর্কে অবগত নন। প্রতিষ্ঠানটি শেয়ার মূলধন ও শেয়ারহোল্ডারের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়িয়ে অত্যন্ত সুচতুরভাবে এর দায়দেনার সঙ্গে লাখ লাখ মানুষকে সম্পৃক্ত করছে, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
বেআইনি শেয়ার বিক্রি: ডেসটিনির সদস্য হলেই ‘ডিস্ট্রিবিউটরস আইডেন্টিফিকেশন নম্বর’ (ডিআইএন) ও ‘কাস্টমারস আইডেন্টিফিকেশন’ (সিআইডি) দেওয়া হয়। বর্তমানে সিআইডি নম্বরধারীর সংখ্যা ৬৮ থেকে ৭০ লাখ এবং ডিআইএন নম্বরধারী ৪০ থেকে ৪৫ লাখ। ডিআইএন নম্বরধারীরাই ডেসটিনি মাল্টিপারপাসের সদস্য।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ৪০টি শেয়ারের একটি লট ২০ হাজার টাকা করে বিক্রি করছে এই ডিআইএনরা। শেয়ার বিক্রি করতে পারলে ৫০০ পয়েন্ট ভ্যালু (পিভি) অর্জন করা যায়। আশ্চর্যজনক যে, পরিবেশক করা হয় ডেসটিনি গ্রুপের মূল প্রতিষ্ঠান ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেডের। আবার এই পরিবেশক হওয়াই ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটির সদস্য হওয়ার পূর্বশর্ত। আবার এক লাখ টাকার মেয়াদি প্রকল্পে বিনিয়োগ করেও কোনো ব্যক্তি সদস্য হতে পারেন।
প্রলুব্ধ করে তহবিল বৃদ্ধি: পাঁচ বছর আগেও প্রতিষ্ঠানটির পরিশোধিত মূলধন ৫০ কোটি টাকা ছিল। বর্তমানে তা তিন হাজার কোটি টাকা, যা অস্বাভাবিক হারে বাড়ানো হয়েছে।
প্রতিবেদনমতে, প্রতিষ্ঠানটি ব্যাংকের মতো চলতি, স্থায়ী, সাড়ে পাঁচ বছরে দ্বিগুণ, মাসিক মুনাফা, শেয়ার মূলধন ইত্যাদি প্রকল্পের মাধ্যমে সদস্য সংগ্রহ করছে। এর জন্য প্রশিক্ষিত মাঠকর্মী তথা কমিশন এজেন্টদের ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে শহরের আনাচে-কানাচে ও প্রত্যন্ত গ্রামে।
এক হাজার ৪০০ কোটি টাকার শেয়ার সংগ্রহও আমানতেরই নামান্তর। ২০০৬-০৭ সালে ৭১ লাখ, ২০০৭-০৮ সালে সাত কোটি দুই লাখ, ২০০৮-০৯ সালে ১৭ কোটি ৫৬ লাখ, ২০০৯-১০ সালে ২২২ কোটি ১৮ লাখ এবং ২০১০-১১ সালে প্রতিষ্ঠানটি ৫২২ কোটি ৭৪ লাখ টাকা আমানত সংগ্রহ করেছে। এর মধ্যে বর্তমানে ৯৪ শতাংশ আমানতই দীর্ঘমেয়াদি আমানত।
আমানতের বিপরীতে সুদ দেওয়া হয় সর্বোচ্চ ১৬ শতাংশ। সমবায় আইন অনুযায়ী আয়ের টাকা যেহেতু করমুক্ত, তাই সুদের এত উচ্চহার অস্বাভাবিক। আমানত পরিশোধের দায়বদ্ধতা থাকলেও প্রতিষ্ঠানটি অতিরিক্ত শেয়ার ক্রয়ে জনগণকে প্রলুব্ধ করে তহবিল বাড়াচ্ছে।
অস্বচ্ছ হিসাব পদ্ধতি: প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোনো চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নিরীক্ষার বাধ্যবাধকতা না থাকায় যেকোনো মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভের মতো ডেসটিনিরও অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা করেছে সমবায় অধিদপ্তর। এতেও অনেক ত্রুটি ধরা পড়েছে। ২০০৯-১০ অর্থবছরের শাখাওয়ারি সঞ্চয় সংগ্রহ, শেয়ার মূলধন, আয়-ব্যয়ের কোনো হিসাবই নেই। ওই বছর অনুমোদনবিহীন ব্যয় হয়েছে ২১২ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। সঞ্চয় ও শেয়ার মূলধন আহরণে কমিশন বাবদ ব্যয় হওয়া ২০০ কোটি টাকাকে গবেষণা ও উন্নয়ন ব্যয় দেখানো হয়েছে, যা হিসাবশাস্ত্রের রীতিনীতির পরিপন্থী।
স্থিতিপত্রে প্রাপ্তি ও প্রদানে কোনো মিল নেই এবং প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত চিত্র এতে প্রতিফলিত হয় না। প্রতিষ্ঠানটি জনগণের কাছ থেকে যে পরিমাণ সঞ্চয় ও শেয়ার মূলধন সংগ্রহ করেছে বলে নিরীক্ষা দলকে জানিয়েছে, তা-ও সঠিক নয়। বরং প্রকৃত সংগ্রহের পরিমাণ অনেক বেশি।
নিজেদের প্রতিষ্ঠানে টাকা সরানো: প্রতিবেদনমতে, ডেসটিনি মাল্টিপারপাসের নামে জনগণের কাছ থেকে সংগৃহীত অর্থে মূলত জমি কেনা হচ্ছে। তবে জমির দলিল কার নামে হচ্ছে, তা স্পষ্ট নয়। আরও অর্থ নেওয়া হচ্ছে ডেসটিনি গ্রুপের ডেসটিনি ২০০০, ডেসটিনি ডায়মন্ড সিটিসহ ১৩টি সহযোগী প্রতিষ্ঠানে। প্রতিষ্ঠানটি এখন মুনাফা অর্জন করছে মনে হলেও গবেষণা ও উন্নয়ন খাতের কমিশন সমন্বয় করলে এর নিট ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় ১৪৪ কোটি টাকা। সে হিসাবে সমবায় সমিতির বিধিমালা অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটিতে তারল্য ঘাটতি রয়েছে। তারল্য-সংকটের কারণে যেকোনো সময় আমানতের টাকা ফেরতে বিঘ্ন সৃষ্টি হতে পারে। আমানতকারীদের মধ্যেও দেখা দিতে পারে আস্থাহীনতার মনোভাব।
সচিবের কাছে চিঠি: প্রতিবেদন পাঠানোর পাশাপাশি অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব শফিকুর রহমান পাটোয়ারীর কাছে একটি চিঠিও পাঠিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। চিঠিতে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়; স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করে তদন্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করে, ডেসটিনির বর্তমান প্রতারণামূলক ও অভিনব এমএলএম কার্যক্রম, উচ্চ হারে ও অযৌক্তিকভাবে মূলধন বৃদ্ধি এবং সংগ্রহীত আমানত ও মূলধন সুকৌশলে অন্যান্য কোম্পানিতে সরিয়ে নেওয়া ইত্যাদি অনিয়মের বিষয় আইনি কাঠামোর মধ্যে এনে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা প্রয়োজন। বিস্তারিত তদন্ত করে ডেসটিনির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতেও সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
যোগাযোগ করলে সচিব শফিকুর রহমান পাটোয়ারী প্রথম আলোকে বলেন, ডেসটিনির মতো আরও প্রতিষ্ঠান একই ধরনের কার্যক্রমে লিপ্ত। বিষয়টির সত্যিই একটি বিহিত করা দরকার।
বক্তব্য নেওয়ার জন্য যোগাযোগ করলে ডেসটিনির গণমাধ্যম উপদেষ্টা মাহমুদ আল ফয়সাল প্রথম আলোকে বলেন, ডেসটিনির এমডি রফিকুল আমীন এই মুহূর্তে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন এবং দেশে ফিরেই তিনি কথা বলবেন। প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বক্তব্য চাওয়া হলে তিনি বলেন, সবকিছুই এমডি। তিনি ছাড়া কারও পক্ষে কথা বলা সম্ভব নয়।

Saturday, March 17, 2012

শচীনের শততম সেঞ্চুরি, ভারত ২৮৯

বাংলাদেশের বিপক্ষেই ক্যারিয়ারের শততম সেঞ্চুরিটা তুলে নিলেন শচীন টেন্ডুলকার। ঘুচালেন দীর্ঘ এক বছরেরও বেশি সময়ের সেঞ্চুরি- খরা। অবসান ঘটালেন ভক্তদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার। মিরপুরে এশিয়া কাপের চতুর্থ ম্যাচে শচীনের সেঞ্চুরির উপর ভর করে বড় সংগ্রহ দাড় করিয়েছে ভারত। নির্ধারিত ৫০ ওভার শেষে ৫ উইকেট হারিয়ে স্কোরবোর্ডে ২৮৯ রান জমা করেছে বিশ্বকাপজয়ীরা।
মাশরাফি বিন মুর্তজার শিকারে পরিণত হওয়ার আগে শচীন করেন ১১৪ রান। ১৪৭ বলে লিটল মাস্টারের এই ইনিংসে ছিল একটি ছয় ও ১২টি চারের মার।
দ্বিতীয় উইকেটে শচীনের সঙ্গে ১৪৮ রানের জুটি গড়ে সাজঘরে ফেরেন বিরাট কোহলি (৬৬)। সুরেশ রায়না আউট হন ৫১ রানে। দিবা-রাত্রির এই ম্যাচে টস জিতে ফিল্ডিং করার নেন বাংলাদেশের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম।
শক্তিমত্তার বিচারে আজকের ম্যাচে ভারতীয় দল এগিয়ে, বলার অবকাশ রাখে না। চলতি আসরেও এগিয়ে ভারত। প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী ম্যাচে পাকিস্তানের কাছে ২১ রানে হেরেছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। অন্যদিকে, নিজেদের প্রথম ম্যাচে হেসে-খেলে শ্রীলঙ্কাকে ৫০ রানে হারায় ভারত।

বাংলাদেশের অসাধারণ জয়

শচীন টেন্ডুলকারের দীর্ঘ প্রতীক্ষার শততম সেঞ্চুরিটি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর হাত ধরে রেকর্ড-বুকে জায়গা করে নিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু টেন্ডুলকারের ইতিহাস-গড়া এ দিনটিতে শুধু নিষ্ক্রিয়ভাবেই থাকতে চাননি স্বাগতিকেরা। এশিয়া কাপের চতুর্থ ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে ৫ উইকেটের অসাধারণ এক জয় দিয়ে ম্যাচটা দীর্ঘদিন মনে রাখার মতো একটা ম্যাচে পরিণত করেছে সাকিব-তামিম-মুশফিক-মাশরাফিরা। তামিম, জহুরুল, নাসির, সাকিব, মুশফিকের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে মাত্র ৫ উইকেট হারিয়ে ৪ বল হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় টাইগাররা।
ভারতের বিপক্ষে ২৯০ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালোভাবে করতে পারেনি বাংলাদেশ। পঞ্চম ওভারেই প্রাভিন কুমারের শিকারে পরিণত হয়ে সাজঘরে ফিরেছেন ওপেনার নাজিমুদ্দিন। তবে দ্বিতীয় উইকেটে ১১৩ রানের জুটি গড়ে প্রাথমিক বিপর্যয় সামলে বেশ ভালোই লড়াই চালিয়েছিলেন আরেক ওপেনার তামিম ইকবাল ও জহুরুল ইসলাম। কিন্তু দলীয় ১২৮ রানের মাথায় রবীন্দ্র জাদেজার শিকারে পরিণত হয়ে সাজঘরে ফিরেছেন জহুরুল। তবে তার আগে তিনি দেখা পেয়েছেন ক্যারিয়ারের প্রথম অর্ধশতকের। আউট হয়েছেন ৫৩ রান করে। তারপর খুব বেশিক্ষণ উইকেটে থাকতে পারেননি তামিমও। তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে ৭০ রানের লড়াকু ইনিংস। চতুর্থ উইকেটে ৬৮ রানের জুটি গড়ে জয়ের পথে বাংলাদেশকে আরও কিছুটা এগিয়ে দেন সাকিব ও নাসির। কিন্তু ব্যক্তিগত ৪৯ রানের মাথায় থার্ড আম্পায়ারের কিছুটা বিতর্কিত সিদ্ধান্তের বলি হয়ে সাজঘরে ফিরেছেন সাকিব। তবে তাতেও জয় পেতে সমস্যা হয়নি বাংলাদেশের। শেষ পর্যায়ে ঝোড়ো ব্যাটিং করে জয় নিশ্চিত করেছেন অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম ও নাসির হোসেন। জয়ের জন্য যখন আর মাত্র ২ রান দরকার তখন ৬ মেরে জয় পাওয়ার তাড়নায় প্রাভিন কুমারকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে আউট হন নাসির (৫৪)। মুশফিকুর শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন ২৫ বলে ৪৬ রানের ইনিংস খেলে।